![]()
আন্তর্জাতিক
ইয়েমেনে লড়াই তীব্রতর, আরামকো স্থাপনায় হামলার দাবি হুতিদের
ইয়েমেনের হুতিরা দাবি করেছে, তারা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে তেল কোম্পানি আরামকোর একটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠী এবং ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মধ্যে লড়াই তীব্রতর হওয়ার মধ্যেই এই দাবি এলো।
শনিবার এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, গোষ্ঠীটি “ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে সামরিক অভিযান” চালিয়ে রিয়াদে আরামকোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তিনি দাবি করেন, হামলাগুলো “নির্ভুল ও সরাসরি” ছিল এবং স্থাপনায় “আগুন ছড়িয়ে পড়ে”। শনিবার রিয়াদে আরামকোর একটি স্থাপনার কাছে ধোঁয়া ও আগুনের বড় স্তম্ভ উঠতে দেখা যায়।
“হুতিদের রিয়াদে হামলার দাবিটি ‘বিভ্রান্তিকর’।” — তুর্কি আল-মালিকি, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র
পরে শনিবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সৌদি গণমাধ্যমে দেওয়া মন্তব্যে বলেন, হুতিদের রিয়াদে হামলার দাবিটি “বিভ্রান্তিকর”। রোববার ভোরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, তাদের সশস্ত্র বাহিনী যুদ্ধবিমান, ড্রোন, আর্টিলারি, ক্ষেপণাস্ত্র ও স্নাইপার ব্যবহার করে তুর আল-বাহা মোর্চা ও তাইজ অক্ষে হুতিদের রিইনফোর্সমেন্টের বিরুদ্ধে ৯৭টি “নির্ভুল লক্ষ্যবস্তুতে হামলা” চালিয়েছে।
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আব্দুল্লাহ আল-নাজিলি জানান, এই হামলায় “কমপক্ষে ২৬০ হুতি যোদ্ধাকে লক্ষ্য করা হয়েছে এবং ৪৪টি সামরিক যান ধ্বংস বা অকার্যকর করা হয়েছে”।
গত মাসের শেষের দিকে হুতিরা দাবি করেছিল, তারা সৌদি আরবের পশ্চিম উপকূলের লোহিত সাগরীয় বন্দর ইয়ানবুতে আরামকো স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। সেই সময় সৌদি আরব জানিয়েছিল, তারা তায়েফ ও ইয়ানবুর দিকে নিক্ষেপ করা ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে এবং আরামকো স্থাপনায় কোনো ক্ষতি হয়নি।
এ সপ্তাহের শুরুতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, মঙ্গলবার হুতিরা মুসলিম পবিত্র শহর মদিনায় একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। ২০২২ সালের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি জুলাইয়ে ভেঙে পড়ার পর থেকে লড়াই তীব্রতর হয়েছে।
সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি হুতিরা মোখা বন্দর শহর এবং বাব-আল-মান্দাব প্রণালীর কৌশলগত দ্বীপগুলো দখল করে নেয় — যা বৈশ্বিক তেল পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। এরপর হুতি-বিরোধী বাহিনী সামনের মোর্চা স্থিতিশীল করে। লড়াই পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
২০১৪ সালে হুতিরা সানা দখল করে ইয়েমেন সরকারকে এডেনে পিছু হটতে বাধ্য করার পর থেকে দেশটি যুদ্ধে রয়েছে।
⚠️ N:B / দৃষ্টি আকর্ষণ
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-তে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জনস্বার্থে ও যুদ্ধ-পরিস্থিতি সম্পর্কে জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে পুনঃপ্রকাশ করা হয়েছে। সংবাদের মূল সূত্র আল জাজিরা (Al Jazeera)। এখানে উল্লেখিত হামলার দাবি, হতাহতের সংখ্যা, সামরিক তথ্য ও পরিস্থিতি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর নিজস্ব বক্তব্য — যা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব নয় এবং যুদ্ধ চলমান থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। সৌদি জোট হুতিদের দাবি অস্বীকার করেছে। এখানে উপস্থাপিত তথ্য, মন্তব্য বা দাবির জন্য TouchBangladesh কোনোভাবেই দায়ী নয়। ক্ষতিগ্রস্ত ও নিহত বেসামরিক মানুষদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হচ্ছে। পাঠকদের অনুরোধ — পূর্ণাঙ্গ ও যাচাইকৃত তথ্যের জন্য মূল সূত্র অনুসরণ করুন। কোনো আইনি অভিযোগ বা আপত্তি থাকলে তা সরাসরি মূল প্রকাশকের কাছে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হলো।
