![]()
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনায় নাটকীয় মোড় এসেছে। কানাডীয় পণ্যের ওপর প্রস্তাবিত অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ শুল্ক সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে দুই দেশ একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। ফলে আপাতত নতুন করে বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কানাডীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ৫০ শতাংশ শুল্ক স্থানীয় সময় মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের ঠিক আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুল্ক আরোপ স্থগিতের ঘোষণা দেন। পরে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতিতে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত ২২ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।
সপ্তাহব্যাপী টানটান আলোচনার পর মঙ্গলবার ট্রাম্প ও কার্নির মধ্যে চুক্তি নিয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়। প্রস্তাবিত শুল্ক কার্যকর হলে কানাডার ইলেকট্রনিক্স, শিল্প যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র, দুগ্ধজাত পণ্য ও ওয়াইনসহ প্রায় ২০ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি বাণিজ্য বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, প্রয়োজনীয় নথিপত্র চূড়ান্ত করার শর্তে তিনি তিন দিনের জন্য শুল্ক স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছেন। শুল্ক স্থগিতের সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না করলেও তিনি বিতর্কিত ‘কিস্টোন এক্সএল পাইপলাইন’ প্রকল্প পুনরুজ্জীবনের বিষয়টি ইঙ্গিত করেন।
কিস্টোন এক্সএল ছিল একটি প্রস্তাবিত জ্বালানি পরিবহন পাইপলাইন, যার দৈনিক প্রায় ৮ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল পরিবহনের সক্ষমতা থাকার কথা ছিল। প্রকল্পটি দীর্ঘদিন নানা জটিলতায় আটকে থাকার পর ২০২১ সালে পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক কারণ দেখিয়ে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এর অনুমোদন বাতিল করেন।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এক বিবৃতিতে বলেন, আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে, তবে এখনও অনেক কাজ বাকি। এ মুহূর্তে কানাডার প্রধান লক্ষ্য নিজেদের অর্থনীতিকে আরও স্বাধীন, শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করে গড়ে তোলা।
কানাডার আইভি বিজনেস স্কুলের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস শটার মনে করেন, কানাডা হয়তো ট্রাম্পের কাছে গুরুত্বপূর্ণ এমন কিছু ইস্যু, বিশেষ করে কিস্টোন এক্সএল পাইপলাইনকে আলোচনায় এনেছে। আগামী শুক্রবারের মধ্যে দুই দেশ একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে, নাকি পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠবে—এখন সেটিই দেখার বিষয়।
কানাডা তার মোট রপ্তানি পণ্যের প্রায় ৭০ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পাঠায়। ফলে শুল্ক স্থগিতের সিদ্ধান্তে আপাতত কানাডীয় রপ্তানিকারকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে নতুন করে শুল্ক আরোপের হুমকি যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তি (ইউএসএমসিএ)-সহ বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সুবিধাগুলোকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। বিষয়টি নিয়ে কানাডার রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
