![]()
আদিবাসী ভাষা সুরক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: এলএমইউ-তে ঐতিহাসিক জাতীয় কর্মশালার আয়োজন
আদিবাসী ও বিপন্ন ভাষাগুলোকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং কম্পিউটেশনাল লিঙ্গুইস্টিকসের মাধ্যমে সংরক্ষণ ও পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে লয়োলা মেরিমাউন্ট ইউনিভার্সিটি (LMU)-এর কম্পিউটার সায়েন্সের সহকারী অধ্যাপক জ্যারেড কোলম্যান এক অনন্য উদ্যোগ নিয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার ওয়েন্স ভ্যালি-র ‘বিগ পিন পাইউট’ উপজাতির সদস্য কোলম্যান নিজের সম্প্রদায়ের ভাষা রক্ষার্থে এই গবেষণায় যুক্ত হন। কম্পিউটেশনাল টুলস এবং ভাষাবিজ্ঞানের মেলবন্ধনে কীভাবে দায়িত্বশীলভাবে এআই ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে গত জুন ২০২৬-এ এলএমইউ ক্যাম্পাসে “এআই অ্যান্ড ইন্ডিজেনাস ল্যাঙ্গুয়েজ রিভাইটালাইজেশন” শীর্ষক একটি ত্রি-দিনব্যাপী জাতীয় কর্মশালার আয়োজন করেন তিনি।
এনএসএফ অনুদান ও বহুমুখী অংশীদারিত্ব
এই কর্মশালাটি সফল করতে ২০২৫ সালের শরতে ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন (NSF) থেকে কোলম্যানকে ৫০,০০০ মার্কিন ডলারের একটি অনুদান দেওয়া হয়েছিল। তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৬০ জনেরও বেশি আমন্ত্রিত অতিথি অংশ নেন। এর মধ্যে ছিলেন আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, কম্পিউটার বিজ্ঞানী, এআই বিশেষজ্ঞ, ভাষাবিদ, আর্কাইভিস্ট, শিক্ষক এবং বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কর্মীবৃন্দ। সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল অ্যাডভান্সড ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং (NLP) এবং কমিউনিটি-চালিত ডেটা স্টুয়ার্ডশিপের সমন্বয়ে অনুবাদ টুল, স্পিচ রিকগনিশন সফটওয়্যার এবং আকর্ষণীয় লার্নিং প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা।
তথ্য শোষণ বনাম যৌথ নেতৃত্ব
কোলম্যানের মতে, সনাতন ভাষা ডকুমেন্টেশনের ক্ষেত্রটি এখন অনেকখানি কমিউনিটি-চালিত হলেও, এআই ক্ষেত্রটি এখনও অনেকাংশে ‘এক্সট্র্যাক্টিভ’ বা তথ্য শোষণের পর্যায়ে রয়ে গেছে। প্যানেল আলোচনায় ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া সান মার্কোসের সহকারী অধ্যাপক কিয়ানা মেইলেট (যিনি লোন পিন পাইউট-শশোন উপজাতির সদস্য) এক গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, বাইরের মানুষ ও সংস্থাগুলো প্রায়শই আদিবাসী সম্প্রদায়ের জ্ঞান ও সম্পদ নিয়ে নিজেরা লাভবান হয়, কারণ তাদের পর্যাপ্ত রিসোর্স রয়েছে। তাদের উচিত আমাদের প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ এবং সহায়তা প্রদান করা, যাতে আমরা নিজেরাই এই কাজের নেতৃত্ব দিতে পারি।
ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা
কোলম্যান বর্তমানে এই কর্মশালার অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে একটি উদাহরণ-ভিত্তিক জীবন্ত নির্দেশিকা (Living Document) তৈরিতে কাজ করছেন, যা গবেষক ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়িত্বশীল এআই অনুশীলনে সাহায্য করবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে, টেকসই সহযোগিতা বজায় রাখতে স্যান ডিয়েগো সুপারকম্পিউটার সেন্টারের (SDSC) কোর ইনস্টিটিউট ফেলোশিপের সাথে অংশীদারিত্বে একটি আন্তঃডিসিপ্লিনারি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করার পরিকল্পনাও চলছে।
