![]()
ডোপিং টেস্টে পজিটিভ হয়ে চার বছরের জন্য নিষিদ্ধ হওয়া ব্রিটিশ টেনিস তারকা তারা মুরের (Tara Moore) আইনি লড়াইয়ে বড় ধাক্কা। উইমেন্স টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের (WTA) বিরুদ্ধে তাঁর দায়ের করা ১৫ মিলিয়ন পাউন্ডের (প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার) ক্ষতিপূরণ মামলাটি খারিজ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আদালত।
৩৪ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ খেলোয়াড়ের দাবি ছিল, কলম্বিয়ায় অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের সময় দূষিত মাংস খাওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে খেলোয়াড়দের সতর্ক করতে ব্যর্থ হয়েছিল ডব্লিউটিএ। তবে নিউ ইয়র্কের ডিস্ট্রিক্ট জজ অ্যান্ড্রু কার্টার মুরের এই দাবি নাকচ করে দিয়ে মামলাটি বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
ডোপিং বিতর্ক ও নিষেধাজ্ঞার পেছনের গল্প
২০২২ সালের এপ্রিলে বোগোটায় অনুষ্ঠিত একটি ডব্লিউটিএ ২৫০ ইভেন্টে মুরের শরীরে নিষিদ্ধ ন্যানড্রোলোন এবং বোল্ডেনোন পাওয়া যায়। প্রথমে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে একটি স্বাধীন ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছিল যে এই ঘটনার পেছনে দূষিত মাংসই দায়ী এবং এতে মুরের কোনো “ভুল বা অবহেলা” ছিল না।
কিন্তু পরবর্তীতে ইন্টারন্যাশনাল টেনিস ইন্টিগ্রিটি এজেন্সি (ITIA) এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। গত বছর কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টস (CAS) আইটিআইএ-এর পক্ষে রায় দেয় এবং মুরকে ২০২৮ সালের শুরু পর্যন্ত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
মুরের ক্ষোভ ও আদালতের রায়
নিষেধাজ্ঞার পর মুর আমেরিকান আরবিট্রেশন অ্যাসোসিয়েশনের দ্বারস্থ হন। তাঁর দাবি ছিল, কলম্বিয়ায় দূষিত মাংসের ব্যাপারে ডব্লিউটিএ-এর নীরবতা এবং পরবর্তীতে নিজের অবহেলার দায় খেলোয়াড়ের ঘাড়ে চাপানোই তাঁর এই পজিটিভ রেজাল্টের মূল কারণ। কিন্তু আরবিট্রেটর সিএএস-এর রায়কেই সমর্থন করেন।
এরপর ক্ষতিপূরণ দাবি করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে মামলা করেন একসময় ডাবলসে বিশ্বের ৭৭ নম্বর র্যাঙ্কিংয়ে থাকা এই তারকা। তবে আদালত জানিয়েছে, মুরের এই দাবির কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
সবসময় ইচ্ছাকৃতভাবে ডোপিংয়ের বিষয়টি অস্বীকার করে আসা মুর আদালতের এই রায়ের পর বিবিসি স্পোর্টসকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “এই পুরো ঘটনাটি আমার কাছে একটি দুঃস্বপ্নের মতো। এটিই প্রমাণ করে যে টেনিসের অ্যান্টি-ডোপিং সিস্টেম কতটা ত্রুটিপূর্ণ।”
