![]()
রূপগঞ্জে সাঁওতাল তরুণী রিয়া সরেনের রহস্যজনক মৃত্যু: ধর্মান্তরের চাপ নাকি পরিকল্পিত হত্যা?
নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার মুরাপাড়া ইউনিয়নের মঙ্গলখালিতে রিয়া সরেন (১৯) নামে এক আদিবাসী সাঁওতাল তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বিধবা ও দরিদ্র মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে মাত্র ১৯ বছর বয়সেই জীবিকার তাগিদে রূপগঞ্জের ‘এসিআই সল্ট লিমিটেডে’ (ACI Salt Limited) কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। গত ৭ সেপ্টেম্বর সকালে ভাড়া বাসা থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধারের পর থেকে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বাড়ির মালিকের অসংলগ্ন আচরণ এবং আদিবাসী মেয়েটিকে ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।
- 👤 নিহত: রিয়া সরেন (১৯), আদিবাসী সাঁওতাল সম্প্রদায়।
- 📍 নিজ এলাকা: বাঘদাবড়া গ্রাম, কুশদহ ইউনিয়ন, নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর।
- 🏢 কর্মস্থল: ACI Salt Limited (রূপগঞ্জ শাখা)।
- 🚨 সন্দেহের কেন্দ্রবিন্দু: বাড়ির মালিক তানিয়া বেগমের স্ববিরোধী বক্তব্য ও রিয়াকে ধর্মান্তরিত করার গুঞ্জন।
বাড়ির মালিকের অসংলগ্ন কথাবার্তা ও ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ
স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলখালিতে তানিয়া নামের এক নারীর টিনশেড ভাড়া বাসায় থাকতেন রিয়া। একই কোম্পানিতে উচ্চপদে চাকরি করা তানিয়া রিয়াকে সবসময় নিজের কাছাকাছি রাখতেন। এমনকি রিয়ার ব্যবহৃত সিম কার্ডটিও তানিয়ার নামে ছিল। অভিযোগ উঠেছে, তানিয়া বেগম রিয়াকে মুসলিম ধর্মে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে দেওয়ার ইচ্ছার কথা প্রকাশ্যে ব্যক্ত করেছিলেন। ৭ সেপ্টেম্বর সকালে রিয়ার নিথর দেহ পাওয়ার পর তানিয়া ও তার পরিবার প্রথমে দাবি করেন রিয়া ‘স্ট্রোকে’ মারা গেছেন। কিন্তু স্থানীয়রা রিয়ার গলায় দড়ি বা ফাঁসের গভীর ক্ষতচিহ্ন দেখতে পেলে বাড়ির মালিক তাৎক্ষণিকভাবে সুর পাল্টে দাবি করেন যে, রিয়া আত্মহত্যা করেছে এবং তারা নিজেরাই ঝুলন্ত লাশ নামিয়েছেন। অথচ অন্য কোনো প্রতিবেশী লাশটি ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেননি।
একনজরে: সন্দেহের কারণ ও অমিমাংসিত প্রশ্ন
| বিষয় | রহস্য ও অসংগতি |
|---|---|
| মৃত্যুর কারণ নিয়ে দ্বিচারিতা | প্রথমে ‘স্ট্রোক’ বলা হলেও গলায় দাগ দেখার পর ‘আত্মহত্যা’ বলে দাবি। |
| মোবাইল ফোন গায়েব | ৬ সেপ্টেম্বর রাতে মায়ের সাথে কথা বললেও পরদিন সকাল থেকে ফোনটি নিখোঁজ। |
| টিনের চালের অসংগতি | দুর্বল টিনের অ্যাঙ্গেলে ফাঁস দিলে চাল বেঁকে যাওয়ার কথা, কিন্তু তেমন কোনো চিহ্ন নেই। |
| আইনি পদক্ষেপ | ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হলেও নিহতের পরিবার এখনো মামলা দায়ের করেনি। |
নিখোঁজ মোবাইল ফোন ও ন্যায়বিচারের দাবি
নিহতের মা জানিয়েছেন, ৬ সেপ্টেম্বর ডে-শিফটের ডিউটি শেষে রাতে ডিনারের পর রিয়ার সাথে তার ফোনে কথা হয়েছিল। অথচ সকালবেলা লাশ উদ্ধারের সময় সেই মোবাইল ফোনটি রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় এবং তাৎক্ষণিক কোনো অভিভাবক না থাকায় খবর পেয়েও পুলিশের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বেশ দেরি হয়। পরে বিকেলে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হলেও নিহতের দরিদ্র পরিবার এখনো আইনি পদক্ষেপে যেতে পারেনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতোমধ্যে ‘Justice for Riya Soren’ হ্যাশট্যাগে এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।
