![]()
ধামরাইয়ে বেদে সম্প্রদায়ের ৪০ পরিবারের জন্য স্থায়ী বাসস্থান ও সেলাই মেশিন বরাদ্দ
বছররের পর বছর ধরে অনিশ্চিত ঠিকানায় বসবাস করে আসা ঢাকার ধামরাইয়ের ৪০টি বেদে পরিবারের জন্য স্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছে জেলা প্রশাসন। ধামরাইয়ে প্রায় এক একর খাস জমি বরাদ্দ দেওয়ার পাশাপাশি স্বাবলম্বী করে তুলতে সম্প্রদায়ের ২৫ জন নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের আবাসন ও জীবনমানের সংকট নিরসনে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
- 🏠 জমিন বরাদ্দ: ধামরাইয়ে বেদে পরিবারের জন্য প্রায় ১ একর খাস জমি বরাদ্দ।
- 👥 উপকারভোগী: বেদে সম্প্রদায়ের মোট ৪০টি পরিবার।
- 🧵 স্বাবলম্বী উদ্যোগ: ‘হ্যালো ডিসি’ উদ্যোগের মাধ্যমে ২৫ জন নারীকে সেলাই মেশিন প্রদান।
- 📍 অবস্থান: ধামরাই উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের রূপনগর এলাকা।
মাত্র ১৭ দিন আগের পরিদর্শনের পর নজিরবিহীন উদ্যোগ
গত ২০ আগস্ট ঢাকার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম ধামরাইয়ের রূপনগর এলাকার বেদে পল্লি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। সেখানে গিয়ে তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের আবাসন, জীবিকা এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা কষ্টের কথা শোনেন। এর মাত্র ১৭ দিনের মাথায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জমি বরাদ্দের ঘোষণা দেন এবং নারীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেন। বেদে সম্প্রদায়ের সদস্যরা জানান, তারা প্রায় ৩০ বছর ধরে এই এলাকায় বসবাস করে আসলেও তাদের নিজস্ব কোনো জমি বা স্থায়ী ঠিকানা ছিল না।
একনজরে: বেদে সম্প্রদায় পুনর্বাসন কার্যক্রম
| উদ্যোগ ও বিষয় | বিবরণ ও পরিসংখ্যান |
|---|---|
| বরাদ্দকৃত খাস জমি | প্রায় ১ একর জমি (৪০ পরিবারের স্থায়ী আবাসন) |
| সেলাই মেশিন প্রাপ্ত নারী | ২৫ জন (হ্যালো ডিসি উদ্যোগের মাধ্যমে আবেদনকৃত) |
| পূর্বের বসবাসের স্থায়িত্ব | প্রায় ৩০ বছর ধরে অনিরাপদ অবস্থায় বসবাস |
| প্রধান উদ্যোগ গ্রহণকারী | ফরিদা খানম (জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ঢাকা) |
“প্রধানমন্ত্রীর মূলধারা থেকে কাউকে বাদ দেওয়া যাবে না”
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, বেদে সম্প্রদায়ও আমাদের সমাজের একটি অংশ। মূলধারার বাইরে কোনো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ফেলে রাখা যাবে না। মানুষের জীবন বদলাতে শুধু সাহায্য দিলেই চলে না, বরং তাদের নিজেদের জীবন পরিবর্তন করার সুযোগ তৈরি করে দিতে হয়। স্থায়ী আবাসনের পাশাপাশি তাদের কর্মসংস্থান এবং শিশুদের উন্নত শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টিতে প্রশাসন কাজ করছে বলে জানান তিনি। এই উদ্যোগের ফলে বেদে পরিবারগুলো অর্থনৈতিক সচ্ছলতা অর্জনের পাশাপাশি সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন জেলা প্রশাসক।
