![]()
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশ এবং এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় প্রযুক্তির নিরাপত্তায় এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ওপেনএআই-এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান। সান ফ্রান্সিসকোয় সফটওয়্যার সংস্থা সেলসফোর্স আয়োজিত বার্ষিক সম্মেলনে মঙ্গলবার তিনি বলেন, “বিশ্বের উচিত বিশ্বাস রাখা যে আমরা সঠিক কাজটিই করব; কারণ এটিই ন্যায়সংগত এবং আমরা এই দায়িত্বের গুরুত্ব অনুভব করি।”
- 🤖 আত্মনিয়ন্ত্রণের তাগিদ: অল্টম্যান ও জেনসেন হুয়াংয়ের দাবি, নতুন সরকারি আইনের প্রয়োজন নেই; এআই প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরাই নিরাপত্তা বজায় রাখতে সক্ষম।
- ⚠️ মানবধ্বংসের শঙ্কা ও বিতর্ক: অ্যানথ্রোপিকের সাবেক এক গবেষকের ভাইরাল পোস্ট নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়, যেখানে দাবি করা হয় অনিয়ন্ত্রিত এআই মানবজাতিকে ধ্বংস করতে পারে।
- ⚖️ রাজনীতিবিদদের আপত্তি: ডেমোক্র্যাট সেনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা স্টিভ ব্যালনের মতে, বিলিয়নিয়ার টেক মালিকদের হাতে এআই তদারকির ভার ছেড়ে দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।
- 🇺🇸 ট্রাম্পের অবস্থান: সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এআই সুরক্ষার নিরাপত্তাজনিত ভয়কে ‘হুক্স’ বা ভুয়া বলে মন্তব্য করেছেন।
স্ব-নিয়ন্ত্রণের পক্ষে টেক মোড়লরা
স্যাম অল্টম্যান স্বীকার করেছেন যে দ্রুত প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে সাধারণ মানুষের উদ্বিগ্ন হওয়া যুক্তিসংগত। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিরাপত্তা ও এআই অ্যালাইনমেন্ট (মনুষ্য নৈতিকতার সঙ্গে এআই-এর সামঞ্জস্য) বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠানগুলো নিজ থেকেই অগ্রগতি ধীর করে দেবে। মেটা সিইও মার্ক জুকারবার্গ এবং এনভিডিয়া প্রধান জেনসেন হুয়াংও এ স্ব-নিয়ন্ত্রণ নীতির পক্ষে মতামত দেন। জেনসেন হুয়াং স্পষ্ট জানান, “আমাদের নতুন আইন বা বিধিমালার প্রয়োজন নেই; এটি একটি প্রকৌশলগত সমস্যা (engineering problem)।”
বাইরের তদারকির দাবিতে সরব রাজনীতিক ও বিশেষজ্ঞরা
টেক সিইও-দের স্ব-নিয়ন্ত্রণের দাবির বিরোধিতা করেছেন শীর্ষ রাজনীতিকরা। বামপন্থী মার্কিন সেনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক কৌশলবিদ স্টিভ ব্যালন যৌথভাবে মত প্রকাশ করেন যে, বিশ্বের কোটিপতি টেক মালিকদের ওপর এআই-এর তদারকি ছেড়ে দেওয়া যায় না। অন্যদিকে আধুনিক এআই-এর অন্যতম পথিকৃৎ ইয়াসুয়া বেঞ্জিও (Yoshua Bengio) সামাজিক মাধ্যমে জানান, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বাণিজ্যিক স্বার্থের বাইরে গিয়ে নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এআই ঝুঁকি এড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
অ্যানথ্রোপিক গবেষকের ভাইরাল পোস্ট ও তীব্র বিতর্ক
সম্প্রতি এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘অ্যানথ্রোপিক’ থেকে পদত্যাগ করা এক গবেষকের ভাইরাল পোস্টকে কেন্দ্র করে এই আলোচনার ঝড় ওঠে। ওই গবেষক দাবি করেন, এআই-কে সঠিক নিয়ন্ত্রণে না আনলে এই দশকের শেষ নাগাদ এটি মানবজাতিকে ধ্বংস বা নিঃশেষ করে দিতে পারে। ইলন মাস্ক ও ডেমিস হাসাবিস পোস্টটির প্রশংসা করলেও, নতুন করে আইনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ তৈরি নাকি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ—এই প্রশ্নে পুরো সিলিকন ভ্যালি এখন বিভক্ত।
এআই আইন ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রধান ব্যক্তিদের অবস্থান
| ব্যক্তি / সংস্থা | প্রধান অবস্থান ও মন্তব্য |
|---|---|
| স্যাম অল্টম্যান (OpenAI) | এআই নিরাপত্তা নিশ্চিতে টেক কোম্পানিগুলোর ওপর আস্থা রাখা উচিত; ব্যর্থ হলে কাজের গতি ধীর করা হবে। |
| মার্ক জুকারবার্গ (Meta) | প্রতিটি ল্যাবের নিজস্ব নিরাপত্তা বজায় রাখার তাগিদ ও দায়বদ্ধতা রয়েছে। |
| জেনসেন হুয়াং (Nvidia) | নতুন আইনের প্রয়োজন নেই; এআই নিরাপত্তা একটি ইঞ্জিনিয়ারিং সমস্যা। |
| বার্নি স্যান্ডার্স ও স্টিভ ব্যালন | কয়েকজন কোটিপতি মালিকের ওপর এআই স্ব-নিয়ন্ত্রণের ভার ছেড়ে দেওয়া যাবে না। |
| ডোনাল্ড ট্রাম্প | এআই সুরক্ষার ভয় ভিত্তিহীন; একজন ‘শক্তিশালী রাষ্ট্রপতিই’ এর একমাত্র প্রতিরোধ। |
