![]()
বাংলাদেশ-সৌদি আরবের ঐতিহাসিক চুক্তি: সাপ্তাহিক ফ্লাইট বেড়ে ৮৪, যুক্ত হলো কার্গো ও ফিফথ ফ্রিডম সুবিধা
বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিমান চলাচলে এক যুগান্তকারী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশের (CAAB) তথ্যমতে, নতুন এই সমঝোতা স্মারকের (MoU) আওতায় দুই দেশের মধ্যে অনুমোদিত সাপ্তাহিক যাত্রীবাহী ফ্লাইটের সংখ্যা ৪৯টি থেকে একলাফে বাড়িয়ে ৮৪টিতে উন্নীত করা হয়েছে।
- ✈️ ফ্লাইট বৃদ্ধি: যাত্রীবাহী ফ্লাইট সাপ্তাহিক ৪৯টি থেকে বেড়ে ৮৪টি হয়েছে।
- 📦 কার্গো সুবিধা: প্রতি সপ্তাহে ২১টি কার্গো ফ্লাইটের নতুন অনুমোদন।
- 🌍 আঞ্চলিক গন্তব্য: ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে সরাসরি ফ্লাইট চলাচলের সুযোগ।
- 🤝 বিশেষ অধিকার: কোড-শেয়ারিং, কো-টার্মিনালাইজেশন এবং ফিফথ ফ্রিডম ট্রাফিক রাইটস।
হজ যাত্রী ও ৪০ লাখ প্রবাসীর ভোগান্তি কমবে
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে চুক্তির বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, এই চুক্তির ফলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন বাংলাদেশের হজ ও ওমরাহ যাত্রীরা। অতিরিক্ত ফ্লাইটের কারণে হজ মৌসুমে চিরচেনা আসন সংকট ও অপারেশনাল বাধা দূর হবে। এছাড়া সৌদি আরবে বসবাসরত প্রায় ৪০ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসীও এই বিশাল ফ্লাইট ভলিউমের সুবিধা পাবেন। এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়লে টিকিটের দামও যাত্রীদের নাগালের মধ্যে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
একনজরে: বাংলাদেশ-সৌদি নতুন এভিয়েশন চুক্তি
| খাত / সুবিধা | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| সাপ্তাহিক যাত্রীবাহী ফ্লাইট | আগে ৪৯টি, বর্তমানে ৮৪টি (৩৫টি বৃদ্ধি) |
| সাপ্তাহিক কার্গো ফ্লাইট | ২১টি (তৈরি পোশাক, সবজি ও ফলমূল রপ্তানি ত্বরান্বিত হবে) |
| আঞ্চলিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ | চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে রিয়াদ, দাম্মাম, মদিনা ও জেদ্দায় সরাসরি যোগাযোগ |
| ফিফথ ফ্রিডম ট্রাফিক রাইটস | সৌদি আরব হয়ে স্পেন ও জার্মানিতে কার্গো পরিবহনের সুযোগ |
কার্গো হাব হওয়ার পথে বাংলাদেশ ও অন্যান্য সুবিধা
চুক্তির অন্যতম যুগান্তকারী দিক হলো ‘ফিফথ ফ্রিডম ট্রাফিক রাইটস’। এর ফলে বাংলাদেশি ক্যারিয়ারগুলো সৌদি আরবের আকাশসীমা ও বিমানবন্দর ব্যবহার করে স্পেন ও জার্মানির মতো তৃতীয় কোনো দেশে কার্গো পণ্য পরিবহন করতে পারবে, যা বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক কার্গো হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়ক হবে।
এছাড়া চুক্তিতে কোড-শেয়ারিং (Code-sharing), কো-টার্মিনালাইজেশন এবং উড়োজাহাজ লিজ (বিশেষ করে ওয়েট লিজিং) নেওয়ার শর্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সুবিধাগুলো এয়ারলাইন্সগুলোর রুট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, যাত্রীদের কানেক্টিভিটি বৃদ্ধি এবং পিক ট্রাভেল সিজনে সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে দারুণ নমনীয়তা প্রদান করবে। বেবিচক চেয়ারম্যানের মতে, এই চুক্তি শুধুমাত্র ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধি নয়, বরং ঢাকা ও রিয়াদের মধ্যে বৃহত্তর অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় করবে।
