Touch Bangladesh
ঢাকারবিবার , ২৬ জুলাই ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  6. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  7. নতুন কর্মের খোঁজে
  8. নিত্যদিনের জীবন
  9. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  10. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  11. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  12. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  13. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  14. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
  15. সাম্প্রতিক বিশ্ব
আলোচিত সপ্তাহের খবর

যে ক্ষমাতে স্বর্গ কেঁপে উঠেছিল,এক শহীদের রক্ত,এক ঘাতকের অশ্রু

প্রতিবেদক
Louis Daru
জুলাই ২৬, ২০২৬ ৪:১৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Loading


।। ধন্যা রানী মারিয়া ভাত্তালিল
🖋️জেরী মার্টিন গমেজ

যখন এই লেখাটা লিখছিলাম,এখন সিস্টারের জীবনের উপর নির্মিত সিনেমাটা দেখছিলাম।সিস্টার রানী মারীয়া -এ স্টোরী অফ ফরগিভনেস। বিশ্বাস করেন,ছেলে হয়েও চোখের পানি ধরে রাখতে পারি নি।সিমেমার লিংক টা কমেন্ট বক্সে দিয়ে দিব।

সকাল তখন সোয়া আটটা। মধ্যপ্রদেশের এক প্রত্যন্ত জঙ্গলঘেরা পথ ধরে একটা বাস উদয়নগর থেকে ইন্দোরের দিকে এগিয়ে চলেছে। জানালার পাশে বসে আছেন একচল্লিশ বছরের এক সন্ন্যাসিনী — সাদা শাড়ি, শান্ত মুখ, হাতে জপমালা। তিনি জানেন না, এই যাত্রাই তাঁর শেষ যাত্রা। তিনি জানেন না, তাঁরই সঙ্গে একই বাসে বসে আছে সেই মানুষটি, যাকে টাকা দিয়ে ভাড়া করা হয়েছে তাঁকে হত্যা করার জন্য।
“তিনি চুরি করেননি। কাউকে আঘাত করেননি। তাঁর অপরাধ একটাই — তিনি গরিবদের নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখিয়েছিলেন।”

কেরালার মেয়ে, উত্তরের মাটিতে!!

তাঁর জন্ম কেরালার কোচির কাছে পুল্লুভাঝি নামের এক ছোট্ট গ্রামে, ১৯৫৪ সালের ২৯ জানুয়ারি — এক সিরো-মালাবার ক্যাথলিক পরিবারে। জন্মনাম মারিয়া ভাত্তালিল। ১৯৭২ সালে তিনি যোগ দেন ফ্রান্সিসকান ক্লারিস্ট কংগ্রিগেশনে (FCC), আর হয়ে ওঠেন সিস্টার রানী মারিয়া।তিনি চাইলে দক্ষিণের নিরাপদ কোনো কনভেন্টে জীবন কাটিয়ে দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি বেছে নিলেন কঠিনতম পথ — উত্তর ভারতের সেইসব বিস্মৃত গ্রাম, যেখানে দারিদ্র্য, শোষণ আর অবিচার ছিল রোজকার নিয়তি। উত্তরপ্রদেশের বিজনোর, মধ্যপ্রদেশের সাতনা — এক এক করে তিনি আদিবাসী আর দলিত সম্প্রদায়ের মাঝে কাজ করলেন। তারপর, ১৯৯২ সালে, তিনি এলেন উদয়নগরে।

যে কাজ শত্রু তৈরি করল!!

