![]()
শিরোনাম: ২০২৬ বিশ্বকাপ কেন হতে যাচ্ছে ‘বুড়োদের’ আসর? মেসি-রোনালদোর সাথে নেইমারের অবসর না নেওয়ার নেপথ্যে
| স্পোর্টস ডেস্ক, টাচবাংলাদেশ
ফুটবল দুনিয়ায় বয়স যে কেবলই একটি সংখ্যা, তা আরও একবার প্রমাণ হতে যাচ্ছে আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে। ৪১ বছরের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি থেকে শুরু করে ৩৪ বছরের নেইমার জুনিয়র—ফুটবলের এই মহাযজ্ঞে এবার দেখা মিলবে একঝাঁক অভিজ্ঞ ও প্রবীণ তারকার। বয়সের ভার কিংবা চোটের আঘাতে যেখানে একসময় ফুটবলাররা বুটজোড়া তুলে রাখতেন, সেখানে এই তারকারা এখনো বিশ্বমঞ্চে দাপট দেখানোর জন্য প্রস্তুত। কিন্তু কেন তারা অবসর নিচ্ছেন না? কেনই বা এবারের বিশ্বকাপকে বলা হচ্ছে ‘বুড়োদের আসর’? চলুন, বিস্তারিত জেনে নিই।
১. পরিসংখ্যান ও ‘ফোর্টি প্লাস’ (40+) ক্লাবের রেকর্ড:
এবারের বিশ্বকাপটি আক্ষরিক অর্থেই প্রবীণদের বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে। ব্রাজিলের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘ও গ্লোবো’-এর একটি সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এবারের আসরে অন্তত ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সী ৮ জন ফুটবলার মাঠে নামতে যাচ্ছেন। ফুটবল ইতিহাসে ১৯৩০ থেকে গত আসর পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৪০ ঊর্ধ্ব খেলোয়াড় যেখানে ছিলেন মাত্র ৮ জন, এবার এক আসরেই সেই রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলছে ফুটবল বিশ্ব!
এই তালিকায় আছেন স্কটল্যান্ডের ক্রেগ গর্ডন (৪৩), পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (৪১), মেক্সিকোর ওচোয়া, ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদরিচ, জার্মানির ম্যানুয়েল নয়ার এবং উরুগুয়ের ফার্নান্দো মুসলেরার মতো তারকারা। এর সাথে ৩৯ বছর বয়সে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নামছেন রেকর্ড আটবারের ব্যালনে ডি’অর জয়ী লিওনেল মেসি।
২. চোট মাড়িয়ে ৩৪-এও ব্রাজিলের প্রধান ভরসা নেইমার:
তালিকায় মেসি-রোনালদোর চেয়ে বয়সে কিছুটা তরুণ হলেও ৩৪ বছর বয়সী নেইমার জুনিয়র এই প্রবীণ প্রজন্মের অন্যতম বড় প্রতিনিধি। ক্যারিয়ার জুড়ে একের পর এক মারাত্মক চোটের আঘাত, বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ের পেশির চোটের কারণে এখনো তিনি পুরোপুরি ফিট হতে পারেননি। ব্রাজিলের প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতেও তাকে দর্শক হয়ে থাকতে হয়েছে এবং বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে তার খেলা নিয়েও কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে।
তা সত্ত্বেও নেইমারকে ঘিরেই সেলেসাওদের হেক্সা (ষষ্ঠ শিরোপা) জয়ের স্বপ্ন আবর্তিত হচ্ছে। নেইমার নিজেও মনে করেন, ট্রফি যাই হোক না কেন, ফুটবলে তার স্থায়ী জায়গা তৈরি হয়ে গেছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “আমি মনে করি ফুটবলে আমার লিগাসি তৈরি হয়ে গেছে। ফুটবলের ইতিহাসে আমি নিজের নাম খোদাই করে রেখে যেতে পেরেছি।” সান্তোস, বার্সেলোনা কিংবা পিএসজির হয়ে খেলা এই তারকা মূলত তার অদম্য মানসিকতার জোরেই এই বয়সেও বিশ্বমঞ্চে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
৩. কেন অবসর নিচ্ছেন না এই কিংবদন্তিরা?
বয়স বাড়লেও এই মহাতারকাদের মাঠ কাঁপিয়ে বেড়ানোর পেছনে কয়েকটি মূল কারণ কাজ করছে:
ক্রীড়া বিজ্ঞান ও আধুনিক চিকিৎসা: আধুনিক ফুটবলে স্পোর্টস সায়েন্স এবং উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থার কারণে খেলোয়াড়রা গুরুতর চোট (যেমন নেইমারের এসিএল বা পেশির চোট) কাটিয়েও দ্রুত মাঠে ফিরতে পারছেন। উন্নত রিকভারি মেথডের কারণে তারা দীর্ঘ সময় শীর্ষ স্তরে ফিটনেস ধরে রাখছেন।
ব্যক্তিগত ডেডিকেশন ও বাড়তি অনুশীলন: তারকারা এখন ক্লাবের বাইরেও নিজস্ব ফিটনেস কোচের অধীনে কাজ করেন। যেমন মেসি কিংবা রোনালদোরা দলগত অনুশীলনের বাইরেও কঠোর ডায়েট ও বাড়তি জিম সেশন করেন, যা তাদের শরীরকে তরতাজা রাখছে।
ট্যাকটিকাল ম্যালেবিলিটি (খেলার ধরনে পরিবর্তন): বয়স বাড়ার সাথে সাথে মেসি, রোনালদো কিংবা নেইমাররা মাঠের সব জায়গায় অকারণে দৌড়ান না। তারা এখন ট্যাকটিক্যালি অনেক বেশি ম্যাচিউরড। মাঠে তাদের পজিশনিং এমনভাবে সাজানো হয়, যাতে কম শক্তি খরচ করেও সর্বোচ্চ প্রভাব (Impact) ফেলা যায়।
তারুণ্যের গতি আর এই ‘বুড়ো’ তারকাদের অসীম অভিজ্ঞতার রাজকীয় লড়াই ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা আসরে রূপ দেবে, তা বলাই বাহুল্য।
-
ন্যূনতম ৪০ বছর বয়সে এবার বিশ্বকাপ মাতাতে আসা আট ফুটবলার হলেন:
