Touch Bangladesh
ঢাকাসোমবার , ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  6. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  7. নতুন কর্মের খোঁজে
  8. নিত্যদিনের জীবন
  9. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  10. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  11. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  12. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  13. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  14. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
  15. সাম্প্রতিক বিশ্ব
আলোচিত সপ্তাহের খবর

আমরা ঢাকাকে হত্যা করছি: অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও দখলদারিত্ব

প্রতিবেদক
Louis Daru
সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ৫:৫৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Loading

বিশেষ প্রতিবেদন | মেগাসিটি ঢাকা

কীভাবে আমরা ঢাকাকে হত্যা করছি: অপরিকল্পিত নগরায়ণ, দখলদারিত্ব ও একটি শহরের ধীর মৃত্যুর উপাখ্যান

(বিশ্লেষণ) | TouchBangladesh
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ঢাকা শহরে বেড়ে ওঠা একটি শিশুর দৈনন্দিন জীবন এখন চার দেয়াল, জানালা এবং ডিজিটাল স্ক্রিনেই সীমাবদ্ধ। বাইরে হাঁটা, দৌড়ানো বা খেলার মতো কোনো খোলা জায়গা বা সবুজ মাঠ তার নেই। বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এই শহরে আড়াই কোটি মানুষ মাত্র ১৫২৮ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বসবাস করছে। নগর পরিকল্পনার চরম ব্যর্থতা, জলাশয় ভরাট, অভিজাতদের ভূমি দখল এবং রাজনৈতিক অর্থনীতির প্রভাবে একসময়ের সমৃদ্ধ এই মেগাসিটি আজ তিলে তিলে তার ‘শারীরিক ও সামাজিক মৃত্যু’র দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

ঢাকার ধীর মৃত্যুর মূল কারণসমূহ

  • 🌳 সবুজের অভাব: আদর্শ ২৫% সবুজের বিপরীতে বর্তমানে সুস্থ সবুজের পরিমাণ মাত্র ২%।
  • 🏢 ভূমিকম্প ঝুঁকি: ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে ধ্বংস হতে পারে ৪১% বা প্রায় ৮ লাখ ৬০ হাজার ভবন।
  • 💧 জলাশয় ধ্বংস: ১৯৪০ সালে থাকা ১৭৫টি খাল ও জলাশয়ের মধ্যে টিকে আছে মাত্র ২৬টি।
  • 🚗 যানজট ও দখল: যানজটে দৈনিক ক্ষতি ৮২ লাখ কর্মঘণ্টা; অভিজাতদের বেপরোয়া সরকারি খাসজমি দখল।

ইতিহাসের পাতা থেকে আজকের বিশৃঙ্খল ঢাকা

১৯৪৭ সালে ঢাকার আয়তন ছিল ৬৪.৭ বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যা ছিল মাত্র ৩ লাখ। আজ সেই শহরের জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৮,২৩৩ শতাংশ! ১৯১৭ সালে স্কটিশ নগর পরিকল্পনাবিদ স্যার প্যাট্রিক গেডেস ঢাকার প্রথম মাস্টার প্ল্যান করেছিলেন, যেখানে খাল ও সবুজ এলাকা সংরক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল (যেমন- রমনা পার্ক)। কিন্তু দেশভাগের পর থেকে রাজনৈতিক অভিজাতরা (Power Elites) ক্ষমতাবলে ‘পরিত্যক্ত সম্পত্তি’ ও সরকারি খাসজমি দখল করে অপরিকল্পিত আবাসন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের মতো উদ্যোগগুলোও দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে একটি ‘কালো গহ্বরে’ (Black hole) পরিণত হয়েছে।

একনজরে: ঢাকার পরিবেশ ও বাসযোগ্যতার ক্রমাবনতি

খাত / নির্দেশক অতীতের চিত্র (১৮৩০-১৯৬০ দশক) বর্তমান পরিস্থিতি
দুপুরের গড় তাপমাত্রা ৭৮.৬° ফারেনহাইট (১৮৩০ সাল) ৯৩° ফারেনহাইটের বেশি
ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ১৮ থেকে ২২ ফুট নিচে (১৮৩০ সাল) ১৯৭ থেকে ৩৫৭ ফুট নিচে
খাল ও লেক প্রায় ১৭৫টি (১৯৪০ সাল পর্যন্ত) মাত্র ২৬টি অবশিষ্ট আছে
উন্মুক্ত স্থান (প্রতি ১০০০ জনে) ০.০৬ একর (১৯৬০-এর দশক) ০.০১ একরেরও কম

ভবন বিধিমালা লঙ্ঘন এবং শহরের ‘সামাজিক মৃত্যু’

ঢাকায় নির্মিত ৯৫ শতাংশেরও বেশি ভবন সিটি কর্পোরেশন ও রাজউকের ‘বিল্ডিং কোড’ অমান্য করে তৈরি হয়েছে, যা শহরটিকে ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ডের মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে। শুধু পরিবেশগত বা ভৌত নয়, ঢাকা একটি ‘সামাজিক মৃত্যু’রও (Social death) স্বাদ গ্রহণ করছে। শহরের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ বস্তি বা অনুরূপ পরিবেশে বাস করলেও তারা শহরের মাত্র ৫.১ শতাংশ জায়গা দখল করে আছে। পান্থপথের মতো অভিজাত এলাকায় ৭৮ শতাংশ ধনী ও মধ্যবিত্তরা ৯৬ শতাংশ জমি দখল করে আছে, আর বাকি ২২ শতাংশ দরিদ্র মানুষ বাস করে মাত্র ৪ শতাংশ জমিতে।

অপরাধ, যানজট, নারীদের জন্য গণপরিবহনের নিরাপত্তাহীনতা এবং ১১৭টিরও বেশি পেশাদার কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী দলের দৌরাত্ম্য ঢাকাকে আক্ষরিক অর্থেই বসবাসের অযোগ্য করে তুলেছে। ‘ন্যাশনাল আরবান প্ল্যান ২০২৫’ (National Urban Plan 2025) কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তার ওপরেই নির্ভর করছে এই মৃতপ্রায় মেগাসিটির ভবিষ্যৎ।

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।