![]()
উত্তর আয়ারল্যান্ডের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সংঘাতের ঐতিহাসিক কেন্দ্রবিন্দু পোর্টডাউন শহরের ক্যাথলিক সংখ্যাগরিষ্ঠ ‘গারভাঘি রোড’ এলাকার ওপর দিয়ে প্রোটেস্ট্যান্ট সংগঠন ‘অরেঞ্জ অর্ডার’-এর বহুল বিতর্কিত পথমিছিল বা প্যারেড করার অনুমতি দিয়েছে হাইকোর্ট। আপিল আদালত শনিবারে জারি করা সাময়িক নিষেধাজ্ঞা বাতিল করার পর, আজ রবিবার ভোরে হাইকোর্ট স্থানীয় অধিবাসীদের আপিল চূড়ান্তভাবে খারিজ করে দেয়। এর মাধ্যমে প্রায় ২৮ বছর পর স্থানটিতে মিছিলের পথ সুগম হলো, যা অঞ্চলে নতুন করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
- ⚖️ আদালতের সবুজ সংকেত: উত্তর আয়ারল্যান্ড হাইকোর্ট স্থানীয় অধিবাসীদের আবেদন খারিজ করে অরেঞ্জ অর্ডারকে মিছিলের অনুমতি দিয়েছে।
- 🚫 ২৮ বছরের নিষেধাজ্ঞা অবসান: ১৯৯৮ সালের ঐতিহাসিক ‘গুড ফ্রাইডে চুক্তি’র পর থেকে সংঘাত এড়াতে রুটটি বন্ধ ছিল।
- ✊ শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব রাজপথে: উত্তর আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও’নিল ও সিন ফেইন প্রধান মেরি লু ম্যাকডোনাল্ডের সরাসরি প্রতিবাদ।
- 📜 কঠোর শর্তাবলী: মিছিলে সর্বোচ্চ ৩৫ জন অংশ নিতে পারবেন, কোনো বাদ্যযন্ত্র বা বাড়তি সমর্থক অনুমতি পাবেন না।
ক্যাথলিক এলাকায় প্রতিবাদ ও সিন ফেইনের অবস্থান
আদালতের রায়ের পরপরই রবিবার ভোরে গারভাঘি রোড এলাকায় শত শত ক্যাথলিক ও আইরিশ জাতীয়তাবাদী বাসিন্দা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু করেন। উক্ত প্রতিবাদী জনতার মিছিলে সরাসরি যোগ দেন উত্তর আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার ও আইরিশ ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট পার্টি ‘সিন ফেইন’-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট মিশেল ও’নিল এবং দলটির প্রধান মেরি লু ম্যাকডোনাল্ড।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে সিন ফেইন প্রধান মেরি লু ম্যাকডোনাল্ডকে বলতে শোনা যায়, “অন্ধকারের শক্তিগুলো আমাদের একটি নতুন ও ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড গঠনে বাধা দিতে চাইতে পারে, তবে তারা নিশ্চিতভাবেই ব্যর্থ হবে।”
ডিইউপি নেত্রীর বক্তব্য ও সংঘাতের ঐতিহাসিক পটভূমি
অন্যদিকে প্রোটেস্ট্যান্টপন্থী ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির (DUP) এমপি কার্লা লকহার্ট আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের বলেন, “আইনের শাসন মেনে চলা সিন ফেইন এবং অন্যান্য জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক নেতাদের দায়িত্ব। আদালতের রায় অনুযায়ী ঐতিহ্যবাহী এই মিছিলকে শান্তিপূর্ণভাবে অতিক্রম করতে দেওয়া উচিত।”
উল্লেখ্য, গারভাঘি রোডের এই রুট নিয়ে বিরোধ মূলত উত্তর আয়ারল্যান্ডের তিন দশকের রক্তক্ষয়ী সংঘাত (‘দ্য ট্রাবলস’)-এর অন্যতম বড় প্রতীক। অরেঞ্জ অর্ডারের বার্ষিক এই কুচকাওয়াজকে ঘিরে প্রতি বছরই দাঙ্গা ও সহিংসতা ঘটতো। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৮ সালে ঐতিহাসিক ‘গুড ফ্রাইডে চুক্তি’ স্বাক্ষরের মাধ্যমে সহিংসতা থামলে প্যারেড কমিশন এই রুটে মিছিল নিষিদ্ধ করে।
প্যাারেড কমিশনের কঠোর বিধিনিষেধ
প্যারেড কমিশন গত শুক্রবার ২৮ বছর পর প্রথমবারের মতো এই রুটে শর্তসাপেক্ষে অনুমতির সিদ্ধান্ত দেয়। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিতে কমিশন অত্যন্ত কঠোর শর্তাবলী জুড়ে দিয়েছে।
কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাধারণ বিশাল প্যারেডের পরিবর্তে এতে সর্বোচ্চ ৩৫ জন অরেঞ্জ অর্ডার সদস্য অংশ নিতে পারবেন। মিছিলটি সকাল ৮টার মধ্যে শুরু হয়ে ৯টা ৩০ মিনিটের মধ্যে শেষ করতে হবে। এছাড়া মিছিলে কোনো ব্যান্ডদল বাজনা বাজাতে পারবে না এবং কোনো বহিরাগত সমর্থক মিছিলে হাঁটার সুযোগ পাবেন না।
উত্তর আয়ারল্যান্ডের পোর্টডাউন প্যারেড বিতর্কের সাময়িক বিবরণ
| বিষয় | সংশ্লিষ্ট পক্ষ / স্থান | ঘটনা ও সিদ্ধান্ত |
|---|---|---|
| আদালতের রায় | উত্তর আয়ারল্যান্ড হাইকোর্ট | ক্যাথলিক এলাকার ওপর দিয়ে অরেঞ্জ অর্ডারের মিছিলের অনুমতি বহাল। |
| বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ | গারভাঘি রোড (সিন ফেইন নেতৃত্ব) | ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও’নিল ও মেরি লু ম্যাকডোনাল্ডের নেতৃত্বে সমাবেশ। |
| আইনের শাসনের দাবি | ডিইউপি (কার্লা লকহার্ট এমপি) | জাতীয়তাবাদীদের আদালতের রায় মেনে নিয়ে শান্তিপূর্ণ চলাচলের আহ্বান। |
| নির্ধারিত শর্তাদি | প্যারেড কমিশন | সর্বোচ্চ ৩৫ সদস্য, সকাল ৮:০০ – ৯:৩০ সময়সীমা, কোনো ব্যান্ড বা বাড়তি সমর্থক নিষিদ্ধ। |
