![]()
কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে উড্ডয়নের পরপরই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজের পেছনের চাকা খুলে বিচ্ছিন্ন হওয়ার এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। পাইলটের বিচক্ষণতায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটি অত্যন্ত নিখুঁত ও নিরাপদে জরুরি অবতরণ করেছে। এই জরুরি অবতরণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার স্বার্থে প্রায় আধা ঘণ্টা শাহজালাল বিমানবন্দরের রানওয়েতে সব ধরনের ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, উড়োজাহাজে থাকা সমস্ত যাত্রী ও ক্রু সম্পূর্ণ অক্ষত ও নিরাপদ রয়েছেন।
- ✈️ ফ্লাইট ও এয়ারক্রাফট: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি-৪৩৬ (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: এস২-একেই)।
- 📍 ঘটনার বিবরণ: কক্সবাজার থেকে উড্ডয়নের সময় পেছনের চাকা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ঢাকায় জরুরি অবতরন বার্তা পাঠানো হয়।
- 🔄 আকাশে চক্কর: জ্বালানি কমিয়ে ওজন হ্রাসের জন্য টাঙ্গাইলের নাগরপুর ও দেলদুয়ারের আকাশে ৬,১০০ ফুট উচ্চতায় চক্কর।
- ⏱️ রানওয়ে বন্ধ: শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৩টা থেকে ৩:৩০টা পর্যন্ত শাহজালাল বিমানবন্দরের রানওয়ে সাময়িক বন্ধ।
- ✅ ফলাফল: ফায়ার সার্ভিস ও রেড অ্যালার্টের মধ্যে নিরাপদে অবতরণ, সব যাত্রী ও ক্রু অক্ষত।
উড্ডয়নের পরই চাকা বিচ্ছিন্ন ও এটিসিকে (ATC) জরুরি বার্তা প্রদান
বিমানবন্দর ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে কক্সবাজার রানওয়ে থেকে ঢাকার উদ্দেশে উড্ডয়ন করার পর মুহূর্তেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৪৩৬ ফ্লাইটের পেছনের একটি চাকা বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারেন ক্রুরা। তাৎক্ষণিকভাবে মূল পাইলট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারে জরুরি বার্তা (Mayday Alert) পাঠিয়ে জরুরি অবতরণের আনুষ্ঠানিক অনুমতি চান।
জ্বালানি কমাতে টাঙ্গাইলের আকাশে একাধিক চক্কর
ঝুঁকিপূর্ণ এই জরুরি অবতরণ সফল করতে উড়োজাহাজটির অতিরিক্ত ওজন কমানো অত্যাবশ্যক ছিল। ওজন কমানোর উদ্দেশ্যে পাইলট আকাশে উড়োজাহাজটির অতিরিক্ত জ্বালানি পোড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, বিমানটি টাঙ্গাইলের নাগরপুর ও দেলদুয়ার এলাকার আকাশে প্রায় ৬,১০০ ফুট উচ্চতায় ঘণ্টায় ১৮৮ নট গতিতে বেশ কয়েকবার চক্কর দিয়ে সতর্কতার সঙ্গে সময় অতিবাহিত করে।
রানওয়েতে রেড অ্যালার্ট, অবশেষে স্বস্তির নিরাপদ অবতরণ
জরুরি অবতরণের সুনির্দিষ্ট প্রস্তুতি হিসেবে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাত্ক্ষণিক রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়। বিকেল ৩টা থেকে ৩:৩০টা পর্যন্ত দীর্ঘ আধা ঘণ্টা বিমানবন্দরের প্রধান রানওয়েতে সব ধরনের বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণ বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। ফায়ার সার্ভিসের আধুনিক ইউনিট ও একাধিক অ্যাম্বুলেন্স রানওয়ের পাশে প্রস্তুত রাখা হয়। পরবর্তীতে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পাইলট উড়োজাহাজটিকে রানওয়েতে স্পর্শ করান। বিমান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে এতে কোনো যাত্রী বা ক্রু আঘাত পাননি।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৪৩৬ জরুরি অবতরণ একনজরে
| বিষয় / ক্ষেত্র | বিবরণ ও তথ্যসমূহ |
|---|---|
| ফ্লাইট ও এয়ারক্রাফট নম্বর | ফ্লাইট বিজি-৪৩৬ (রেজিস্ট্রেশন: S2-AKE) |
| প্রারম্ভিক ও গন্তব্য স্থান | কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকা |
| ঘটনার সময় ও রানওয়ে স্থবিরতা | শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬); দুপুর ৩:০০ থেকে ৩:৩০ পর্যন্ত রানওয়ে বন্ধ |
| যাত্রী ও ক্রুদের অবস্থা | সব যাত্রী ও ক্রু অক্ষত ও সম্পূর্ণ নিরাপদ |
