![]()
বিশ্বের পোশাক খাতের বড় বড় রপ্তানকারক ও উৎপাদনকারী দেশগুলোতে শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে আলোচনা নতুন কিছু নয়। সম্প্রতি এশিয়ার প্রধান আটটি দেশের পোশাক শ্রমিকদের মাসিক আয়, বাসা ভাড়া, খাওয়ার খরচ এবং সম্ভাব্য সঞ্চয়ের একটি তুলনামূলক চিত্রে বড় ধরনের বৈষম্য ফুটে উঠেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় আয় ও ব্যয় উভয়ই সবচেয়ে বেশি: এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরিতে সবার শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটিতে একজন পোশাক শ্রমিকের সর্বনিম্ন মাসিক আয় ১,৮৭,৯৪২ টাকা (১৫১২ মার্কিন ডলার)। তবে এর বিপরীতে সেখানে থাকা-খাওয়ার খরচও বেশ চড়া; বাসা ভাড়া বাবদ প্রায় ৮৪,০০০–৬০,০০০ টাকা এবং খাওয়া ও অন্যান্য খরচ বাবদ ৭৫,০০০–৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়। এত খরচের পরেও দক্ষিণ কোরিয়ায় শ্রমিকদের বেশ ভালো অংকের সঞ্চয় বা অর্থ জমানোর সুযোগ থাকে।
অন্যান্য দেশের চিত্র:
-
চীন: দেশটিতে সর্বনিম্ন মজুরি ৩১,০৭৫ টাকা ($২৫০), যেখান থেকে বাসা ভাড়া ও খাওয়া খরচ মিটিয়ে কিছু পরিমাণ টাকা সঞ্চয় করা সম্ভব হয়।
-
কম্বোডিয়া: এখানে শ্রমিকদের মজুরি ২৫,৩৫৫ টাকা ($২০৮), এবং খরচ সামলে সামান্য কিছু টাকা হাতে রাখা যায়।
-
শ্রীলঙ্কা ও ভারত: শ্রীলঙ্কায় মজুরি ১৭,১৯১ টাকা এবং ভারতে ১৭,০৫৫ টাকা। তবে এই আয়ে বাসা ভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে গিয়ে শ্রমিকদের বেশ হিমশিম খেতে হয়।
-
ভিয়েতনাম ও পাকিস্তান: ভিয়েতনামে সর্বনিম্ন মজুরি ১৬,৯০0 টাকা এবং পাকিস্তানে ১৫,২১০ টাকা। এই দেশগুলোতেও জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে গিয়ে শ্রমিকদের প্রতিনিয়ত আর্থিক লড়াই করতে হয়।
বাংলাদেশ: তালিকার একদম শেষে এবং সঞ্চয়হীন জীবন: অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি, এই তালিকার একদম শেষে রয়েছে বাংলাদেশ। এ দেশের পোশাক শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি মাত্র ১২,৫০০ টাকা ($১০১)। রাজধানী ঢাকা, গাজীপুর বা নারায়ণগঞ্জের মতো বড় শিল্প শহরগুলোতে একটি মেসের সিট বা ছোট্ট রুমের ভাড়াই ৩,০০০ থেকে ৮,০০০ টাকা চলে যায়। এরপর প্রতিদিনের খাবার ও অন্যান্য খরচ মেটাতে গিয়ে পুরো ১২,৫০০ টাকাই শেষ হয়ে যায়। ফলে এ দেশের শ্রমিকদের জন্য কোনো ধরনের সঞ্চয় করা তো দূরের কথা, কোনো রকমে বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে ব্যয় বেশি হলেও শ্রমিকরা শেষ পর্যন্ত কিছু জমাতে পারেন, কিন্তু নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে (বিশেষ করে বাংলাদেশে) শ্রমিকদের যে আয়, তা দিয়ে কেবল ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
