![]()
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া গণভোটের রায়কে যদি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়, তবে দেশের জনগণ আপনাদের লাল কার্ড দেখিয়ে দেবে। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে নড়াইলের লোহাগড়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত এক বিশাল নাগরিক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, সিন্ডিকেট নির্মূল এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান।
- ⚠️ লাল কার্ডের হুঁশিয়ারি: ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে জনগণকে লাল কার্ড দেখাবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
- 📜 ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে অনীহা: ৩৩টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ৮০ বার বৈঠক করার পরও ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার কারণে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হয়নি।
- ⚖️ ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ: প্রধানমন্ত্রীর হাতে সব ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত এবং রাষ্ট্রপতিকে ‘কাঠের পুতুল’ বানিয়ে রাখার তীব্র সমালোচনা করা হয়।
- 🛒 সিন্ডিকেট ও দ্রব্যমূল্য: বিদ্যুৎ, গ্যাস, তেল ও সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে বর্তমান সরকারের সমালোচনা করেন মামুনুল হক।
গণভোটের রায় ও ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে ক্ষোভ
‘খেলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গণআন্দোলন গড়ে তুলুন’ এবং ‘ধর্ম-বর্ণ-ভিন্নমত, সবার জন্য খেলাফত’ স্লোগান সামনে রেখে এই নাগরিক সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে মামুনুল হক বলেন, একই নির্বাচন কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। অথচ ৭০ শতাংশ ভোটে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি। তিনি যুক্তি দেখান, গণভোটের এই রায় যদি অবৈধ হয়, তাহলে বিএনপি সরকারও অবৈধ। এছাড়া দীর্ঘ আলোচনার পরও ক্ষমতা ধরে রাখার মানসিকতার কারণে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন না করায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শহীদদের দাবি
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা তুলে ধরে মামুনুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর হাতে সব ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করে রাখা হয়েছে, আর রাষ্ট্রপতিকে বানানো হয়েছে কাঠের পুতুল। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, এই আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৫০০ তরুণ শহীদ হয়েছেন এবং কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মূল দাবি ছিল মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং কোটা প্রথা বাতিল করা। কিন্তু সরকার এখনো তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করেনি।
সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ও দলীয়করণ নিয়ে সমালোচনা
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মতোই বর্তমান সরকার পুলিশ ও ছাত্রসংগঠনকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করছে। দেশে বিদ্যুৎ, গ্যাস, তেল ও সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে অসাধু সিন্ডিকেট। দাম বাড়ানোর পরপরই এসব সংকট উধাও হয়ে যায়। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে উল্লেখ করে তিনি দ্রুত সংবিধান সংশোধন করে ‘জুলাই সনদ’ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান।
সমাবেশের প্রাসঙ্গিক বিবরণ
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| প্রধান বক্তা | মামুনুল হক (আমির, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস) |
| অনুষ্ঠানের নাম ও স্থান | নাগরিক সমাবেশ, লোহাগড়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান, নড়াইল |
| সমাবেশের স্লোগান | ‘খেলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গণআন্দোলন গড়ে তুলুন’ এবং ‘ধর্ম-বর্ণ-ভিন্নমত, সবার জন্য খেলাফত’ |
| সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা | সভাপতিত্বে: মাওলানা মহসিন উদ্দীন। সঞ্চালনায়: মাওলানা শাফায়াত হোসাইন |
| মূল দাবি | সংবিধান সংশোধন করে ‘জুলাই সনদ’ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং সিন্ডিকেট নির্মূল |
