![]()
১৫ হাজার বছরের পুরনো গুহাচিত্র আবিষ্কার: আয়ারল্যান্ডের প্রথম মানব বসতি গড়েছিল ওয়েলসের প্রবাসীরা
আয়ারল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অন্তত ১৫ হাজার বছর আগের প্রাচীন গুহাচিত্র আবিষ্কারের পর প্রত্নতাত্ত্বিকরা দাবি করছেন, দেশটিতে পা রাখা প্রথম মানবদল এসেছিল বর্তমান ওয়েলস অঞ্চল থেকে। এই আবিষ্কারের ফলে আয়ারল্যান্ডে মানুষের বসবাসের ইতিহাস আগের ধারণার চেয়েও প্রায় ৫,০০০ বছর পিছিয়ে গেল। ‘লস্ট ল্যান্ড ব্রিজ প্রজেক্ট’-এর আওতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় এই অবিশ্বাস্য সাফল্য অর্জন করেছে আন্তর্জাতিক গবেষক দল।
- 🎨 ১৫,০০০ বছরের পুরনো শিল্পকলা: আয়ারল্যান্ডের ৮টি গুহায় ম্যামথ, হরিণ ও হস্তছাপ সংবলিত প্রাচীন শিলাশিল্প উদ্ধার করা হয়েছে।
- 🌉 হারানো স্থলপথ (Lost Land Bridge): বরফ যুগে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা কমে যাওয়ায় ওয়েলস ও আয়ারল্যান্ডের মধ্যে ৭৬ কিমি দীর্ঘ স্থলপথ তৈরি হয়েছিল।
- 🤖 এআই অ্যালগরিদমের সাফল্য: ওয়েলসের গুহাগুলোর বৈচিত্র্য বিশ্লেষণ করে এআই মডেলের মাধ্যমে আয়ারল্যান্ডের সম্ভাব্য গুহাগুলোর অবস্থান চিহ্নিত করা হয়।
- 🔒 সুরক্ষায় গোপনীয়তা: চুরি ও ভাঙচুরের আশঙ্কায় আবিষ্কৃত আটটি গুহার সুনির্দিষ্ট অবস্থান গোপন রাখা হয়েছে।
বরফ যুগের ‘হারানো ভূ-সেতু’ ও আদি মানবপ্রবাহ
লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিলা বিশেষজ্ঞ ডা. জর্জ নাসের নেতৃত্বে পরিচালিত অনুসন্ধান অনুযায়ী, শেষ বরফ যুগে (Ice Age) আধুনিক ওয়েলসের পেমব্রোকশায়ার থেকে আয়ারল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের রোসলেয়ার পর্যন্ত ৭৬ কিলোমিটার বিস্তৃত একটি ঘাস ও বনভূমির মালভূমি উন্মুক্ত হয়েছিল। গ্রীষ্মকালেও মাইনাস ১০° সেলসিয়াস থেকে মাইনাস ২০° সেলসিয়াসের তীব্র ঠাণ্ডা থাকলেও এটি বুনো ঘোড়া, ম্যামথ, বাইসন ও রেনডিয়ারের চারণভূমি ছিল। শিকারী মানবদল এসব প্রাণীকে অনুসরণ করে ওই পথ পাড়ি দিয়ে আয়ারল্যান্ডে প্রবেশ করে।
অন্ধভাবে না খুঁজে এআই (AI) প্রযুক্তির ব্যবহার
পূর্বে আয়ারল্যান্ডে প্রাক-ঐতিহাসিক মানুষের অস্তিত্বের সবচেয়ে পুরনো প্রমাণ ছিল ১০,৫০০ বছর আগের। ডা. জর্জ নাস ও তাঁর দল বিশ্বাস করতেন যে প্রযুক্তি ও সঠিক দৃষ্টিভঙ্গির অভাবেই কেবল এতদিন প্রাচীন নিদর্শন পাওয়া যায়নি। ডিজিটাল ম্যাপিং ও গুহা বিশেষজ্ঞদের সাহায্যে ওয়েলসের গুহাগুলোর ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য অ্যালগরিদমে ইনপুট দিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে আয়ারল্যান্ডের ২৮টি সম্ভাব্য গুহা চিহ্নিত করা হয়। তদন্তের পর তার মধ্যে ৮টি গুহাতেই শিলাশিল্প ও খোদাইচিত্রের সন্ধান মেলে।
গবেষণার প্রধান তথ্য ও পরিসংখ্যান
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| প্রকল্পের নাম | লস্ট ল্যান্ড ব্রিজ প্রজেক্ট (Lost Land Bridge Project) |
| প্রধান গবেষক | ডা. জর্জ নাস (লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়) |
| আবিষ্কৃত শিল্পকলার বয়স | কমপক্ষে ১৫,০০০ বছর (পূর্ববর্তী রেকর্ড ১০,৫০০ বছর) |
| ভূ-সেতুর দৈর্ঘ্য | ৭৬ কিলোমিটার (৪৬ মাইল) |
| সহযোগী প্রতিষ্ঠানসমূহ | ইউনিভার্সিটি কলেজ ডাবলিন, অ্যাডিলেড বিশ্ববিদ্যালয়, দুবাই, ওয়েলস ও পর্তুগালের গবেষকবৃন্দ |
তথ্যসূত্র : বিবিসি নিউজ
