![]()
১৬ ডিসেম্বর আংশিক চালু হচ্ছে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, রাজস্বে বাংলাদেশের হিস্যা বাড়ল
আগামী ১৬ ডিসেম্বর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (HSIA) বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল আংশিকভাবে চালু হতে যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এই টার্মিনাল থেকে প্রায় ২০টি ফ্লাইট পরিচালিত হবে। টার্মিনালটি পরিদর্শনের পর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান। আগামী বছরের মার্চ বা এপ্রিলের মধ্যে টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
- 📅 আংশিক উদ্বোধন: ১৬ ডিসেম্বর (শুরুতে চলবে ২০টি ফ্লাইট)।
- 🚀 পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম: আগামী বছরের (২০২৭) মার্চ বা এপ্রিল মাসে।
- 💰 রাজস্ব বণ্টন: জাপানের সাথে চুক্তিতে বাংলাদেশের শেয়ার ১৫% থেকে বেড়ে ২৭%।
- 🧳 লাগেজ প্রোটোকল: ১৫-৪০ মিনিটের মধ্যে লাগেজ ডেলিভারি, ব্যর্থতায় জরিমানা।
রাজস্ব চুক্তিতে পরিবর্তন ও ইন্টিগ্রেশন জটিলতা
মন্ত্রী জানান, এর আগে টার্মিনালটির ‘সফট ওপেনিং’ হলেও ভেতরের যন্ত্রপাতি ও ইকুইপমেন্ট ইন্টিগ্রেট (সমন্বয়) না হওয়ায় এটি পুরোদমে চালু করা যায়নি। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) আওতায় জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে হওয়া মূল চুক্তিতে বাংলাদেশের রাজস্বের হিস্যা ছিল মাত্র ১৫ শতাংশ। তবে নতুন করে আলোচনার পর তা বাড়িয়ে ২৭ শতাংশ করা হয়েছে। বর্তমানে টার্মিনালটির সিস্টেম ইন্টিগ্রেশনের ৫৭ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং আমদানি করা যন্ত্রপাতির টেস্টিং চলছে। টার্মিনালটি চালু না হওয়ায় বেবিচককে (CAAB) বর্তমান আয় থেকেই ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা দ্রুত সমাধান করা জরুরি।
একনজরে: তৃতীয় টার্মিনালের সক্ষমতা ও লক্ষ্যমাত্রা
| খাত / বিষয় | পরিকল্পনা ও বর্তমান অবস্থা |
|---|---|
| সর্বোচ্চ ফ্লাইট সক্ষমতা | পূর্ণাঙ্গ চালুর পর প্রায় ২০০টি ফ্লাইট হ্যান্ডেল করতে পারবে। |
| লাগেজ ডেলিভারির সময়সীমা | ১৫ থেকে ৪০ মিনিট (নতুন টার্মিনালে)। |
| বাংলাদেশের সংশোধিত রাজস্ব শেয়ার | ২৭ শতাংশ (আগে ছিল ১৫%)। |
| বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন | আন্তর্জাতিক সিস্টেমে অতিরিক্ত খরচ এড়াতে নাম পরিবর্তন হচ্ছে না। |
লাগেজ ডেলিভারিতে কড়াকড়ি ও বিমানের সক্ষমতা বৃদ্ধি
যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষার ভোগান্তি কমাতে নতুন ব্যাগেজ প্রোটোকল তৈরি করা হয়েছে। নতুন নিয়মে ১৫ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে যাত্রীদের লাগেজ বুঝিয়ে দিতে হবে। এই সময়সীমা মানতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট টার্মিনাল অপারেটরকে বেবিচকের জরিমানার মুখে পড়তে হবে। এছাড়া, জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ও বহর বাড়ানোর বিষয়েও সরকার কাজ করছে। আন্তর্জাতিক সিস্টেমে পরিবর্তনের বিশাল খরচের কথা মাথায় রেখে বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা আপাতত সরকারের নেই বলে স্পষ্ট করেন মন্ত্রী। পরিদর্শনের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি এবং বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।
