![]()
প্রতিদিন একই নাস্তা খাওয়াকে সাধারণভাবে ক্ষতিকর বলা যায় না। বরং নাস্তাটি যদি পুষ্টিকর ও সুষম হয়, তাহলে এটি সময় বাঁচানো, খাবারের পরিকল্পনা সহজ করা এবং পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে বেশ কার্যকর হতে পারে। তবে একই খাবারে পুষ্টির ঘাটতি থাকলে দীর্ঘদিন একই নাস্তা খাওয়ার কারণে খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য কমে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন নতুন নাস্তা খাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং একটি সুষম খাবারের কাঠামো তৈরি করে এর উপাদানগুলো নিয়মিত পরিবর্তন করা যেতে পারে। যেমন—গোটা শস্যের সঙ্গে ডিম, পনির, দই, টোফু বা ডালের মতো প্রোটিন; পাশাপাশি ফল বা সবজি এবং বাদাম বা বীজ রাখা যেতে পারে।
সাপ্তাহিক ভিত্তিতে ফল, শস্য ও প্রোটিনের উৎস পরিবর্তন করলে খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য বজায় থাকে। অন্যদিকে, নাস্তায় অতিরিক্ত চিনি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট থাকলে এবং প্রোটিন ও ফাইবারের ঘাটতি থাকলে তা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হিসেবে বিবেচিত নাও হতে পারে।
সকালের নাস্তা কেন গুরুত্বপূর্ণ
২০২৪ সালে The Journal of Nutrition, Health & Aging-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় সকালের খাবারের গুণমান ও পরিমাণের সঙ্গে সামগ্রিক স্বাস্থ্যের সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, সুষম ও পুষ্টিকর সকালের নাস্তা হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্য এবং শরীরের বিপাকীয় কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
গবেষণায় দৈনিক মোট ক্যালরির প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ সকালে গ্রহণের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে নাস্তা করাও উপকারী নয়। গবেষণায় বেশি পরিমাণে সকালের খাবার গ্রহণের সঙ্গে শরীরে বেশি চর্বি এবং বিপাকীয় চাপের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে নিম্নমানের সকালের খাবারের দীর্ঘমেয়াদি অভ্যাসের সঙ্গে কিডনির কার্যকারিতা কমে যাওয়ার সম্পর্কও উঠে এসেছে।
গবেষণার ফলাফল ইঙ্গিত করে, সকালের খাবারের ক্ষেত্রে শুধু সময় নয়, খাবারের মান ও পরিমাণও গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিকর ও পরিমিত নাস্তা শরীরের দৈনন্দিন ছন্দের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হজম ও বিপাকীয় কার্যক্রমকে সহায়তা করতে পারে।
তাই প্রতিদিনের নাস্তা বদলানোর চেয়ে খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গোটা শস্য, পর্যাপ্ত প্রোটিন, ফল-সবজি, বাদাম বা বীজের মতো উপাদান মিলিয়ে একটি সুষম নাস্তা তৈরি করা গেলে তা দিনের বাকি সময়ের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসেরও ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
