![]()
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগের পেছনে একাধিক কারণের কথা জানিয়েছেন দলটির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। তাঁর অভিযোগ, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট গঠন, দলের অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নারীদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব না থাকায় তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে দৈনিক যুগান্তরকে দেওয়া বক্তব্যে পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করেন সামান্তা শারমিন।
তিনি বলেন, জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক ঐক্যে যাওয়ার মধ্য দিয়ে এনসিপি নিজেদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় ও আদর্শিক অবস্থান হারাচ্ছে। তাঁর মতে, এভাবে চলতে থাকলে দলটি ধীরে ধীরে জামায়াতের রাজনৈতিক বলয়ের মধ্যে হারিয়ে যাবে। এমন পরিস্থিতিতে এনসিপিতে থাকা সম্ভব নয় বলেই দীর্ঘ চিন্তাভাবনার পর তিনি পদত্যাগ করেছেন।
জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা থেকে সরে যাওয়ার অভিযোগ
সামান্তা শারমিনের অভিযোগ, জামায়াতের সঙ্গে ঐক্যের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে এনসিপি জুলাই আন্দোলনের গণ-আকাঙ্ক্ষা ও নিজস্ব আদর্শিক ভিত্তি থেকে সরে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়নি। বরং দলের ভেতরে বৈষম্য তৈরি হয়েছে।
নির্বাচনে এককভাবে লড়লে বেশি আসন পেত এনসিপি
জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠন নিয়ে সমালোচনা করে সামান্তা বলেন, এনসিপি এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে আরও বেশি আসন পেতে পারত। তাঁর দাবি, এই রাজনৈতিক ঐক্যের মাধ্যমে জামায়াত লাভবান হয়েছে এবং এনসিপিকে ব্যবহার করেছে।
তিনি মনে করেন, এনসিপি জোটে না গেলে জামায়াতের আসনসংখ্যা আরও কম হতে পারত।
নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ার পরিকল্পনা
এনসিপি ছাড়ার পর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেছেন সামান্তা শারমিন। তিনি জানান, প্রচলিত রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে গিয়ে একটি নতুন প্রগতিশীল রাজনৈতিক ধারা গড়ে তুলতে চান।
তাঁর ভাষ্য, তরুণদের নেতৃত্বে মানুষ এমন একটি রাজনৈতিক শক্তির প্রত্যাশা করেছিল, যারা পুরোনো ক্ষমতাকাঠামোর পুনরাবৃত্তি না করে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দেবে।
এ লক্ষ্য নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন বলেও জানান তিনি। তবে নতুন কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করতে চান।
সামান্তা বলেন, পুরোনো রাজনৈতিক ধারার বিভাজন পেরিয়ে প্রগতিশীল, মুক্তিকামী ও দেশপ্রেমিক মানুষকে সঙ্গে নিয়ে নতুন একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলাই তাঁর লক্ষ্য।
এনসিপি থেকে আগে পদত্যাগ করা কয়েকজন শীর্ষ নেতার কাছ থেকেও তিনি শুভেচ্ছা ও সমর্থন পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে তাঁদের নিয়েও কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
