![]()
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগ করে চ্রিষ্টা পাইক (৫০) নামে এক নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা চরম ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। পরপর দুটি সিরিঞ্জে প্রাণঘাতী ‘পেন্টোবারবিটাল’ রাসায়নিক প্রয়োগ করা হলেও তিনি মারা যাননি। চিকিৎসকদের জরুরি হস্তক্ষেপে সচল হৃত্পিণ্ড ও সংকটজনক শারীরিক অবস্থা নিয়ে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর পরই রাজ্যজুড়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর নিয়ে চরম বিতর্কের সৃষ্টি হলে টেনেসির গভর্নর বিল লি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
- 💉 ব্যর্থ প্রয়োগ: দুটি পুর্ণমাত্রার সিরিঞ্জে ‘পেন্টোবারবিটাল’ প্রয়োগের পরও আসামি জ্ঞান হারিয়ে নাক ডাকছিলেন এবং হৃত্স্পন্দন চালু ছিল।
- 🚨 জরুরি আইনি আবেদন: আইনজীবীদের জরুরি আবেদনের প্রেক্ষিতে ডিস্ট্রিক্ট জজ ক্লিপটন এল কর্কার অবিলম্বে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা প্রদানের নির্দেশ দেন।
- 🔍 গভর্নরের তদন্ত নির্দেশ: টেনেসির গভর্নর বিল লি ঘটনার তৃতীয় পক্ষীয় নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়ে বছরের বাকি মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেন।
- 📜 ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৯৬ সালে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লিমারকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন ১৮ বছর বয়সী চ্রিষ্টা পাইক।
ককপিট সদৃশ ফাঁসির মঞ্চে যা ঘটেছিল
বুধবার স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ৮টায় ন্যাশভিলের রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রটোকল অনুযায়ী, প্রথম ডোজ দেওয়ার পর আসামির মৃত্যু না হওয়ায় দ্বিতীয় ডোজের বিষাক্ত রাসায়নিক প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু সাক্ষী কক্ষের পর্দা দুবার ফেলা হলেও পাইকের স্পন্দন বন্ধ হয়নি।
পাইকের আইনজীবীরা দ্রুত আদালতে জরুরি আবেদন জানান। আবেদনে বলা হয়, “মিস পাইক চেতনা হারিয়েছেন, কিন্তু তার হৃত্স্পন্দন সচল রয়েছে এবং তিনি উচ্চশব্দে নাক ডাকছেন।” পরবর্তীতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ড. জোয়েল জিভোট জানান, রক্তে বিষের মাত্রা পর্যাপ্ত না হওয়ায় শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়নি এবং ইনজেকশন প্রদানে বিলম্বের কারণে পাইকের মস্তিষ্ক স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
গভর্নরের তদন্ত ঘোষণা ও মৃত্যুদণ্ড স্থগিত
ঘটনার পর এক বিবৃতিতে টেনেসির গভর্নর বিল লি জানান, ফাঁসির এই প্রক্রিয়ায় ঠিক কী ঘটেছিল তা খতিয়ে দেখতে একটি নিরপেক্ষ স্বাধীন সংস্থাকে দিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করানো হবে। একই সাথে চলতি ২০২৬ সালের জন্য নির্ধারিত অবশিষ্ট সকল মৃত্যুদণ্ড স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
তবে টেনেসির সংশোধন বিভাগ (TDOC) দাবি করেছে, তারা সুপ্রিম কোর্ট অনুমোদিত সঠিক ও আইনি প্রটোকলই অনুসরণ করেছে। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের গোপনে গোপন রাখা এই প্রটোকলের সীমাবদ্ধতা এবং শিরা খুঁজে না পাওয়া বা ওষুধের কার্যকারিতা হ্রাস পাওয়ার অভিযোগ আগে থেকেই তুলেছিলেন পাইকের আইনজীবীরা।
১৯৯৫ সালের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ও ৩ দশকের আইনি যুদ্ধ
১৯৯৫ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে চ্রিষ্টা পাইক এবং তার তৎকালীন প্রেমিক তাদারিল শিপ মিলে তাদের সহপাঠী ১৯ বছরের তরুণী কলিন স্লিমারকে পিটিয়ে ও নির্যাতন করে হত্যা করেন। ১৯৯৬ সালে আদালত চ্রিষ্টা পাইককে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। এরপর থেকে তিন দশক ধরে সুপ্রিম কোর্টসহ বিভিন্ন আদালতে আইনি লড়াই চলেছে।
নিহত স্লিমারের মা মে মার্টিনেজ মৃত্যুদণ্ড চাক্ষুষ করতে ফ্লোরিডা থেকে টেনেসিতে এসেছিলেন। ইনজেকশন কার্যকর না হওয়ার পর এনবিসি নিউজকে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, “পুরো বিষয়টি চরম অব্যবস্থাপনা ও বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে শেষ হলো।” উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড পুনরায় চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত মাত্র ১৮ জন নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, যা মোট ফাঁসির মাত্র ১ শতাংশ।
চ্রিষ্টা পাইক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর মামলা সংক্ষেপ
| বিষয়/ক্ষেত্র | বিবরণ ও বর্তমান অবস্থা |
|---|---|
| আসামী ও বয়স | চ্রিষ্টা পাইক (Christa Pike), বয়স: ৫০ বছর |
| অপরাধ ও সাজা | কলিন স্লিমারকে হত্যা (১৯৯৫); ১৯৯৬ সালে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত |
| কার্যকরের মাধ্যম ও রাসায়নিক | বিষাক্ত ইনজেকশন (পেন্টোবারবিটাল – ২ ডোজ) |
| বর্তমান শারীরিক অবস্থা | সংকটজনক; হাসপাতালে জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসাধীন |
