![]()
স্পেনের রাজকীয় ও অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড ফর স্পোর্ট ২০২৬’ (Princess of Asturias Award for Sports 2026)-এ ভূষিত হয়েছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি। ওভিয়েদোর তিয়েত্রো ক্যাম্পোআমোরে আয়োজিত জমকালো এক অনুষ্ঠানে স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ স্বহস্তে এই সম্মাননা তুলে দেন। বর্ণিল ফুটবল ক্যারিয়ারের পাশাপাশি নিজের ফাউন্ডেশন ও ইউনিসেফের হয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় নিরলস অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই অনন্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। ফুটবল ইতিহাসে একক কোনো খেলোয়াড় হিসেবে এই অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার নজির এটাই প্রথম।
- 🏆 ইতিহাসে প্রথম একক ফুটবলার: ফুটবল ইতিহাসে প্রথম কোনো একক খেলোয়াড় হিসেবে এই পুরস্কার অর্জনের রেকর্ড।
- 👑 রাজকীয় সমাদর: ওভিয়েদোর তিয়েত্রো ক্যাম্পোআমোরে স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ নিজে উপস্থিত থেকে পুরস্কার তুলে দেন।
- ❤️ বাবার অন্তিম ইচ্ছা পূরণ: প্রয়াত বাবা হোর্হে মেসির শেষ ইচ্ছে রাখতেই ওভিয়েদোর মঞ্চে পা রাখেন মেসি।
- 🎁 পুরস্কারের স্মারক: ৫০ হাজার ইউরো, মেডেল, ডিপ্লোমা এবং বিশ্বখ্যাত শিল্পী হোয়ান মিরোর ডিজাইন করা বিশেষ ভাস্কর্য।
স্পেনের ‘নোবেল’ ও জুরি বোর্ডের নিবিড় নির্বাচন
স্পেনে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কারটিকে বিবেচনা করা হয় ‘স্পেনের নোবেল’ হিসেবে। বিজ্ঞান, সাহিত্য, শিল্পকলা ও ক্রীড়াসহ আটটি ক্যাটাগরিতে প্রতি বছর সেরা ব্যক্তিত্বদের এই সম্মাননা দেয় ফাউন্ডেশনটি। অতীতে দল হিসেবে ২০০২ সালে ব্রাজিল, ২০১০ সালে স্পেন এবং ২০১২ সালে ইকার ক্যাসিয়াস ও জাভি যৌথভাবে এই স্মারক পেয়েছিলেন। তবে এবার একক ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেলেন মেসি। এ বছর প্যারাঅলিম্পিক কিংবদন্তি তেরেসা পেরালিসের নেতৃত্বাধীন জুরি বোর্ড ১২টি দেশের ২৭ জন হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্য থেকে গোপন ভোটে মেসিকে নির্বাচিত করে।
বাবার অন্তিম ইচ্ছা ও লরিয়াস ওয়ার্ল্ড স্পোর্টসের ইতিহাস
এই পুরস্কারটি মেসির কাছে অর্জনের চেয়েও বেশি আবেগের। তাঁর বাবা হোর্হে মেসি মৃত্যুর পূর্বে ছেলের এই স্বীকৃতির খবর শুনে অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছিলেন এবং স্পেনে গিয়ে সম্মাননা গ্রহণের অনুরোধ করেছিলেন। বাবার সেই অন্তিম ভালোবাসা রাখতেই বিশ্বজয়ী এই তারকার ওভিয়েদোর মঞ্চে আগমন। স্পেনের এই রাজকীয় স্বীকৃতির আগেই ক্রীড়াজগতের আরেক সর্বোচ্চ চূড়া ‘লরিয়াস ওয়ার্ল্ড স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ডস’ জয় করেছিলেন তিনি। ইতিহাসের একমাত্র ফুটবলার হিসেবে দুবার (২০২০ ও ২০২৩) লরিয়াস বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ হন মেসি।
মাঠে দাবানল, বাইরে মানবিকতার হাত
কাজী নজরুল ইসলামের “আমি দাবানল দাহ, দাহ করিবো বিশ্ব” চরণটি যেন মেসির সাথে দারুণভাবে মিলে যায়। বুট জোড়া পায়ে মাঠে তিনি যেমন প্রতিপক্ষের সব প্রতিরোধ দাবানলের মতো পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছেন, তেমনি মাঠের বাইরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে ফুটিয়েছেন হাসি। শচীন টেন্ডুলকার, উসাইন বোল্ট, নাদিয়া কোমানেচিদের মতো ৬৯ জন বিশ্ব ক্রীড়া কিংবদন্তির ভোটে লরিয়াস পাওয়ার পর এবার স্পেনের সেরা সম্মানে ভূষিত হওয়া মেসির বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতারই সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
এক নজরে মেসির আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড ও সম্মাননা
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| সম্মাননার নাম | প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড ফর স্পোর্ট (২০২৬) |
| প্রদানকারী ও ভেন্যু | স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ, তিয়েত্রো ক্যাম্পোআমোর (ওভিয়েদো, স্পেন) |
| বিশেষ গৌরব | ইতিহাসে প্রথম একক ফুটবলার হিসেবে সম্মাননা লাভ |
| পুরস্কারের উপাদান | ৫০ হাজার ইউরো, মেডেল, ডিপ্লোমা এবং হোয়ান মিরোর বিশেষ ভাস্কর্য |
| অন্যান্য ক্রীড়া সম্মাননা | ২ বার লরিয়াস ওয়ার্ল্ড স্পোর্টসম্যান অব দ্য ইয়ার (২০২০, ২০২৩) |
| মানবিক অবদান | লিও মেসি ফাউন্ডেশন ও ইউনিসেফের মাধ্যমে শিশুদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা নিশ্চিতকরণ |
