![]()
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছরের সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ড. নাহিদা বেগমের নেতৃত্বাধীন প্রক্টরিয়াল টিমের অভিযানে মাদকসহ আটক হওয়া মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ নামের এক কিশোরই এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি। মায়ের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের জেরে ক্ষুব্ধ হয়েই কি প্রতিশোধ হিসেবে অবোধ সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে—এমন প্রশ্ন এখন পুরো এলাকায় ঘুরপাক খাচ্ছে।
- 👤 নিহত শিক্ষার্থী: ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩), সপ্তম শ্রেণি, কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল।
- 🔍 প্রধান আসামি: মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (২০২৫ সালে কুবির প্রক্টরিয়াল টিমের হাতে গাঁজাসহ ধৃত)।
- 🎯 পূর্বপরিকল্পনা: গত ২ সেপ্টেম্বর অপ্রতিমের বাবার ইলেকট্রিক দোকানে কাজ নিয়েছিল অভিযুক্ত ফাহাদ।
- ⚖️ আইনি অগ্রগতি: পুলিশ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে, ৩ জন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
- 💔 মায়ের আর্তনাদ: সামাজিক মাধ্যমে নিহত শিশুকে নিয়ে অপপ্রচার বন্ধ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি।
ক্যাম্পাসে মাদকবিরোধী অভিযান ও পুরোনো আক্রোশ
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের লালন চত্বর থেকে গাঁজাসহ মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদসহ সাত কিশোরকে আটক করা হয়েছিল। তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. নাহিদা বেগমের নেতৃত্বে পরিচালিত সেই অভিযানে সহকারী প্রক্টরদের উপস্থিতিতে উদ্ধারকৃত গাঁজা ধ্বংস করা হয়। তবে আসামিরা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় ভবিষ্যতে অপরাধে না জড়ানোর মুচলেকা নিয়ে সে সময় অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।
দোকানে কাজ নিয়ে সুযোগের অপেক্ষা ও নিখোঁজের পর মরদেহ উদ্ধার
অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যে, প্রধান আসামি ফাহাদ চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ২ তারিখে অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের ইলেকট্রিক দোকানে কর্মচারীর কাজ নেয়। এর কিছুদিন পরই, গত ১৮ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ ও স্বজনদের কান্না
নিহত অপ্রতিমকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন আইডি থেকে অপরাধী সাজানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তার মা ড. নাহিদা বেগম। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব পালনকালে আমি অনেক মাদকসেবী ও কারবারিকে ধরেছি। সেই প্রশাসনিক দায়িত্বের কারণে যদি আমার সন্তানকে টার্গেট করা হয়ে থাকে, তবে তা অত্যন্ত নির্মম। আমার নিষ্পাপ সন্তানকে কেন মেরে ফেলা হলো? আমি এর সুষ্ঠু ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
মামলা ও তদন্তের সার্বিক চিত্র
| ক্রম / বিষয় | তথ্য ও বিবরণ | বর্তমান অগ্রগতি |
|---|---|---|
| নিখোঁজ ও উদ্ধার | ১৮ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ, ১৯ সেপ্টেম্বর লালমাই পাহাড় থেকে লাশ উদ্ধার। | ময়নাতদন্ত সম্পন্ন। |
| গ্রেফতারকৃত আসামি | মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদসহ মোট ৪ জন। | পুলিশ রিমান্ডে রয়েছে। |
| আদালতে স্বীকারোক্তি | গ্রেফতার ৪ জনের মধ্যে ৩ জন ইতোমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। | জবানবন্দি রেকর্ডকৃত। |
| হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য উদ্দেশ্য | ২০২৫ সালের প্রক্টরিয়াল মাদকবিরোধী অভিযানের জের ধরে প্রতিশোধ গ্রহণ। | পুলিশি তদন্তাধীন। |
