![]()
সুস্থ শরীরে বাথরুমে ঢুকে হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়া কিংবা জ্ঞান হারানোর ঘটনা অনেকের কাছেই পরিচিত। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে বাথরুমে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে।
তবে বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করেছেন যে, বাথরুমে গেলেই যে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক হবে এমনটি নয়। বরং সেখানকার পরিবেশ ও কয়েকটি অভ্যাসের কারণে রক্তচাপে দ্রুত ওঠানামা হয়ে মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হওয়া বা পড়ে গিয়ে গুরুতর আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
বাথরুমে যে বিষয়গুলো বিপদ বাড়াতে পারে:
-
তাপমাত্রার আকস্মিক পরিবর্তন: হঠাৎ খুব ঠান্ডা বা অতিরিক্ত গরম পানির সংস্পর্শে এলে শরীরের রক্তনালী সংকুচিত বা প্রসারিত হয়ে রক্তচাপে হঠাৎ পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। হৃদরোগী বা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য এই ধকল বেশ বিপজ্জনক হতে পারে।
-
মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দেওয়া: কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত জোর দিলে শরীরে রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দনে সাময়িক বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ভ্যালসালভা ম্যানুভার’ (Valsalva Maneuver) বলা হয়, যার ফলে মাথা ঘোরা বা জ্ঞান হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়।
-
হঠাৎ দ্রুত উঠে দাঁড়ানো: বাথরুমের কমোডে বা নিচে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পর হঠাৎ দ্রুত উঠে দাঁড়ালে রক্তচাপ সাময়িকভাবে অনেক কমে যেতে পারে। ফলে মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে, বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে এমনটি বেশি দেখা যায়।
-
পিচ্ছিল মেঝে: ভেজা বা পিচ্ছিল মেঝের কারণে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত লাগতে পারে।
বহুল প্রচলিত একটি ভুল ধারণা
অনেকের মধ্যেই ধারণা রয়েছে—গোসলের সময় শুরুতে মাথায় পানি দিলে মস্তিষ্কের রক্তনালী ফেটে স্ট্রোক হয়। তবে চিকিৎসকদের মতে, এ ধরনের দাবির পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। ফলে পা থেকে শুরু করে মাথায় পানি ঢালাকে স্ট্রোক প্রতিরোধের নিশ্চিত কোনো নিয়ম বা চিকিৎসা হিসেবে ধরা ঠিক নয়। এর বদলে অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম পানি এড়িয়ে ধীরে ধীরে শরীরকে সহনীয় তাপমাত্রায় মানিয়ে নেয়াই সবচেয়ে জরুরি।
করণীয় ও সতর্কতা
১. গোসল বা স্নানের সময় অতিরিক্ত বরফ-ঠান্ডা বা ফুটন্ত গরম পানি ব্যবহার না করে সহনীয় তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করা।
২. বসা অবস্থান থেকে উঠে দাঁড়ানোর সময় তাড়াহুড়ো না করে ধীরে ধীরে ওঠা।
৩. কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসায় ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া এবং জোড়াজুড়ি এড়ানো।
৪. বাথরুমে পিচ্ছিল প্রতিরোধী অ্যান্টি-স্লিপ ম্যাট (Anti-slip mat) ব্যবহার করা এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের সুবিধার জন্য দেয়ালে ধরার হাতল বা গ্র্যাব বার (Grab bar) বসানো।
৫. খুব বেশি অসুস্থ বা দুর্বল ব্যক্তি কিংবা বয়স্কদের একা বাথরুমে না পাঠানোই নিরাপদ।
কখন জরুরি চিকিৎসা নেবেন?
বাথরুমে থাকা অবস্থায় বা তার ঠিক পরপরই যদি কারোর মুখ বেঁকে যাওয়া, এক হাত বা পা হঠাৎ দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়া, কথা জড়িয়ে আসা, তীব্র বুক ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা জ্ঞান হারানোর মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে সময় নষ্ট না করে তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে।