সিস্টার রানী শুধু দান-খয়রাত করতে আসেননি। তিনি চেয়েছিলেন সেই শৃঙ্খলটাই ভেঙে দিতে, যা মানুষকে চিরকাল গরিব করে রাখে। তিনি ভূমিহীন শ্রমিক, বিধবা, আর অসহায় পরিবারগুলোর মধ্যে গড়ে তুললেন স্বনির্ভর গোষ্ঠী। শেখালেন কীভাবে একসঙ্গে সঞ্চয় করতে হয়, কীভাবে মহাজনের চড়া সুদের নাগপাশ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ক্যাম্প করে তিনি গ্রামবাসীদের জানালেন সরকারি ভর্তুকি আর ঋণের কথা।
জীবনে প্রথমবার গরিব গ্রামবাসীরা সর্বনাশা সুদ ছাড়া টাকা ধার করতে শিখল। জীবনে প্রথমবার তারা মুক্ত হতে শুরু করল। আর ঠিক এখানেই বাধল বিপত্তি। স্থানীয় মহাজন আর ভূস্বামীরা দেখল, তাদের নিয়ন্ত্রণ আলগা হয়ে যাচ্ছে।
তারপর এল সেই মুহূর্ত। ১৯৯৪ সালের ডিসেম্বরে সেমলিয়া রাইমাল গ্রামের লোকজন আর আদিবাসীদের মধ্যে একটা সংঘর্ষ বাধল। জীবন সিং নামে এক মহাজন আহত হলো, আর সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া আদিবাসীদের সিস্টার রানী জামিনে ছাড়িয়ে আনলেন। সেই একটি ঘটনাই হয়ে উঠল মৃত্যুর পরোয়ানা। ঘাতক নিজেই পরে বলবে — “ওটাই ছিল সবকিছুর শুরু।”

“আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমি এখানে এসেছি গরিব আর নিপীড়িতদের জন্যই।” — সেন্ট রানী মারিয়া

সেই সকাল: ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৫
সেদিন সকাল সোয়া আটটায় সিস্টার রানী মারিয়া উদয়নগর থেকে ইন্দোরগামী বাসে উঠলেন। গন্তব্য কেরালা — ভোপাল থেকে ট্রেন ধরে নিজের গ্রামে যাওয়ার কথা। কিন্তু বাসে আগে থেকেই বসে ছিল সমন্দর সিং, জীবন সিং, আর তাদের সহযোগী ধর্মেন্দ্র।
বাসটি যখন নাচানবোর পাহাড়ে উঠতে শুরু করল, সমন্দর ছুরি বের করল। ভরা যাত্রীদের সামনে, প্রকাশ্য দিবালোকে, সে সিস্টারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। বাস থামল। সে টেনে-হিঁচড়ে তাঁকে নামিয়ে আনল রাস্তায়, আর চালিয়ে যেতে থাকল ছুরি — একবার, আরেকবার, বারবার। যাত্রীরা ভয়ে পাথর হয়ে গিয়েছিল; কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারেনি, কেউ কেউ আতঙ্কে পালিয়ে গেল।

চুয়ান্নটি ক্ষত ছিন্নভিন্ন করে দিল তাঁর শরীর। একটি আঘাত পাঁজর ভেদ করে বিদ্ধ করল তাঁর হৃদয়। কিন্তু শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত সেই সন্ন্যাসিনীর ঠোঁটে কোনো অভিশাপ ছিল না, কোনো ঘৃণা ছিল না। ছিল শুধু একটি নাম — বারবার ফিসফিসিয়ে তিনি উচ্চারণ করছিলেন: “যীশু! যীশু!”
সকাল দশটা পঁয়তাল্লিশ মিনিটে পুলিশ কনভেন্টে ফোন করে জানাল — তাঁদের বোন আর নেই, তাঁর নিথর দেহ তখনও পড়ে আছে রাস্তার ধারে। সমন্দর ততক্ষণে রক্তমাখা জামা পরেই পালিয়ে গেছে ঘন জঙ্গলে। তিন দিন পর সে ধরা পড়ল।

সাত বছরের নিঃসঙ্গতা!!

আদালত সমন্দরকে প্রথমে মৃত্যুদণ্ড, পরে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল। কিন্তু যারা তাকে ভাড়া করেছিল, সেই ভূস্বামীরা মুখ ফিরিয়ে নিল। এমনকি তার নিজের পরিবারও একে একে দেখা করা বন্ধ করল। জেলের অন্ধকারে সে বুঝল — যা করেছে, তার ভার তাকে একাই বইতে হবে।
অপরাধবোধ তাকে ভেতর থেকে কুরে কুরে খাচ্ছিল। সে পরে স্বীকার করে যে, ক্ষমা পাওয়ার আগে পর্যন্ত তার পরিকল্পনা ছিল ভয়ংকর — যে দুই ব্যক্তি তাকে খুনে প্ররোচিত করেছিল, তাদের হত্যা করে তারপর নিজেই আত্মহত্যা করবে। সাত বছর এভাবেই কাটল। আর তখনই এল সেই মানুষটি, যিনি বদলে দিলেন সবকিছু।

ফাদার মাইকেল পোরাত্তুকারা: সেতুবন্ধনকারী!!

