![]()
নিউজ প্রোভাইডার
প্রশ্নফাঁস, সার্বিক পরীক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষা খাতের সীমাহীন দুর্নীতির বিরুদ্ধে ভারতে এক নজিরবিহীন ছাত্র আন্দোলন তীব্র রূপ ধারণ করেছে। রাজধানী দিল্লির বিখ্যাত যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-এর ব্যানারে সংগঠিত এই বিক্ষোভে উত্তাল পুরো দেশের ছাত্রসমাজ। রাজপথে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মূল দাবি—ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের তাৎক্ষণিক পদত্যাগ, নিরবচ্ছিন্ন প্রশ্নফাঁস বন্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইন এবং শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন।
শিক্ষার্থীদের এমন ব্যতিক্রমী নামকরণের পেছনে লুকিয়ে আছে গভীর ক্ষোভ ও প্রশাসনিক অবহেলার প্রতীকী বার্তা। ২০২৬ সালের মে মাসে বেকার তরুণ ও চাকরিপ্রার্থীদের মানসিক অবস্থা নিয়ে আদালতের একটি বিতর্কিত মন্তব্যের পর তরুণ প্রজন্ম নিজেদের অধিকার আদায়ে রূপক হিসেবে এই প্রতীকী প্ল্যাটফর্ম ‘সিজেপি’ বা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গঠন করে।
শিক্ষা খাতে দীর্ঘদিনের জমে থাকা বৈষম্য ও বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে তরুণ সমাজের হতাশা থেকে উদ্ভূত এই প্ল্যাটফর্মটি অতি দ্রুত এক বিশাল গণআন্দোলনে রূপ নেয়।
প্রতিবাদের ধারাবাহিকতায় রাজপথে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীরা সম্প্রতি সংসদ ভবনের দিকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এগিয়ে যেতে চাইলে পুলিসের সাথে তীব্র সংঘর্ষ ঘটে। পুলিশি লাঠিচার্জ ও আটকের পর আন্দোলনটি কেবল দিল্লির রাজপথেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং ছড়িয়ে পড়েছে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মহলেও। দেশ-বিদেশের নানা সামাজিক ও শিক্ষা সংগঠনগুলো শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বিশ্লেষকরা বলছেন, যুব সমাজের এই জাগরণ ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের জোরালো দাবি বর্তমান ক্ষমতাসীনদের ওপর প্রবল নীতিগত ও প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করেছে।
