![]()
নিউজ প্রোভাইডার
ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে এক অন্যরকম উন্মাদনা আর বাঁধভাঙা আবেগ। প্রিয় দলের আকাশচুম্বী পতাকা, রঙ-বেরঙের সাজসজ্জা আর মাঝরাতে দলবেঁধে খেলা দেখার চিরচেনা দৃশ্য যেন এ দেশের মানুষের সংস্কৃতিরই একটি অংশ। ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা না খেললেও, এ দেশের আপামর জনতার এই অবিশ্বাস্য ফুটবলপ্রেমকে এবার অনন্য এক স্বীকৃতি দিয়ে প্রশংসায় ভাসিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা—ফিফা (FIFA)।
‘বাংলাদেশ বিশ্বকাপে বাঁচে’
সম্প্রতি ফিফা তাদের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশের ফুটবল উন্মাদনার বেশ কিছু নান্দনিক ছবি প্রকাশ করেছে। ছবিগুলোর ক্যাপশনে ফিফা লিখেছে, ‘বাংলাদেশ বিশ্বকাপ দেখে না, বাংলাদেশ বিশ্বকাপে বাঁচে।’ কয়েকটি নজরকাড়া ছবির মাধ্যমে তারা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছে যে, কীভাবে একটি দেশ ফুটবলকে নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবেসে রাঙিয়ে তুলতে পারে।
আকাশচুম্বী পতাকা ও দেওয়াল আলপনা
বিশ্বকাপের আসর বসলেই গোটা বাংলাদেশ যেন এক জাদুকরী রূপ নেয়। বাড়ির ছাদে মাইলের পর মাইল প্রিয় দলের পতাকা ওড়ানো, দেয়ালে দেয়ালে পছন্দের ফুটবল তারকাদের বিশালাকার আলপনা আঁকা কিংবা মোড়ে মোড়ে বড় পর্দায় প্রজেক্টরের মাধ্যমে খেলা দেখার আয়োজন—সবমিলিয়ে চারদিকে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার বিশাল সমর্থকগোষ্ঠী থাকলেও, সময়ের সাথে সাথে এখানে পর্তুগাল, জার্মানি, স্পেন ও ফ্রান্সের মতো দলগুলোরও ভক্তসংখ্যা জ্যামিতিক হারে বেড়েছে।
বিশ্বমঞ্চে অনন্য স্বীকৃতি
ফুটবল বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে না পারলেও, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের এই নিখাদ ভালোবাসা ও পাগলামি আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে বারবার নজর কেড়েছে। ফিফার এই সাম্প্রতিক পোস্টটি আবারও প্রমাণ করল যে, বিশ্বকাপকে ঘিরে বাঙালির এই উচ্ছ্বাস কেবল টিভি পর্দার সামনে বসে খেলা দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি এ দেশের মাটি ও মানুষের এক অনন্য আত্মিক প্রকাশ।
