Touch Bangladesh
ঢাকাবুধবার , ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলা মুহুর্ত
  6. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  7. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  8. নতুন কর্মের খোঁজে
  9. নিত্যদিনের জীবন
  10. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  11. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  12. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  13. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  14. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  15. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
আলোচিত সপ্তাহের খবর

এআই মানবজাতির জন্য হুমকি? গুগলের ২ গবেষকের পদত্যাগ

প্রতিবেদক
Methon Mankhin
সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Loading

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নিয়ন্ত্রহীন ও দ্রুতগতির বিকাশ মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে গুগল ডিপমাইন্ড থেকে পদত্যাগ করেছেন শীর্ষ দুই এআই গবেষক। তাদের এই পদত্যাগ এআই প্রযুক্তির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

পদত্যাগ করা গবেষকদের একজন বিলাল চুঘতাই। তিনি গুগল ডিপমাইন্ডের আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স (এজিআই) সেফটি ও অ্যালignment দলে কর্মরত ছিলেন। এই বিভাগের মূল কাজ ছিল এআই যেন মানুষের সামঞ্জস্যপূর্ণ মূল্যবোধ মেনে চলে এবং কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায় তা নিশ্চিত করা।

সম্প্রতি এক বিবৃতিতে চুঘতাই জানান, এআই প্রযুক্তির সক্ষমতা যে অভূতপূর্ব গতিতে বাড়ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এর নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত গবেষণার অগ্রগতি হচ্ছে না। ভবিষ্যতে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্ট’ বা অতি-বুদ্ধিমান এআই তৈরি হলে তা মানুষের নিয়ন্ত্রণ অতিক্রম করতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

বিলাল চুঘতাইয়ের পাশাপাশি ডিপমাইন্ডের একই টিমের আরেক গবেষক জোস অ্যাঞ্জেলসও সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি থেকে পদত্যাগ করেছেন। এআই-এর সক্ষমতা বৃদ্ধির তুলনায় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়—এমন উদ্বেগ থেকেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন। ডিপমাইন্ড ছাড়ার পর তিনি এআই নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা গবেষণা সংস্থা ‘মিটার’-এ যোগ দিয়েছেন।

প্রযুক্তি খাতের উদ্বেগ ও ধীরগতির আহ্বান

প্রযুক্তি খাতের গবেষক ও নীতি-নির্ধারকদের একাংশ মনে করছেন, এআই প্রযুক্তির অবাধ স্বায়ত্তশাসন সাইবার হামলা, ভুল তথ্য ছড়ানো এবং মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর মতো গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে। সম্প্রতি এআই এজেন্ট ‘শর্মা’র পরীক্ষামূলক সীমানা টপকে ওয়েবসাইটে প্রবেশের মতো ঘটনা এই নিরাপত্তাহীনতার ধারণাকে আরও জোরালো করেছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় এআই উন্নয়নের গতি কিছুটা ধীর করার আহ্বান জানিয়েছেন শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী ডারিও আমোডি। তিনি বলেন, নতুন মডেল তৈরির পাশাপাশি সেগুলোর নিরাপত্তা মূল্যায়নে স্বাধীন নজরদারি ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নির্ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি।

তার এই অবস্থানের সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত পোষণ করেছেন ওপেনএআই-এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান এবং এক্সএআই-এর প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক।

বাস্তবায়নে ভূ-রাজনৈতিক জটিলতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখে নিরাপত্তার কথা বলা হলেও এআই উন্নয়নের গতি বাস্তবে কমানো বেশ কঠিন। প্রযুক্তি খাতে বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার এআই দৌড় এই প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে। একটি পক্ষ বা প্রতিষ্ঠান থামলেও অন্য পক্ষ এগিয়ে যাবে—এই আশঙ্কায় যৌথভাবে নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফলে প্রযুক্তির বৈপ্লবিক অগ্রযাত্রার সঙ্গে কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মধ্যবর্তী ভারসাম্য রক্ষাই এখন পুরো এআই শিল্পের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

তথ্যসূত্র: সিএনএন, দ্য গার্ডিয়ান, এনবিসি নিউজ

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।