![]()
রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে সশস্ত্র হামলা ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনার নেপথ্যে উঠে এসেছে জমি ও রাস্তা সংক্রান্ত বিরোধের চাঞ্চল্যকর তথ্য। দুপুরে ইসিবি চত্বরের একটি রেস্তোরাঁয় গোপন বৈঠক করে হামলার পরিকল্পনা হয়। এরপর মিরপুর অঞ্চলের দুটি শীর্ষ সন্ত্রাসী বাহিনীর ২০০ ক্যাডারকে পাঁচটি পিকআপে ও হেঁটে পাঠাত করা হয়। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
- 🎯 হামলার মূল কারণ: জমি ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে নিউগিনি প্রপার্টিজের মালিকের সঙ্গে প্রতিপক্ষের বিরোধ।
- 🍔 গোপন বৈঠক: ইসিবি চত্বরের একটি খাবারের দোকানে ১৩ জনের বৈঠকে হামলার নীলকশায় সায়।
- 🛻 ক্যাডার ও অস্ত্র সরবরাহ: ‘কিলার ইব্রাহিম’ ও ‘মফিজুর রহমান মামুন’ বাহিনী থেকে ২০০ জন ক্যাডার ৫টি পিকআপে সশস্ত্র মহড়া দেয়।
- ⚖️ আইনি অগ্রগতি: অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ ৭ জন গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে; মামলা ডিবি গুলশান বিভাগে হস্তান্তরিত।
খাবারের দোকানে গোপন বৈঠক ও লোক জোগাড়ের দায়িত্ব
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, গত ২৬ সেপ্টেম্বর হামলার দিন দুপুরে ইসিবি চত্বরের একটি রেস্তোরাঁয় ১৩ জনের এক গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে—গ্রেপ্তারকৃত শাহরিয়ার মাহমুদ ও আত্মগোপনে থাকা ঠিকাদার বিকাশ চন্দ্র শাহ। আবাসন প্রকল্পের মালিক নাজিম উদ্দিন ভুঁইয়ার সঙ্গে প্রতিপক্ষের বিরোধ পূর্ণ জমির ভবন নির্মাণের কাজ দেওয়া হয়েছিল বিকাশকে। তবে চলাচলের রাস্তা দিতে রাজি না হওয়ায় বিরোধ আরও তীব্র হয়। পরবর্তীতে বিকাশই দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে ভাড়াটে ক্যাডার জোগাড়ের দায়িত্ব নেন।
‘কিলার ইব্রাহিম’ ও ‘মামুন বাহিনী’র ২০০ সশস্ত্র ক্যাডার
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, হামলার জন্য ভাসানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম (পুলিশের খাতায় ‘কিলার ইব্রাহিম’) এবং পল্লবীর ৯১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির বহিষ্কৃত সভাপতি মফিজুর রহমান মামুনের বাহিনী থেকে লোক জোগাড় করা হয়। বিকাশ চন্দ্র শাহ বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আলম অনিকের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ঘটনার দিন বিকেল ৪টার দিকে ভাসানটেকের দেওয়ানপাড়া দোতলা মসজিদের সামনে এবং মানিকদীতে ক্যাডারদের জড়ো করা হয়। রাত ১০টা ৩০ মিনিটে অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে পাঁচটি পিকআপ ও পায়ে হেঁটে ২০০ ক্যাডার গুলিবর্ষণ করতে করতে নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে প্রবেশ করে তাণ্ডব চালায়।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর ও ডিবির তদন্ত হস্তান্তর
হামলাকারীরা আবাসন প্রকল্পের মধ্যে থাকা কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতেও ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। সালমান মুক্তাদির ভিডিওর মাধ্যমে এ ঘটনার বর্ণনা দিলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি করে। মামলাটি ক্যান্টনমেন্ট থানা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিবির উপকমিশনার আ ফ ম আনোয়ার হোসেন জানান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে রিমান্ডে রয়েছেন। পলাতক অন্যান্য আসামি ও অস্ত্র সরবরাহকারীদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে হামলার তদন্ত চিত্র
| বিষয় / ক্ষেত্র | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| ঘটনার তারিখ ও স্থান | ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে; নিউগিনি আবাসন প্রকল্প, ইসিবি চত্বর, ঢাকা |
| মূল পরিকল্পনা ও সমন্বয়ক | ইসিবি চত্বরের রেস্তোরাঁয় ১৩ জনের বৈঠক; সমন্বয়ক ঠিকাদার বিকাশ চন্দ্র শাহ |
| জড়িত সন্ত্রাসী বাহিনী | ‘কিলার ইব্রাহিম’ বাহিনী (ভাসানটেক) ও মফিজুর রহমান মামুন বাহিনী (পল্লবী) |
| গ্রেপ্তারকৃত মূল আসামি | মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ মোট ৭ জন (সবাই রিমান্ডে) |
| বর্তমান তদন্তকারী সংস্থা | ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) – গুলশান বিভাগ |
