![]()
স্পোর্টস ডেস্ক: টেক্সাসের হিউস্টন স্টেডিয়ামে রূপকথার গল্প লিখলো মরক্কো। তীব্র উত্তেজনা আর শারীরিক শক্তিনির্ভর ফুটবল ম্যাচে কানাডাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে মরক্কোর অ্যাটলাস লায়ন্সরা। প্রথমার্ধে লড়াই জমিয়ে রাখলেও দ্বিতীয়ার্ধে মরক্কোর আক্রমণভাগের গতির সামনে পাত্তাই পায়নি কানাডিয়ান রক্ষণভাগ।
প্রথমার্ধে কার্ডের ছড়াছড়ি ও গোলশূন্য লড়াই
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে। বিশেষ করে ম্যাচের প্রথমার্ধে কানাডা মরক্কোর ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে। প্রথমার্ধে মরক্কোর মাত্র ১টি শটের বিপরীতে ৪টি শট নিয়ে আধিপত্য দেখায় কানাডিয়ানরা। তবে গোলমুখে ফিনিশিংয়ের অভাবে তারা জালের দেখা পায়নি।
উত্তেজনাপূর্ণ এই প্রথমার্ধে গোলের চেয়ে ফাউল আর কার্ডের ছড়াইছড়িই ছিল বেশি চোখে পড়ার মতো। ম্যাচ পরিচালনাকারী ইংলিশ রেফারি মাইকেল অলিভারকে প্রথমার্ধের ৪৫ মিনিট শেষ হওয়ার আগেই অনাকাঙ্ক্ষিত ফাউলের কারণে ৬ বার হলুদ কার্ড পকেট থেকে বের করতে হয়। ফলে গোলশূন্যভাবেই শেষ হয় প্রথমার্ধের লড়াই।
দ্বিতীয়ার্ধে ওনাহির ম্যাজিক ও মরক্কোর আধিপত্য
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে যায়। প্রথম অর্ধের চাপ কাটিয়ে উঠে নিজেদের চেনা ছন্দে ফেরে মরক্কো। ম্যাচের ৪৯তম মিনিটে (অফিসিয়াল সময় ৫০’) ফ্রি-কিক থেকে এক দুর্দান্ত ও চোখ ধাঁধানো বাঁকানো শটে গোল করে ডেডলক ভাঙেন মরক্কোর তারকা মিডফিল্ডার আজদিন ওনাহি (Azzedine Ounahi)। এই এক গোলের লিড মরক্কোর আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
কানাডা সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও মরক্কোর রক্ষণভাগ ভাঙতে ব্যর্থ হয়। উল্টো ম্যাচের ৮২তম মিনিটে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করে কানাডার ম্যাচে ফেরার সব আশা ভেস্তে দেন সেই ওনাহি।
শেষ মুহূর্তের পেরেক ঠুকলেন রাহিমি
২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে কানাডা যখন অল-আউট আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করছিল, ঠিক তখনই ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে (৯০+৮ মিনিট) কানাডার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন মরক্কোর ফরোয়ার্ড সুফিয়ান রাহিমি (Soufiane Rahimi)। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে তিনি দলের ৩-০ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত করেন।
এই হারের ফলে উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডার বিশ্বকাপ মিশন এখানেই শেষ হলো। অন্যদিকে, অসাধারণ পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে কোয়ার্টার ফাইনালে নিজেদের জায়গা পাকা করে নিলো গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো।