২০০২ সালের মার্চ। ইন্দোর সেন্ট্রাল জেলে এক অপ্রত্যাশিত অতিথি এলেন — ফাদার মাইকেল পোরাত্তুকারা, একজন CMI (কারমেলাইটস অফ মেরি ইম্যাকুলেট) যাজক, যিনি বন্দিদের মধ্যে কাজ করতেন এবং হিন্দুদের কাছে “স্বামী সদানন্দ” নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি সমন্দরের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেন।
সমন্দর ছুটে গেল জেল সুপারিন্টেন্ডেন্টের কাছে: “আমি তো কোনো স্বামীকে চিনি না। উনি কেন আমাকে দেখতে চান?” সুপারিন্টেন্ডেন্ট বললেন, “বিষয়টা সিস্টার রানী মারিয়াকে নিয়ে। ওই লোকটি বলছেন তিনি তাঁর ভাই। দেখা করতে দোষ কী?”
ফাদারের দুই মাস আর পাঁচবারের সাক্ষাৎ লাগল সমন্দরকে বিশ্বাস করাতে যে রানী মারিয়ার পরিবার তাকে ক্ষমা করেছে। সমন্দর বারবার জিজ্ঞেস করত — “আমি আপনাকে বিশ্বাস করি স্বামীজি, কিন্তু আপনি কি নিশ্চিত? কারণ আমি তো তাদের ক্ষমা অর্জনের মতো কিছুই করিনি।” ফাদারের উত্তর ছিল একটাই: “তুমি সাত বছর জেল খেটেছ। তুমি অনুতপ্ত। তুমি যথেষ্ট কষ্ট পেয়েছ।”

রাখির সুতোয় বাঁধা এক ঘাতক!!

যিনি ক্ষমা করতে এলেন, তিনি রানী মারিয়ার আপন ছোট বোন — সিস্টার সেলমি পল, এবং তিনিও একই ফ্রান্সিসকান ক্লারিস্ট কংগ্রিগেশনের সন্ন্যাসিনী। এক বোন শহীদ হলেন, আর অন্য বোন হয়ে উঠলেন ক্ষমার জীবন্ত প্রতিমূর্তি।
সেলমি বহুদিন লেগে বুঝেছিলেন — তাঁর বোনের মৃত্যু ছিল ঈশ্বরের কোনো এক গভীর পরিকল্পনা, আর সমন্দর ছিল নিছক একটা যন্ত্র। এই উপলব্ধিই তাঁকে ক্ষমার শক্তি জোগাল।
২০০২ সালের ২১ আগস্ট — রক্ষাবন্ধনের দিন। এখানে ভাগ্যের এক অদ্ভুত সমাপতন: সেলমি জেলের দিকে যাচ্ছিলেন আরেকটি বাসে। পিথমপুর থেকে ইন্দোর জেল পর্যন্ত পঁয়তাল্লিশ মিনিটের সেই যাত্রায় মিনিবাসের সাত আরোহী — ছয় সিস্টার আর ফাদার সদানন্দ — পুরো পথ নিঃশব্দ। সেলমি শুধু প্রার্থনা করছিলেন: “প্রভু, আমাকে ক্ষমা করার শক্তি দাও।”
এক বোনকে বাস কেড়ে নিয়েছিল মৃত্যুর দিকে। আরেক বোনকে বাস নিয়ে চলল ক্ষমার দিকে।

