![]()
নেপালে লাশের সারি: নিহতের সংখ্যা ১৩২৫ ছাড়াল, ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে ২ কর্মীর ‘অলৌকিক’ উদ্ধার
নেপালে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট প্রলয়ংকরী বন্যার ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রাণের সন্ধানে এখনও বিরামহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। গত ২৬ আগস্ট চীন-নেপাল সীমান্তে পাহাড় ধসে কাদা ও পানির সুনামির মতো জলোচ্ছ্বাস আঘাত হানার পর থেকে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১৩০০ ছাড়িয়েছে। এর মাঝেও আশার আলো হয়ে এসেছে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া দুই জলবিদ্যুৎ কর্মীর ‘অলৌকিক’ উদ্ধার, যারা টানা ৯ দিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করে জীবিত ফিরে এসেছেন।
- 📍 ক্ষয়ক্ষতি: চীন-নেপাল সীমান্তে অন্তত ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প সম্পূর্ণ ধ্বংস।
- ⚠️ নিখোঁজ: নেপালে ৫,০৫৩ জন এবং চীনে ৫৩১ জনসহ মোট ৫,৫৮৪ জন নিখোঁজ।
- 🙏 অলৌকিক উদ্ধার: ৯ দিন পর ত্রিশূলি ৩এ সুড়ঙ্গ থেকে ২ জন জীবিত উদ্ধার।
- 🧬 গণকবর: শনাক্তকরণের জন্য ডিএনএ নমুনা রেখে ১,০৩০ জনকে গণকবরে সমাহিত।
সুড়ঙ্গে উদ্ধার অভিযান ও আন্তর্জাতিক সহায়তা
নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত জানিয়েছেন, সকাল থেকেই অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজ নতুন উদ্যমে চলছে। ‘ত্রিশূলি ৩এ’ (Trishuli 3A) সুড়ঙ্গসহ ধ্বংস হয়ে যাওয়া ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় অবিরাম কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। কাদা-মাটিতে আটকে থাকা ওই দুই কর্মীকে উদ্ধারের ঘটনা উদ্ধারকারীদের অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং স্থিতিশীল রয়েছেন। সুড়ঙ্গে আটকে পড়া আরও শতাধিক কর্মীর সন্ধানে ভারত, চীন, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞরা নেপালি উদ্ধারকারীদের সহায়তা করছেন।
একনজরে: ভয়াবহ বিপর্যয়ের পরিসংখ্যান
| দেশ / বিষয় | নিহতের সংখ্যা | নিখোঁজ ব্যক্তির সংখ্যা |
|---|---|---|
| নেপাল | ১,২৯৪ জন | ৫,০৫৩ জন |
| চীন | ৩১ জন | ৫৩১ জন |
| মোট পরিসংখ্যান | ১,৩২৫ জন | ৫,৫৮৪ জন |
উপচে পড়ছে মর্গ, প্রধানমন্ত্রীর আবেগঘন বার্তা
মৃতদেহের চাপে নেপালের মর্গগুলো উপচে পড়ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ভবিষ্যৎ শনাক্তকরণের জন্য ডিএনএ (DNA) নমুনা সংগ্রহ করে ইতোমধ্যে প্রায় ১,০৩০টি মৃতদেহ গণকবরে সমাহিত করা হয়েছে। ভয়াবহ এই বিপর্যয়ে গৃহহীন হয়ে অস্থায়ী ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নেওয়া হাজার হাজার মানুষের জন্য নিরাপদ বাসস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তায় তিনি বলেন, “আমরা জানি ক্যাম্পের জীবন আপনাদের জন্য সহজ নয়। তবে আমরা আবারও এমন পরিবেশ তৈরি করব, যেখানে আপনারা স্বপ্ন দেখতে এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে পারবেন।”
