![]()
বিশ্বের সবচেয়ে বড় তৈরি পোশাকের বাজার যুক্তরাষ্ট্রে বছরের শুরু থেকে চাহিদা কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তবে কয়েক মাসের ধারাবাহিক নিম্নমুখী প্রবণতার পর মে মাসে রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা যাওয়ায় নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সময়ে দেশটির মোট পোশাক আমদানির মূল্য ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ কমে ২৮ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে আমদানির পরিমাণ কমেছে ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। তবে গড় ইউনিট মূল্য সামান্য বেড়ে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ হয়েছে, যা মূল্যস্ফীতি ও উৎপাদন ব্যয়ের চাপের প্রতিফলন।
উচ্চ সুদের হার, ভোক্তাদের ব্যয় সংকোচন এবং বড় ব্র্যান্ডগুলোর সতর্ক ক্রয়নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাকের চাহিদা কমে যায়। এর প্রভাব পড়ে বাংলাদেশের রপ্তানিতেও। প্রথম পাঁচ মাসে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৩ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ কম।
তবে মে মাসে পরিস্থিতির উন্নতির ইঙ্গিত মিলেছে। এ মাসে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৬ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৫৮২ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক মাসের মন্দার পর এই প্রবৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চাহিদা ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ।
প্রতিযোগী দেশগুলোর রপ্তানি চিত্রও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের পোশাক রপ্তানি মূল্য ৪২ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং ভারতের রপ্তানি ২৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে কম্বোডিয়ার রপ্তানি প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক ক্রেতারা উৎপাদন ব্যয়, সরবরাহ সক্ষমতা এবং বাণিজ্য নীতির ভিত্তিতে নতুন করে সোর্সিং কৌশল নির্ধারণ করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনের অংশীদারিত্ব কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের সামনে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব বেড়ে ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে এই অবস্থান ধরে রাখতে উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি দ্রুত পণ্য সরবরাহ, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং বন্দর ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের প্রধান নির্বাহী মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, বৈশ্বিক চাহিদার দুর্বলতা এবং মূল্যচাপ এখনো বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির বড় চ্যালেঞ্জ। তার মতে, ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহার, জ্বালানি সংকট, দীর্ঘ লিড টাইম এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করা গেলে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও বাড়বে এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রধান বাজারগুলোতে রপ্তানি নতুন গতি পাবে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আগামী কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রি এবং উৎসব মৌসুমের অর্ডারের প্রবণতা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। বৈশ্বিক চাহিদা ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হলে এবং দেশের উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে রপ্তানিতে আরও ইতিবাচক ধারা দেখা যেতে পারে।
