![]()
ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোল ও নেইমারের প্রত্যাবর্তন: স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপ সেরা ব্রাজিল
উজ্জ্বল পারফরম্যান্সে বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ‘গ্রুপ সি’-এর শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরের রাউন্ডে পা রাখল কার্লো আনচেলত্তির দল। ব্রাজিলের হয়ে জোড়া গোল করেছেন তারকা ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তবে ম্যাচের সব আকর্ষণ ছাপিয়ে গ্যালারির দর্শকদের সবচেয়ে বড় উদযাপনের উপলক্ষ ছিল দীর্ঘ তিন বছর পর সেলেসাওদের জার্সিতে সুপারস্টার নেইমারের মাঠে ফেরা।
মায়ামি স্টেডিয়ামে ৬৪,৪৭৮ জন দর্শকের কানায় কানায় পূর্ণ গ্যালারির সামনে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলে ব্রাজিল। এই জয়ের পর ৩ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করল তারা। দিনের অন্য ম্যাচে হাইতিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে এই গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে মরক্কো।
ভিনিসিয়ুস ঝড়ে লণ্ডভণ্ড স্কটল্যান্ড
ম্যাচের মাত্র ৭ মিনিটেই লিড নেয় সেলেসাওরা। স্কটিশ ডিফেন্ডার স্কট ম্যাককেনার বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে তরুণ ফরোয়ার্ড রায়ান বলটি কেড়ে নিয়ে ফাঁকায় থাকা ভিনিসিয়ুসকে পাস দেন। স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গানকে পরাস্ত করে অত্যন্ত নিখুঁত টোকায় বল জালে জড়ান ২৫ বছর বয়সী এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।
প্রথম হাইড্রেশন ব্রেকের ঠিক আগে ভিনিসিয়ুস আবারও বল জালে পাঠালেও ফাউলের কারণে ভিএআর (VAR) চেক শেষে গোলটি বাতিল করেন রেফারি। তবে প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে (৪৫ মিনিটে) ব্রুনো গুইমারেসের চমৎকার ক্রস থেকে দারুণ এক হেডে নিজের দ্বিতীয় ও দলের ব্যবধান ২-০ করেন ভিনিসিয়ুস। চলতি বিশ্বকাপে এটি তার চতুর্থ গোল, যার মাধ্যমে তিনি কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হালান্ডের পাশে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় জায়গা করে নিলেন।
কুনহার গোল ও নেইমারের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধারা বজায় রাখে ব্রাজিল। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে মাঝমাঠ চিরে আরেকটি দুর্দান্ত আক্রমণ সাজায় তারা। এবারও অ্যাসিস্টের ভূমিকায় ছিলেন ব্রুনো গুইমারেস। তার বাড়ানো পাস থেকে ডিবক্সের ভেতর চমৎকার ফিনিশিংয়ে দলের হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন ম্যাথিউস কুনহা। এই বিশ্বকাপে এটি কুনহার তৃতীয় গোল।
পুরো ম্যাচে স্কটল্যান্ড কোনো প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেনি। প্রথমার্ধে ব্রাজিলের কড়া ডিফেন্সের কারণে অন-টার্গেট কোনো শটই নিতে পারেনি স্টিভ ক্লার্কের শিষ্যরা। এই হারের ফলে ৩ পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো স্কটিশদের।
