![]()
ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে ২৪৩ জন যাত্রী নিয়ে একটি যাত্রীবাহী জাহাজ উল্টে যাওয়ার পর নিখোঁজ ১২৯ জনের সন্ধানে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে দেশটির কোস্টগার্ড ও উদ্ধারকারী দলগুলো। খারাপ আবহাওয়া ও উত্তাল সমুদ্রের মধ্যেও সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) সকাল থেকে কয়েকশো উদ্ধারকর্মী তল্লাশি চালাচ্ছেন।
জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার (বাসার্নাস) তথ্য অনুযায়ী, রবিবারের এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া অন্তত ৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
⚠️ ভয়াবহ দুর্ঘটনা ও উদ্ধার তৎপরতা
‘ভার্গো ট্রান্সপোর্ট ৮’ নামের যাত্রীবাহী জাহাজটি পূর্ব জাভার সুরাবায়া থেকে দক্ষিণ কালিমান্তানের পোর্ট সিটি বাঞ্জারমাসিনের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে প্রতিকূল আবহাওয়ার মুখে পড়ে জাহাজটি নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং একপর্যায়ে দিক পরিবর্তন করে ডুবে যায়।
বাসার্নাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আই পুতু সুদায়ানা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান:
“আমরা সকাল থেকেই নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছি। ৬২২ জন উদ্ধারকর্মী এবং প্রায় ১২টি জাহাজ এই অভিযানে নিয়োজিত রয়েছে।”
🌊 উত্তাল সাগর ও তীব্র বাতাস
উদ্ধার কার্যক্রমে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সাগরের বিশাল ঢেউ ও ঝোড়ো হাওয়া। জাতীয় উদ্ধারকারী সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ শাফি জানান, প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে ডুবুরি দল নামানো সম্ভব হচ্ছে না।
উদ্ধার সংস্থার অপর এক কর্মকর্তা আরিয়ান্তো আর্দি জানান, ঘটনাস্থল বাঞ্জারমাসিনের ত্রিশক্তি বন্দরের কমান্ড সেন্টার থেকে প্রায় ৮০ নটিক্যাল মাইল (প্রায় ১৫০ কিলোমিটার) দূরে। প্রচণ্ড বাতাসের কারণে উদ্ধারকারী জাহাজগুলো উদ্ধারস্থল পর্যন্ত পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে।
📸 প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ও মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য
উদ্ধারকারী সংস্থার প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, লাল-কালো রঙের একটি বড় জাহাজ জাভা সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে অর্ধেক ডুবে গিয়ে কাত হয়ে আছে। জাহাজটির তলার অংশ পানির উপরে ভেসে উঠেছে এবং কাছেই দুটি ছোট লাইফবোটে কয়েকজন ভাসছেন।
পরিবহন মন্ত্রী দুদি পুরওয়াগান্ধি জানান:
-
একটি পথচারী হেলিকপ্টার থেকে প্রথম জাহাজ উল্টে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
-
জাহাজটিতে ৫০০ জন যাত্রী ধারণের ক্ষমতা ছিল, ফলে অতিরিক্ত যাত্রীবহন বা ওভারলোডিং এই দুর্ঘটনার কারণ নয়।
-
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
📌 ইন্দোনেশিয়ার ফেরি দুর্ঘটনা চিত্র: প্রায় ১৭,০০০ দ্বীপ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়ায় চলাচলের জন্য দূরপাল্লার ফেরি ও জাহাজের ওপর মানুষ ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তবে দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ঘনঘন খারাপ আবহাওয়ার কারণে দেশটিতে প্রায়ই নৌ-দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। গত মাসেই আলাদা দুটি ফেরি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৬ জন নিহত হয়েছিলেন।
নিখোঁজদের স্বজনরা সুরাবায়ার তাঞ্জুং পেরাক বন্দরে প্রিয়জনদের খবরের আশায় ভিড় জমিয়েছেন।
