![]()
বিশ্ববাজারে টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পর অবশেষে কমেছে জ্বালানি তেলের দাম। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ও ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরগুলোতে হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার কারণে জ্বালানি সরবরাহের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা এখনও পুরোপুরি কাটেনি।
- 📉 দাম হ্রাসের হার: সোমবার সকালে ডব্লিউটিআই ক্রুড ২.০৭% এবং ব্রেন্ট ক্রুড ১.৮২% কমেছে।
- 🛢️ বর্তমান বাজারমূল্য: যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই প্রতি ব্যারেল ১০১.১৩ ডলারে এবং ব্রেন্ট ক্রুড ১১৪.৬০ ডলারে নেমে এসেছে।
- ⚠️ সরবরাহ উদ্বেগ: সৌদি আরবে হুথিদের হামলা অব্যাহত থাকায় তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা বজায় রয়েছে।
হুথিদের হামলা ও বাজারের প্রতিক্রিয়া
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৩২ মিনিটে মার্কিন ডব্লিউটিআই-এর দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলার ১৪ সেন্ট কমে ১০১ ডলার ১৩ সেন্টে দাঁড়ায়। একই সময়ে আন্তর্জাতিক benchmark ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ ডলার ১২ সেন্ট কমে ব্যারেলপ্রতি ১১৪ ডলার ৬০ সেন্টে নেমে আসে। এর আগে গত সপ্তাহের শেষ দিকে সৌদি আরবে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার কারণে সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় তেলের দাম প্রায় ৩ ডলার বেড়ে ছয় মাসের সর্বোচ্চ কাছাকাছি পৌঁছেছিল। সপ্তাহজুড়ে ব্রেন্টের দাম ৬ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।
শনিবার ও রোববারও সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাওয়ার দাবি করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিরা। যদিও সৌদি প্রশাসন বেশ কিছু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রধান বিমানবন্দরে আংশিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে, তবুও বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে হামলার অব্যাহত হুমকির কারণে ব্যবসায়ীরা কিছুটা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
সিঙ্গাপুরে তেল মজুত ও মার্কিন কৌশলগত পদক্ষেপ
আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল ও সুরক্ষিত করতে ২০২৭ সালের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে সিঙ্গাপুরে অপরিশোধিত তেল মজুত করার বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সৌদি আরব। সোমবার দুই দেশের জ্বালানিমন্ত্রীরা যৌথভাবে এই তথ্য প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানার একটি তেল শোধনাগারে উৎপাদন ও সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার প্রভাব সামাল দিতে দেশটির কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত থেকে ৪ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন জ্বালানি বিভাগ।
