![]()
বিগত ১৭ বছরে যারা গুম, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছে, সেই আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শক্তিকে আর কোনো দিন বাংলাদেশের মাটিতে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের আর কোনো ঠাঁই নেই।
- 🚫 রাজনীতিতে নিষেধাজ্ঞা: গণহত্যা ও গুমের সঙ্গে জড়িত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শক্তিকে রাজনীতিতে আর সুযোগ দেওয়া হবে না।
- ⚖️ বিচার ও ট্রাইব্যুনাল: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করা হবে; প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানো হবে।
- 🇮🇳 শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ: মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তির মাধ্যমে ফেরানোর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অব্যাহত।
- 🗣️ সংস্কৃতি পরিবর্তন: দলীয় নেতাকর্মীদের ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্লোগান বাদ দিয়ে রাজনৈতিক ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার আহ্বান।
- ⛽ জ্বালানি মূল্য সমন্বয়: সীমান্ত দিয়ে তেল পাচার রোধে সাময়িক মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে; বিশ্ববাজারে দাম কমলে দেশেও কমবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার ও শেখ হাসিনাকে ফেরানোর আহ্বান
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ধোলাইখাল–সংলগ্ন সাদেক হোসেন খোকা মাঠে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল বৈঠক ও ডিসেম্বরে দেশে ফেরার আলোচনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ও ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত একজন আসামি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরত চাওয়া হয়েছে। আমরাও চাই তিনি দেশে ফিরে আসুক এবং বিচারের মুখোমুখি হোক।” সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের আশ্রয়দাতা দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানের বিচার সম্পন্ন করা হচ্ছে; আসামিরা চাইলে আপিলের সুযোগ পাবেন, তবে সাজা ভোগ বা বিচার থেকে রক্ষা পাওয়ার সুযোগ নেই।
ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্লোগান পরিহার ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির বদল
রাজনৈতিক সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “কোনো ব্যক্তির নামে স্লোগান দেওয়া আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি হতে পারে না। গণ-অভ্যুত্থান আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে। এখন থেকে স্লোগান হবে রাজনৈতিক, যা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই এবং শহীদদের রক্তকে মর্যাদা দেওয়ার কথা বলবে।”
সরকারের ৭ মাসের সাফল্য ও জ্বালানি তেলের দামের ব্যাখ্যা
সরকারের সাত মাসের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ব্যাপক জন-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে গঠিত হয়েছে। সরকার যখন রাজনৈতিক শৃঙ্খলা, সাংবিধানিক সংস্কার ও গণতন্ত্র সুসংহত করতে কাজ করছে, তখন কিছু গোষ্ঠী সাত মাসের মাথায় সরকার পতনের এক দফা ও লংমার্চের হুংকার দিচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। চার বছরের মাথায় আন্দোলনের যুক্তি থাকলেও এত অল্প সময়ে এটি অবাস্তব।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে তিনি বলেন, সীমান্ত দিয়ে তেল পাচার রোধ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে সর্বনিম্ন মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। সাময়িক এই কষ্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি আশ্বাস দেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমামাত্রই দেশেও আনুপাতিক হারে দাম কমিয়ে আনা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সারসংক্ষেপ
| বিষয়বস্তু | সরকারি অবস্থান ও সিদ্ধান্ত |
|---|---|
| আওয়ামী লীগের রাজনীতি | ১৭ বছরের গণহত্যা ও গুমের জন্য বাংলাদেশের মাটিতে রাজনীতি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধের ঘোষণা। |
| শেখ হাসিনার বিচার ও প্রত্যর্পণ | বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ভারতকে চিঠি; আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার নিশ্চিত করা হবে। |
| রাজনৈতিক সংস্কৃতি | ব্যক্তিপূজার স্লোগান বাদ দিয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী ও শহীদের স্মরণে রাজনৈতিক স্লোগান চালুর নির্দেশ। |
| জ্বালানি তেলের দাম | পাচার রোধে সাময়িক সর্বনিম্ন সমন্বয়; বিশ্ববাজারে মূল্য হ্রাস পেলেই বাংলাদেশেও কমানো হবে। |
