![]()
একসময় ওয়ানডে ক্রিকেটে ২৫০ রানকে জয়ের জন্য শক্তিশালী পুঁজি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। টি-টোয়েন্টির আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের যুগে সেই ধারণা এখন অনেকটাই বদলে গেছে। রাঁচিতে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তারই প্রমাণ মিলেছে। ২৪৯ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়েও জয় পায়নি ভারত। শাই হোপের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ২৫০ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে জয় তুলে নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
রোমাঞ্চকর এই ম্যাচে ব্যাট হাতে একাধিক ব্যক্তিগত ও দলীয় রেকর্ড গড়েছে দুই দল। ভারতের বিপক্ষে নিজেদের সর্বোচ্চ টি-টোয়েন্টি সংগ্রহ করেছে ভারতীয় দলই, আর রান তাড়ায় দারুণ সাফল্য দেখিয়েছে ক্যারিবীয়রা। ম্যাচটিতে বাউন্ডারি থেকে এসেছে ৩৮২ রান। দুই দলের সম্মিলিত সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৫০১ রান।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ভারতের সর্বোচ্চ সংগ্রহ
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ গড়েছে ভারত। রাঁচিতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৪৯ রান করে স্বাগতিকরা। এর আগে ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার লডারহিলে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ভারতের সংগ্রহ ছিল ২৪৪ রান।
তবে বড় সংগ্রহও শেষ পর্যন্ত ভারতকে জয় এনে দিতে পারেনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটারদের কার্যকর ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় সফরকারীদের হাতে।
৪৫ বলে সেঞ্চুরি হোপের
ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের নায়ক অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক শাই হোপ। মাত্র ৪৫ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে এটি দ্বিতীয় দ্রুততম শতক।
এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন জনসন চার্লস। ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাত্র ৩৯ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি।
হোপের এই ইনিংস শুধু দলকে জয়ের পথেই রাখেনি, ব্যক্তিগত রেকর্ডের তালিকাতেও যোগ করেছে নতুন অধ্যায়। অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক হিসেবে সংক্ষিপ্ত সংস্করণের ক্রিকেটে এটি তাঁর দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। এর আগে গত বছর বাসেটেরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অপরাজিত ১০২ রান করেছিলেন তিনি।
ভারতের বিপক্ষে ২০ ছক্কা ক্যারিবীয়দের
ভারতের বোলারদের ওপর শুরু থেকেই চড়াও হন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা। পুরো ইনিংসে ২০টি ছক্কা হাঁকান তাঁরা। ভারতের বিপক্ষে এক টি-টোয়েন্টি ইনিংসে এটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড।
এর আগে ২০১৬ সালে লডারহিলে ভারতের বিপক্ষেই এক ইনিংসে ২১টি ছক্কা মেরেছিল ক্যারিবীয় দল।
হোপ-রাদারফোর্ডের রেকর্ড জুটি
জয়ের পথে শাই হোপের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন শেরফান রাদারফোর্ড। চতুর্থ উইকেটে দুজন মিলে গড়েন ১২০ রানের জুটি। এই উইকেটে টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বোচ্চ জুটি এটি।
তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড এখনো ১৩৯ রানের। ২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আন্দ্রে রাসেল ও রাদারফোর্ড মিলে ওই জুটি গড়েছিলেন।
দুই উইকেটরক্ষকের ব্যাটে ১৮৪ রান
ম্যাচটিতে দুই দলের উইকেটরক্ষক-ব্যাটাররাও গড়েছেন উল্লেখযোগ্য রেকর্ড। ভারতের সাঞ্জু স্যামসন করেন ৮২ রান। অন্যদিকে শাই হোপের ব্যাট থেকে আসে অপরাজিত ১০২ রান। দুই উইকেটরক্ষকের সম্মিলিত সংগ্রহ ১৮৪ রান।
টি-টোয়েন্টির এক ম্যাচে দুই উইকেটরক্ষকের সম্মিলিত রানের হিসাবে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০২২ সালে বুলগেরিয়া ও সার্বিয়ার মধ্যকার ম্যাচে দুই উইকেটরক্ষক মিলে করেছিলেন ১৮৮ রান।
তবে একই ম্যাচে দুই উইকেটরক্ষকের ৮০ বা তার বেশি রান করার ঘটনা এবারই প্রথম।
রান তাড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাফল্য
রাঁচিতে ২৫০ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে জয় তুলে নিয়ে টি-টোয়েন্টিতে রান তাড়ার ক্ষেত্রে নিজেদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাফল্য পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
এই সংস্করণে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড দক্ষিণ আফ্রিকার। ২০২৩ সালে সেঞ্চুরিয়নে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই ২৫৯ রান করে জিতেছিল প্রোটিয়ারা।
বাউন্ডারি থেকেই এসেছে ৩৮২ রান
ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই ম্যাচে চার ও ছক্কা থেকে এসেছে মোট ৩৮২ রান। টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে এক ম্যাচে বাউন্ডারি থেকে পাওয়া রানের হিসাবে এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ।
এর মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা বাউন্ডারি থেকেই সংগ্রহ করেছেন ২০৪ রান, যা এই বিভাগে দলটির নিজেদের সর্বোচ্চ।
দুই দলের সম্মিলিত সংগ্রহ ৫০১ রান
ব্যাটারদের দাপটে রাঁচির ম্যাচে দুই দল মিলে করেছে ৫০১ রান। টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে এক ম্যাচে দুই দলের সম্মিলিত রানের হিসাবে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে ২০২৩ সালে সেঞ্চুরিয়নে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার ম্যাচটি। সেই ম্যাচে দুই দল মিলে করেছিল ৫১৭ রান।
রাঁচির ম্যাচটি আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বড় সংগ্রহ গড়লেই জয় নিশ্চিত হয় না। আক্রমণাত্মক ব্যাটিং, দ্রুত রান তোলা এবং চাপ সামলে লক্ষ্য তাড়া করার সামর্থ্যই এখন ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখছে।
