![]()
নিউজ প্রোভাইডার
বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চ থেকে সেলেসাওদের বিদায়ের ধাক্কা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি কোটি কোটি ব্রাজিল সমর্থক। মাঠের সেই চরম হতাশা আর সমালোচনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন এক চমক নিয়ে হাজির হলেন দলটির সবচেয়ে বড় পোস্টার বয় নেইমার জুনিয়র। তবে এবার কোনো ফুটবল পিচে নয়, তাকে দেখা গেল যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদার মরুশহরের জমকালো আলো আর ক্যাসিনোর টেবিলে। লাস ভেগাসে আয়োজিত বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পেশাদার তাসের প্রতিযোগিতা ‘ওয়ার্ল্ড সিরিজ অব পোকার’ (World Series of Poker – WSOP)-এ অংশ নিয়েছিলেন এই তারকা। তবে ফুটবলের মতো তাসের বোর্ডে ভাগ্য সহায় হয়নি তার; ১০ হাজার ডলারের এই মেগা আসরে প্রথম দিনেই বিদায় নিয়েছেন তিনি।
কোটি টাকার জুয়া ও বিশ্বমঞ্চের লড়াই
পেশাদার পোকার বা তাসের দুনিয়ায় ‘ওয়ার্ল্ড সিরিজ অব পোকার’কে বলা হয় এই খেলার বিশ্বকাপ। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই টুর্নামেন্টের মূল পর্বে অংশ নিতে প্রতিটি প্রতিযোগীকে ১০ হাজার মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১২ লাখ টাকারও বেশি) শুধু এন্ট্রি ফি বা প্রবেশমূল্য হিসেবে দিতে হয়। বিশ্বের বাঘা বাঘা পেশাদার জুয়াড়ি ও তাসের মাস্টারদের সাথে এই টুর্নামেন্টে টেবিল শেয়ার করেছিলেন নেইমার। কিন্তু প্রথম দিনের খেলায় একের পর এক ভুল চাল এবং প্রতিপক্ষের টেক্কা-গোলামের শক্তিশালী জুটির কাছে পরাস্ত হয়ে প্রথম রাউন্ডের শুরুতেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যান এই সাম্বা ফরোয়ার্ড।
পোকারের প্রতি নেইমারের পুরোনো প্রেম
ফুটবলপ্রেমীদের কাছে নেইমারের এই রূপ নতুন মনে হলেও, পোকার খেলার প্রতি এই ব্রাজিলিয়ান তারকার ভালোবাসা দীর্ঘদিনের। নেইমার এর আগেও বহুবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন যে, ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি একজন পুরোদস্তুর পেশাদার পোকার খেলোয়াড় হতে চান। তিনি বিশ্বখ্যাত অনলাইন পোকার সাইট ‘পোকারস্টারস’ (PokerStars)-এর অফিশিয়াল ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবেও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। এমনকি নিজের ঘরের ট্রফি ক্যাবিনেটের পাশে একটি কাস্টমাইজড দামি পোকার টেবিলও বসিয়েছেন তিনি, যেখানে অবসরে পিএসজি বা জাতীয় দলের সতীর্থদের নিয়ে নিয়মিত তাসের আড্ডায় মেতে ওঠেন।
ভক্ত ও সমর্থকদের মধ্যে তুমুল বিতর্ক
বিশ্বকাপের মতো বড় আসর থেকে ব্রাজিলের আকস্মিক ও বেদনাদায়ক বিদায়ের পর পরই নেইমারের এমন লাস ভেগাসের ক্যাসিনোতে সময় কাটানো এবং প্রথম দিনেই কোটি টাকার টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়া নিয়ে ফুটবল বিশ্বে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক সমর্থক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, যখন দেশের ফুটবল এক চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন দলের প্রধান তারকার এমন প্রমোদভ্রমণ ও তাসের বোর্ডে মেতে থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তবে নেইমারের অনুরাগীদের দাবি, মাঠের মানসিক চাপ কাটাতে এবং ব্যক্তিগত ছুটি উপভোগ করতেই তিনি লাস ভেগাসের এই টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছেন।
তাসের বোর্ডে প্রথম দিনেই কুপোকাত হলেও নেইমার জুনিয়র যে মাঠ ও মাঠের বাইরে সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে ভালোবাসেন, লাস ভেগাসের এই ঘটনা তা আবারও প্রমাণ করল।
