![]()
দূবাই থেকে ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ বিমানে মাঝআকাশে সহকারী পাইলট কর্তৃক মূল পাইলটকে ছুরিকাঘাতের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। ককপিটে সংঘাতের পর মাত্র ২ মিনিটে বিমানটি ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে এলে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত ফ্লাইটে সাধারণ যাত্রী হিসেবে থাকা অন্য দুই পেশাদার পাইলটের সাহসিকতায় ১৮০ জন যাত্রী ও ক্রু নিয়ে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে বিমানটির নিরাপদ জরুরি অবতরণ নিশ্চিত করা হয়েছে।
- ✈️ ফ্লাইট বিবরণ: ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ (FZ1073) ফ্লাইট, দুবাই থেকে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল।
- 📉 মাঝআকাশে খাড়া পতন: স্থানীয় সময় রাত ১:২০ মিনিটে ৩৪,০০০ ফুট উচ্চতা থেকে মাত্র ২ মিনিটে ১৭,৪০০ ফুট নিচে নেমে আসে বিমানটি।
- 🚨 জরুরি সংকেত পরিবর্তন: প্রথমে সাধারণ জরুরি সংকেত ‘Squawk 7700’ পাঠানোর পর তা বদলে বিমান ছিনতাই ও অবৈধ হস্তক্ষেপের সংকেত ‘Squawk 7500’ জারি করা হয়।
- 🧑✈️ যাত্রী পাইলটদের উদ্ধার ভূমিকা: বিমানে অফ-ডিউটিতে থাকা যাত্রীবেশী দুই পাইলট ও কেবিন ক্রুরা মিলে আক্রমণকারীকে পরাস্ত করে ককপিট নিয়ন্ত্রণে নেন।
মাঝআকাশে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও দুই মিনিটে ১৭ হাজার ফুট পতন
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আকাশে ওড়ার পর রাত ১টা ২০ মিনিট নাগাদ ফ্লাইদুবাইয়ের বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ বিমানটি ৩৪ হাজার ফুট উঁচুতে অবস্থান করছিল। হঠাৎই দুই মিনিটের মধ্যে বিমানটি অতি দ্রুত নিচে নেমে প্রায় ১৬,৬০০ ফুট উচ্চতায় চলে আসে। ককপিটের ভেতরে দুই পাইলটের মধ্যে মারামারি ও সহকারী পাইলট কর্তৃক ভাঁজ করা ছুরি দিয়ে আঘাতের কারণে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছিল।
চ্যানেল ১৫-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক যাত্রী জানান, ককপিটের দরজা খোলার পর ভেতরে রক্ত ও আতঙ্কের পরিবেশ দেখতে পান তারা। ছুরিকাঘাতে পাইলটের শার্ট রক্তে ভিজে গিয়েছিল। কোনো কোনো গোয়েন্দা তথ্যে একজন পাইলটের আত্মহত্যা করে বিমানটি ধ্বংস করার চেষ্টার ইঙ্গিত মিললেও প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে আন্তর্জাতিক তদন্তকারী সংস্থা।
জরুরি সংকেত ‘স্কোয়াক ৭৫০০’ ও হাইজ্যাক আতঙ্কে যুদ্ধবিমান প্রস্তুত
রাত ১টা ৩২ মিনিটে বিমানটি প্রথম সাধারণ জরুরি সংকেত (Squawk 7700) পাঠায়। কিন্তু ককপিটের পরিস্থিতি জটিল হওয়ার পর সেটি অনতিবিলম্বে পরিবর্তন করে বিমানে বেআইনি হস্তক্ষেপ বা সম্ভাব্য ছিনতাইয়ের সংকেত (Squawk 7500) জারি করা হয়।
বিমানে বেশ কয়েকজন ইসরায়েলি নাগরিক থাকায় ‘স্কোয়াক ৭৫০০’ কোড পাওয়ার সাথে সাথেই সম্ভাব্য বিমান ছিনতাইয়ের আশঙ্কায় তেল আবিব থেকে আকাশে সামরিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণ সংঘাত মনে করা হলেও পরে সন্ত্রাসী হামলার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছে না ইসরায়েলি নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।
যাত্রীর আসনে থাকা পাইলটদের সাহসিকতায় রক্ষা
ককপিটে বিবাদের সময় যাত্রীদের আসনের সারিতে থাকা দুই পেশাদার অফ-ডিউটি পাইলট ও কেবিন ক্রুরা দ্রুত এগিয়ে আসেন। সাধারণ ইসরায়েলি যাত্রীদের সহযোগিতায় আক্রমণকারীকে কাবু করে সংঘর্ষ থামানো হয়। এরপর যাত্রীর আসনে থাকা ওই দুই পাইলট তৎক্ষণাৎ বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং গতিপথ বদলে জর্ডানের আকাশসীমা অতিক্রম করে পার্শ্ববর্তী দেশ সৌদি আরবের দিকে বিমানটি ঘুরিয়ে নেন।
সৌদি আরবের তাবুক আঞ্চলিক বিমানবন্দর পরিচালনাকারী সংস্থা জানিয়েছে, অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণ করানো হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই রক্তাক্ত পাইলটকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং ১৮০ জন যাত্রী ও ক্রু সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় নিরাপদে রয়েছেন।
ফ্লাইদুবাই FZ1073 ঘটনার কারিগরি তথ্য ও সামারি
| বিষয় / পরিমাপ | বিবরণ ও সার্বিক স্থিতি |
|---|---|
| এয়ারলাইন ও বিমান মডেল | ফ্লাইদুবাই (Flydubai), বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ (Boeing 737 MAX 8) |
| রুট ও ফ্লাইট নম্বর | FZ1073 (দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ➔ বেন গুরিয়ন, তেল আবিব) |
| উচ্চতা হ্রাস (Plunge) | ৩৪,০০০ ফুট থেকে ১৬,৬০০ ফুটে নামা (২ মিনিটে ১৭,৪০০ ফুট পতন) |
| জরুরি সংকেত (Emergency Code) | Squawk 7700 (জরুরি) ➔ Squawk 7500 (হাইজ্যাক/অবৈধ হস্তক্ষেপ) |
| অবতরণ স্থান ও যাত্রী অবস্থা | তাবুক বিমানবন্দর (সৌদি আরব); ১৮০ যাত্রী ও ক্রু সম্পূর্ণ নিরাপদ। |