জেলে সমন্দর কাঁপছিল। দুই হাত জোড় করে, মুখ ফিরিয়ে, কাঁদতে কাঁদতে সে বলল: “মাফ করনা। বহুত বড়ি গলতি হুই হ্যায়।” (ক্ষমা করবেন। ভীষণ বড় ভুল হয়ে গেছে।) সেলমি এগিয়ে গেলেন। বললেন: “আমরা তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছি। মনে কিছু রেখো না। সবার সঙ্গে ভালো থেকো।” — আর সেই হাতে, যে হাত তাঁর বোনকে চুয়ান্নবার ছুরিকাঘাত করেছিল, তিনি বেঁধে দিলেন রাখি।

সেলমি পরে বলেছিলেন: “বিশ্বাস করা কঠিন, কিন্তু সেই মুহূর্ত থেকে আমি অনুগ্রহ পেলাম — মনে হলো, সে যেন আমার নিজের ভাই।”

যে হাত ছুরি ধরেছিল, সেই হাতে মায়ের চুম্বন!!

কিন্তু ক্ষমার সবচেয়ে অবিশ্বাস্য অধ্যায়টা তখনও বাকি ছিল। ২০০৩ সালে রানী মারিয়ার বৃদ্ধা মা এলিশ্বা ভাত্তালিল নিজে এলেন জেলে। তারপর যা করলেন, তা মানবিক যুক্তির সীমা ছাড়িয়ে যায় — যে হাত দিয়ে সমন্দর তাঁর মেয়েকে হত্যা করেছিল, সেই হাতে তিনি চুম্বন করলেন।
একজন মা, তাঁর সন্তানের হত্যাকারীর হাতে চুম্বন করছেন। কীভাবে সম্ভব? সেলমি নিজেই এর উত্তর দিয়েছিলেন এক ছাত্রকে: “সে জিজ্ঞেস করেছিল, আমি কীভাবে সিং-কে ক্ষমা করতে পারলাম। আমি বললাম — ঈশ্বর আমাকে তা করার অনুমতি দিয়েছেন। আমাদের সমাজে যেখানে প্রতিশোধকে স্বাভাবিক আর ন্যায্য মনে করা হয়, সেখানে মানুষের পক্ষে এভাবে ক্ষমা করা সম্ভব নয়।”

তৃতীয় ছেলে!!

ক্ষমা শুধু একটা মুহূর্তে থেমে থাকল না — সেটা রূপ নিল সম্পর্কে। সেলমি, তাঁর বাবা-মা আর চার্চ কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজে সই করলেন, আর ২০০৬ সালে প্রায় বারো বছর কারাভোগের পর সমন্দর মুক্তি পেল।
মুক্ত হয়ে সে ছুটে গেল কেরালার পুল্লুভাঝিতে, সেলমির পরিবারের কাছে। সে বিশ্বাসই করতে পারছিল না — যে নারীকে সে খুন করেছিল, তাঁর পরিবার তাকে গ্রহণ করেছে নিজেদের “তৃতীয় ছেলে” হিসেবে। তবে এই নতুন জীবনের একটা মূল্যও ছিল: জেলে থাকতেই তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল। সমন্দর আজীবন একা থাকার সিদ্ধান্ত নিল।
সে খ্রিস্টান হয়নি — তার হৃদয় বদলে গেছে।।
অনেকে ভাবেন, সমন্দর নিশ্চয়ই খ্রিস্টান হয়ে গিয়েছিল। কিছু সংবাদমাধ্যম তেমনটাই প্রচার করেছিল। কিন্তু সমন্দর নিজে স্পষ্ট করে বলেছেন — তিনি একজন নিষ্ঠাবান হিন্দু, কখনও ধর্ম পরিবর্তনের কথা ভাবেননি। বরং সেই মিথ্যা প্রচার তার জীবন বিপন্ন করেছিল: হিন্দু মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলো তাকে “বিশ্বাসঘাতক” আখ্যা দিয়ে হুমকি দিয়েছিল, এমনকি প্রকাশ্যে “পুনঃধর্মান্তর” অনুষ্ঠানের পরিকল্পনাও করেছিল।

