![]()
ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অলৌকিক ও রোমাঞ্চকর রাত ছিল ২০১৯ সালের ৭ মে-র অ্যানফিল্ড। ন্যু ক্যাম্পে প্রথম লেগে ৩-০ ব্যবধানে হেরে ব্যাকফুটে থাকা লিভারপুল ঘরের মাঠে বার্সেলোনাকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ৪-৩ অ্যাগ্রিগেটে ফাইনালের টিকিট কাটে। ইনজুরির কারণে দলের দুই মূল স্তম্ভ মোহাম্মদ সালাহ এবং রবের্তো ফিরমিনোকে ছাড়া মাঠে নেমেই এই অবিশ্বাস্য ইতিহাস রচনা করে ইয়ুর্গেন ক্লপের শিষ্যরা।
- 🏆 অলৌকিক কামব্যাক: ৩-০ গোলে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় লেগে ৪-০ গোলে জিতে ৪-৩ অ্যাগ্রিগেটে ফাইনালে লিভারপুল।
- ⚽ জোড়া গোলের নায়ক: বেলজিয়ান ফরোয়ার্ড দিভোক ওরিগি এবং বদলি খেলোয়াড় জর্জিনিও ওয়েনালডামের অনবদ্য জোড়া গোল।
- ⚡ ১৬৬ সেকেন্ডের ঝড়: দ্বিতীয়ার্ধের মাত্র ১৬৬ সেকেন্ডের ব্যবধানে পরপর দুই গোল করে খেলা সমতায় ফেরান ওয়েনালডাম।
- 🎯 আইকনিক কর্নার: ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ডের দ্রুত ও চতুর কর্নার শট থেকে ওরিগির ঐতিহাসিক চতুর্থ গোল।
আশার সূচনা ও ওয়েনালডামের বিধ্বংসী ১৬৬ সেকেন্ড
অ্যানফিল্ডের গ্যালারিভরা সমর্থকদের চিৎকারের মাঝে ম্যাচের ৭ম মিনিটেই প্রথম গোল করে কামব্যাকের সূচনা করেন দিভোক ওরিগি। তবে আসল রোমাঞ্চ শুরু হয় বিরতির পর। বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে জর্জিনিও ওয়েনালডাম মাত্র ১৬৬ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি গোল করে দুই লেগ মিলিয়ে স্কোরলাইন ৩-৩ সমতায় নিয়ে আসেন। পুরো বার্সেলোনা দল তখন অল রেডদের বিধ্বংসী আক্রমণের মুখে দিশেহারা হয়ে পড়ে।
আর্নল্ডের সেই আইকনিক কর্নার ও অ্যানফিল্ডের উল্লাস
ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম চতুর ও স্মরণীয় মুহূর্তের জন্ম দেন তরুণ রাইট-ব্যাক ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড। বার্সেলোনার ডিফেন্স যখন পজিশন নিতে ব্যস্ত, তখন আর্নল্ডের দ্রুততম নিচু কর্নার শটে পা ছুঁইয়ে বল জালে জড়ান ওরিগি। এই গোলেই ৪-০ ব্যবধান নিশ্চিত হয় এবং লিভারপুল ইউরোপসেরার আসরে লিখে ফেলে তাদের সর্বকালের সেরা রূপকথার একটি।
এক নজরে লিভারপুল বনাম বার্সেলোনা সেমিফাইনাল
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| টুর্নামেন্ট ও তারিখ | ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনাল (২য় লেগ) | ৭ মে ২০১৯ |
| ম্যাচের ফলাফল | লিভারপুল ৪ – ০ বার্সেলোনা |
| অ্যাগ্রিগেট স্কোর | ৪ – ৩ (লিভারপুল ফাইনালে উন্নীত) |
| লিভারপুলের গোলদাতা | দিভোক ওরিগি (২টি গোল), জর্জিনিও ওয়েনালডাম (২টি গোল) |
| ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট | আর্নল্ডের দ্রুততম কর্নার থেকে ওরিগির জয়সূচক গোল |
