Touch Bangladesh
ঢাকামঙ্গলবার , ৪ আগস্ট ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  6. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  7. নতুন কর্মের খোঁজে
  8. নিত্যদিনের জীবন
  9. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  10. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  11. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  12. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  13. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  14. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
  15. সাম্প্রতিক বিশ্ব
আলোচিত সপ্তাহের খবর

বাংলাদেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: ৮৪৪ শিশুর মৃত্যু, ঋণের জালে ৯০% পরিবার

প্রতিবেদক
Louis Daru
আগস্ট ৪, ২০২৬ ৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Loading

স্বাস্থ্য | জনস্বাস্থ্য সংকট

বাংলাদেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: ৮৪৪ শিশুর মৃত্যু, ঋণের জালে ৯০% পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক | TouchBangladesh
৪ আগস্ট, ২০২৬

বাংলাদেশে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামের (Measles) প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এই সংক্রামক রোগে ইতোমধ্যে শত শত শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে, যা আক্রান্ত পরিবারগুলোর ওপর মারাত্মক অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে বলে সোমবার আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৮৪৪ জন শিশু মারা গেছে এবং ১ লাখ ১২ হাজারের বেশি মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

হাম প্রাদুর্ভাব ও আর্থিক সংকট একনজরে

রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির যৌথ সমীক্ষায় উঠে আসা ভয়াবহ চিত্র:

  • 🩸 প্রাণহানি ও আক্রান্ত: ১৫ মার্চ থেকে ৮৪৪ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,১২,০০০-এর বেশি রোগী।
  • 💸 ঋণের বোঝা: আক্রান্ত ১০টি পরিবারের মধ্যে ৯টিই (৯০%) চিকিৎসা খরচ চালাতে ঋণ নিতে বাধ্য হয়েছে।
  • 📊 খরচ বনাম আয়: নিম্ন আয়ের পরিবারের গড় আয় ৪৮–১৬০ ডলার হলেও চিকিৎসা ও যাতায়াতে খরচ হয়েছে গড়ে ১৩০ ডলারের বেশি।
  • 💉 মূল কারণ: ২০২৪ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় ও পরবর্তী বিশৃঙ্খলায় টিকাদান কর্মসূচিতে বড় ঘাটতি তৈরি হয়।

বিনামূল্যে চিকিৎসা মিললেও আনুষঙ্গিক খরচের পাহাড়

ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (IFRC) এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ১২টি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া ২,৭৪৬টি পরিবারের ওপর এই যৌথ মূল্যায়ন পরিচালনা করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা ও চিকিৎসা সেবা বিনামূল্যে দেওয়া হলেও যাতায়াত, ঔষধ ও আনুষঙ্গিক খরচের কারণে পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে পড়ছে।

জরিপে দেখা গেছে, ৩৫ শতাংশ পরিবারের ঔষধ কেনার জন্য এবং ২২ শতাংশ পরিবারের জরুরি খাদ্য সহায়তার প্রয়োজন হয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া হাজেরা খাতুন জানান, তার অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে ঢাকার হাসপাতালে পৌঁছাতেই কেবল অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া বাবদ প্রায় ২০০ ডলার খরচ হয়ে গেছে। এছাড়া দীর্ঘদিন হাসপাতালে অবস্থান করার কারণে বহু দিনমজুর অভিভাবক তাদের কাজ হারিয়েছেন।

একনজরে: হামের প্রাদুর্ভাব ও জরিপের পরিসংখ্যান

সূচক / বিষয় তথ্য ও পরিসংখ্যান
প্রাদুর্ভাবের সময়কাল ১৫ মার্চ, ২০২৬ – বর্তমান
নিহত শিশুর সংখ্যা ৮৪৪+ জন (রবিবারেও ৪ শিশুর মৃত্যু)
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আক্রান্ত ১,১২,০০০ জন এর বেশি
ঋণগ্রস্ত পরিবার ৯০% (প্রতি ১০টি পরিবারের ৯টি)
গড় চিকিৎসা ব্যয় ১৩০ ডলারের বেশি (আয়: ৪৮–১৬০ ডলার/মাস)

‘স্বাস্থ্য সংকটের সাথে মারাত্মক আর্থিক দেউলিয়াত্ব’

ঢাকায় আইএফআরসি (IFRC)-এর প্রধান আলবার্তো বোকানেগ্রা বলেন, “এই হামের মতো স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থার প্রভাব হাসপাতালের দরজাতেই শেষ হয়ে যায় না। পরিবারগুলোকে প্রায়শই মারাত্মক আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হতে হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তা এবং শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা উভয়ই অপরিহার্য।”

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব কবির এম. আশরাফ আলম যোগ করেন, “আমাদের মূল্যায়ন দেখায় যে অনেক পরিবার কেবল স্বাস্থ্য সংকটের মুখোমুখি নয়, তারা মারাত্মক আর্থিক দেউলিয়াত্বের মধ্যে পড়েছে।”

টিকাদান কর্মসূচিতে ব্যাঘাত ও বর্তমান পরিস্থিতি

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্রধানত হাঁচি ও কাশির মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত হলে এর সুনির্দিষ্ট কোনো ওষুধ বা চিকিৎসা নেই। মস্তিষ্কের প্রদাহ এবং তীব্র শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতার কারণে শিশুদের মৃত্যু ঘটে। ২০২৪ সালের সরকারবিরোধী গণ-আন্দোলনের সময় এবং তার পরবর্তী বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে নিয়মিত রুটিন টিকাদান কর্মসূচিতে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটে, যার ফলে দেশে বিপুল সংখ্যক শিশু অরক্ষিত থেকে যায়।

১৭ কোটি মানুষের এই দেশে প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় ইতিমধ্যে ব্যাপকভাবে টিকাদান অভিযান চালানো হচ্ছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও নতুন করে শিশুরা আক্রান্ত ও মৃত্যুবরণ করছে। গত রবিবারও সন্দেহভাজন হামে আরও চার শিশুর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।