![]()
ভারত থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কোনো ধরনের পাসপোর্টের প্রয়োজন হবে না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতাতেই তাকে দিল্লি থেকে ফিরিয়ে আনা হবে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীনা প্রতিনিধিদলকে বিদায় জানানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
- 🛂 পাসপোর্টের প্রয়োজন নেই: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনাকে ফেরাতে সাধারণ পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাসের কোনো প্রয়োজন হবে না।
- ⚖️ বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি: দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
- 🌐 ত্রিপক্ষীয় করিডোর: বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার করিডোর নিয়ে কোনো ভূ-রাজনৈতিক শঙ্কা দেখছে না ঢাকা, তবে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান জরুরি।
- 🤝 চীনা প্রতিনিধিদল বিদায়: সিপিসির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের সফর দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।
বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরানোর প্রক্রিয়া
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলকে বিদায় জানানোর পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এ সময় শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, যেহেতু তিনি একজন দণ্ডিত আসামি, তাই তাকে ফিরিয়ে আনতে সাধারণ ট্রাভেল পাস বা পাসপোর্টের কোনো প্রশ্ন আসে না। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আইনি বিধান অনুযায়ীই তাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনতে হবে। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের ফলে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে দেশে আনার পথ আরও স্পষ্ট হলো।
ত্রিপক্ষীয় করিডোর ও চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক
বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার ত্রিমুখী বাণিজ্যিক করিডোর প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই করিডোর নিয়ে সরকারের কোনো ধরনের ভূ-রাজনৈতিক শঙ্কা নেই। এটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে সমগ্র অঞ্চলটি একটি শক্তিশালী বাণিজ্যিক হাব বা কেন্দ্রে রূপ নেবে। এই আঞ্চলিক বাণিজ্যিক উদ্যোগে যুক্ত হতে ঢাকার পূর্ণ আগ্রহ রয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এর আগে অবশ্যই রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া চীনা মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের এই সফরের মাধ্যমে বেইজিং ও ঢাকার মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গতিশীল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য তথ্যসংক্ষেপ
| বিষয় / ক্ষেত্র | বিবরণ ও মূল তথ্য |
|---|---|
| বক্তব্য প্রদানকারী | হুমায়ুন কবির (পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী) |
| শেখ হাসিনাকে ফেরানোর মাধ্যম | বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি (পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাসের প্রয়োজন নেই) |
| ত্রিপক্ষীয় করিডোর অবস্থান | বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ার সম্ভাবনা, তবে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান জরুরি |
| অনুষ্ঠানের স্থান | হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (৫ নভেম্বর ২০২৬) |
