Touch Bangladesh
ঢাকাবুধবার , ৪ নভেম্বর ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলা মুহুর্ত
  6. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  7. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  8. নতুন কর্মের খোঁজে
  9. নিত্যদিনের জীবন
  10. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  11. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  12. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  13. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  14. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  15. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
আলোচিত সপ্তাহের খবর

বারবার ইউটিআই? অ্যান্টিবায়োটিকের আগে করুন ৫ পরীক্ষা

প্রতিবেদক
Methon Mankhin
নভেম্বর ৪, ২০২৬ ৬:৪৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Loading

বারবার প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, ঘন ঘন টয়লেটে যাওয়া কিংবা অল্প অল্প করে প্রস্রাব হওয়ার সমস্যায় ভুগছেন অনেকে। অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের পর সাময়িকভাবে উপসর্গ কমলেও কিছুদিন পর আবার ফিরে আসে সংক্রমণ। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই সমস্যাকে বলা হয় ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (ইউটিআই)।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বারবার ইউটিআই হলে শুধু অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করে উপসর্গ কমানোর চেষ্টা যথেষ্ট নয়। বরং কেন সংক্রমণ বারবার ফিরে আসছে, তা খুঁজে বের করা জরুরি। কারণ ডায়াবেটিস, কিডনিতে পাথর, প্রস্রাবের পথে বাধা কিংবা মূত্রথলি পুরোপুরি খালি না হওয়ার মতো সমস্যাও এর পেছনে থাকতে পারে।

এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কয়েকটি পরীক্ষা করালে সংক্রমণের কারণ শনাক্ত করা এবং সঠিক চিকিৎসা নির্ধারণ সহজ হয়।

ইউটিআইয়ের সাধারণ লক্ষণ

প্রস্রাবের সংক্রমণ হলে সাধারণত যেসব উপসর্গ দেখা যায়—

  • প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া বা ব্যথা।
  • স্বাভাবিকের তুলনায় ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ।
  • অল্প অল্প করে বারবার প্রস্রাব হওয়া।
  • তলপেটে ব্যথা বা অস্বস্তি।
  • প্রস্রাব ঘোলা হওয়া বা রক্ত দেখা যাওয়া।
  • কখনো জ্বর ও শরীর কাঁপুনি।

তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই যে ইউটিআই হয়েছে, তা নিশ্চিত নয়। তাই নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

বারবার ইউটিআই হলে যে ৫ পরীক্ষা জরুরি

১. ইউরিন রুটিন ও কালচার পরীক্ষা

প্রস্রাবে সংক্রমণ শনাক্ত করার জন্য এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। ইউরিন রুটিন পরীক্ষায় প্রস্রাবে শ্বেত রক্তকণিকা, নাইট্রাইটসহ বিভিন্ন উপাদানের উপস্থিতি দেখা হয়। অন্যদিকে, ইউরিন কালচার পরীক্ষায় কোন ধরনের ব্যাকটেরিয়ার কারণে সংক্রমণ হচ্ছে, তা শনাক্ত করা যায়।

কালচার পরীক্ষার মাধ্যমে কোন অ্যান্টিবায়োটিক ওই ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর হবে, সেটিও জানা সম্ভব। সাধারণত রিপোর্ট পেতে কয়েক দিন সময় লাগে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সম্ভব হলে অ্যান্টিবায়োটিক শুরুর আগে প্রস্রাবের নমুনা দিতে হবে। কারণ ওষুধ সেবনের পর নমুনা দিলে কালচার পরীক্ষার ফল প্রভাবিত হতে পারে।

২. ব্লাড সুগার পরীক্ষা

ডায়াবেটিস থাকলে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে সংক্রমণের প্রবণতা এবং জটিলতার আশঙ্কা বেশি থাকে।

অনেকের ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসের প্রাথমিক পর্যায়ে স্পষ্ট কোনো লক্ষণ থাকে না। তাই বারবার ইউটিআই হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ফাস্টিং ব্লাড সুগার ও এইচবিএ১সি পরীক্ষা করানো যেতে পারে।

৩. ইউএসজি কিডনি, ইউরেটার ও ব্লাডার (কেইউবি)

কিডনি, ইউরেটার ও মূত্রথলির অবস্থা দেখতে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয়। এই পরীক্ষার মাধ্যমে কিডনি বা প্রস্রাবের পথে পাথর, কোনো ধরনের বাধা কিংবা মূত্রথলিতে প্রস্রাব জমে থাকার বিষয়টি বোঝা যায়।

বিশেষ করে প্রস্রাব করার পরও মূত্রথলি পুরোপুরি খালি না হলে সংক্রমণ বারবার ফিরে আসতে পারে। আল্ট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে প্রয়োজনে মূত্রথলিতে অবশিষ্ট প্রস্রাবের পরিমাণও নির্ণয় করা যায়।

৪. সিরাম ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা

কিডনি কতটা ভালোভাবে কাজ করছে, তা মূল্যায়নের জন্য সিরাম ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা করা হয়। রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেড়ে গেলে কিডনির কার্যকারিতা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে।

বারবার প্রস্রাবে সংক্রমণের পাশাপাশি কিডনির সমস্যা আছে কি না, তা যাচাই করতে চিকিৎসক এই পরীক্ষা দিতে পারেন।

৫. প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ পরীক্ষা

কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ পরীক্ষায় সংক্রমণের কারণ স্পষ্ট হয় না। তখন রোগীর বয়স, লিঙ্গ, উপসর্গ ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় অতিরিক্ত পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।

পুরুষদের বারবার ইউটিআই হলে প্রোস্টেটের সমস্যা আছে কি না, তা পরীক্ষা করা জরুরি। যৌনবাহিত সংক্রমণের আশঙ্কা থাকলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাও করাতে হতে পারে।

আবার প্রস্রাবের সঙ্গে বারবার রক্ত গেলে, কিডনিতে পাথরের সন্দেহ থাকলে কিংবা মূত্রনালির অন্য কোনো জটিলতা দেখা দিলে চিকিৎসক সিটি কেইউবি বা সিস্টোস্কোপির পরামর্শ দিতে পারেন।

কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

প্রস্রাবে জ্বালাপোড়ার পাশাপাশি জ্বর, কাঁপুনি, কোমর বা পিঠের এক পাশে ব্যথা, বমি কিংবা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। এসব লক্ষণ কিডনিতে সংক্রমণের ইঙ্গিত হতে পারে।

বারবার সংক্রমণ হলে প্রতিবার নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া উচিত নয়। এতে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে এবং পরবর্তী সময়ে চিকিৎসা কঠিন হয়ে যেতে পারে।

মনে রাখতে হবে, ইউটিআইয়ের চিকিৎসা শুধু সংক্রমণ কমানো নয়, বরং কেন বারবার সংক্রমণ হচ্ছে, সেই কারণ খুঁজে বের করাও জরুরি। তাই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শের ভিত্তিতেই চিকিৎসা নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।