![]()
এশিয়ান গেমসে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়ল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। শক্তিশালী উত্তর কোরিয়ার আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে রীতিমতো উড়ে গেছে পিটার বাটলারের শিষ্যরা। এফ’ গ্রুপের এই ম্যাচে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা হেরেছে ১০-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে। এটি কেবল একটি হারই নয়, বরং বাংলাদেশের নারী ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হারের নতুন রেকর্ড।
এর আগে নারী দলের সবচেয়ে বড় হারের তেতো স্বাদটি এসেছিল ২০১৩ সালে। সেবার ঘরের মাঠে থাইল্যান্ডের কাছে ৯-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল বাংলাদেশ।
ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শুধুই উত্তর কোরিয়ার আধিপত্য দেখা গেছে।একের পর এক আক্রমণ সামলাতে গিয়ে পুরোপুরি ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ। গোলপোস্টের পাহারায় থাকা গোলরক্ষক মিলি আক্তারের জন্য দিনটি ছিল চরম দুঃস্বপ্নের। রক্ষণভাগের কাছ থেকে ন্যূনতম সহায়তা না পাওয়ায় অসহায়ভাবে তাকে ১০ বার বল জালে জড়ানো দেখতে হয়েছে।
ম্যাচের প্রথমার্ধেই ৭ গোল হজম করে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ। কোরিয়ান ফরোয়ার্ডদের মধ্যে জন রিয়ং জং, চে আন ইয়ং এবং কিম কিয়ং ইয়ং এই তিনজনই জোড়া গোলের দেখা পান। ম্যাচের ৫ ও ১০ মিনিটে জন রিয়ং, ১৮ ও ৩৫ মিনিটে চে আন ইয়ং এবং বিরতির আগে কিম কিয়ং ইয়ং দুটি গোল আদায় করে নেন। এর ফাঁকে ১২ মিনিটে জালের দেখা পান হাং ইউ ইয়ং।
দ্বিতীয়ার্ধেও কোরিয়ানদের গোলক্ষুধা কমেনি। ৫১ মিনিটে রি সং আ এবং ৬০ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা জং কুম স্কোরশিটে নাম লেখান। আর একেবারে শেষ মুহূর্তে, ৯০তম মিনিটে হান জিন হং গোল করলে ১০-০ ব্যবধানের বিশাল জয় নিশ্চিত হয় উত্তর কোরিয়ার।
ম্যাচের পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে মাঠে কতটা অসহায় ছিল বাংলাদেশ। পুরো ম্যাচে কোরিয়ানরা যেখানে বাংলাদেশের গোলমুখে ২১টি শট নিয়েছে, সেখানে বাংলাদেশ একটি শটও নিতে পারেনি। বল দখলের লড়াইয়েও ৭৩ শতাংশ সময় আধিপত্য ছিল উত্তর কোরিয়ার।
শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কোচ পিটার বাটলারের কৌশল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এমন হাইভোল্টেজ ম্যাচে তিনি শুরু থেকেই অভিজ্ঞ ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা ও শামসুন্নাহার সিনিয়রকে একাদশের বাইরে রাখেন। অনভিজ্ঞ তরুণদের নিয়ে গড়া দলটি স্বাভাবিকভাবেই ১১ নম্বর র্যাংকিংয়ে থাকা দলের প্রচণ্ড চাপ সামলাতে পারেনি। ১০৭ নম্বর র্যাঙ্কিংয়ে থাকা বাংলাদেশের জন্য তাই দিনটি পরিণত হয় একরাশ হতাশায়।
উল্লেখ্য, গত মার্চে এশিয়ান কাপেও এই উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। তবে এবার এশিয়ান গেমসের মঞ্চে সেই ব্যবধান দ্বিগুণ ছাড়িয়ে দেশের ফুটবলে যুক্ত হলো লজ্জার এক নতুন অধ্যায়।