আর এখানেই লুকিয়ে আছে ক্ষমার আসল জয়। রানী মারিয়ার ক্ষমা সমন্দরকে ধর্মান্তরিত করেনি — করেছে রূপান্তরিত। একজন হিন্দু হয়েও সে আজ খ্রিস্টানদের সবচেয়ে বড় রক্ষক। তার নিজের ভাষায়: “আমি সিস্টার রানী মারিয়ার জন্য প্রার্থনা করি, আর সেইসব খ্রিস্টানদের জন্যও, যাদের অন্যায়ভাবে ধর্মান্তরের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। এটাই এখন আমার জীবন। খ্রিস্টানরা আমাদের মানুষদের মর্যাদা এনে দেয়। যারা তাদের নিপীড়ন করে, তারা ভুল তথ্যে বিভ্রান্ত।”

যে জায়গায় খুন, সেখানেই তীর্থ!!

আজ সমন্দর ফিরে গেছে তার গ্রাম সেমলিয়া রাইমালে। চাষবাস করে জীবিকা চালায়, তরুণদের চাষের পাঠ দেয়, দরিদ্র পরিবারের রোগীদের সেবা করে। আর প্রতি বছর রক্ষাবন্ধনে সে যায় ভোপালে, FCC সিস্টারদের কাছে — সেই রাখি বাঁধাতে, যা একদিন তার নরকের অন্ধকার থেকে তাকে টেনে তুলেছিল।
যে নাচানবোর পাহাড়ে সে সিস্টার রানীকে হত্যা করেছিল, ঠিক সেখানেই আজ দাঁড়িয়ে আছে এক শুভ্র স্মৃতিসৌধ। সমন্দর যখনই সময় পায়, সেখানে যায়। সে বলে, প্রথম দিকে সেখানে গেলে সে কাঁপত; এখন অনেক শান্ত। সেই সমাধিফলকে খোদাই করা আছে একটি বাণী, যা প্রায় হুবহু ক্রুশে যীশুর সেই প্রার্থনার প্রতিধ্বনি — “প্রভু, এই পাপ তার বিরুদ্ধে ধরো না।”

স্মৃতিসৌধের সামনে মোমবাতি জ্বেলে, হাত জোড় করে সমন্দর ফিসফিস করে বলে সেই একটি প্রার্থনা, যা পঁচিশ বছর ধরে তার বুকে বাজে: “দিদি, হো সকতি তো মাফ করনা।” — দিদি, যদি পারো, ক্ষমা কোরো।
রানী মারিয়ার পরিবার তাকে ক্ষমা করেছে। চার্চ তাকে ক্ষমা করেছে। কিন্তু সমন্দর আজও নিজেকে ক্ষমা করতে পারেনি।

শেষ কথা!!

মৃত্যুর পরও সিস্টার রানী মারিয়া হৃদয় বদলে দিয়েছিলেন। ঠিক এই কারণেই চার্চ তাঁকে শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে — নিছক নিষ্ঠুরভাবে খুন হয়েছেন বলে নয়, বরং তিনি নিপীড়িতের মর্যাদার জন্য প্রাণ দিয়েছেন, নির্ভয়ে ভালোবেসেছেন, আর ক্ষমা করেছেন সীমাহীনভাবে। ২০১৭ সালের ৪ নভেম্বর ইন্দোরে, পোপ ফ্রান্সিসের প্রতিনিধি কার্ডিনাল আঞ্জেলো আমাতোর হাতে তিনি ‘ধন্যা’ (Blessed) ঘোষিত হন।
সেন্ট রানী মারিয়া আমাদের মনে করিয়ে দেন — প্রকৃত পবিত্রতা লোভ আর অবিচারের ভিত্তির ওপর গড়ে ওঠা ব্যবস্থার কাছে বিপজ্জনক। কারণ যখন একটিমাত্র সাহসী আত্মা গরিবকে শেখায় যে তারাও ঈশ্বরের সন্তান — তখন গোটা শোষণের কাঠামো কেঁপে ওঠে। আর কখনও কখনও, যারা ভালোবাসার কথা সবচেয়ে জোরে বলে, পৃথিবী তাদেরই চুপ করাতে সবচেয়ে বেশি মরিয়া হয়ে ওঠে।

🖋️জেরী মার্টিন গমেজ

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।