![]()
মর্যাদাপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা ‘স্মল ওয়ার্ল্ড ইন মোশন ২০২৬’-এর শীর্ষ বিজয়ীর পুরস্কার বাতিল করেছে নিকন। জেনারেটিভ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা একটি ভিডিও জমা দেওয়ার বিষয়টি বিশেষজ্ঞরা ধরে ফেলার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেনারেটিভ এআই-এর দ্রুত অগ্রগতির ফলে বিশেষায়িত ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতায় সিন্থেটিক বা কৃত্রিম কনটেন্টের জন্য আরও সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলি নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
- 🚫 পুরস্কার বাতিল: এআই ব্যবহারের কারণে নিকনের প্রতিযোগিতায় শীর্ষ বিজয়ীকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।
- 👨🔬 অভিযুক্ত প্রতিযোগী: চীনের সিংহুয়া ইউনিভার্সিটির গবেষক ড. নিং শু এই ভিডিওটি জমা দিয়েছিলেন।
- 🔬 ভিডিওর বিষয়বস্তু: পিসিডি (PCD) নামক বিরল শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত এক শিশুর শ্বাসনালীতে থাকা সিলিয়ার নড়াচড়া।
- 🔍 বিশেষজ্ঞদের আপত্তি: বিশেষজ্ঞরা ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর নিকন তদন্ত করে এই সিদ্ধান্ত নেয়।
এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও ও বিশেষজ্ঞদের সন্দেহ
চীনের সিংহুয়া ইউনিভার্সিটির ড. নিং শু প্রতিযোগিতায় একটি মাইক্রোস্কোপিক ভিডিও জমা দিয়েছিলেন। ভিডিওটিতে প্রাইমারি সিলিয়ারি ডিসকাইনেসিয়া (পিসিডি) নামের এক বিরল শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুর শ্বাসনালীতে থাকা লোমের মতো গঠন ‘সিলিয়া’-এর নড়াচড়া দেখানো হয়েছিল। তবে এটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞানী ও প্রতিযোগিতার সাবেক বিচারকরা এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। লিসেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের এনএইচএস পিসিডি রোগ নির্ণয় কেন্দ্রের প্রধান বিজ্ঞানী ড. রবার্ট হার্স্ট জানান, তিনি ভিডিওটি দেখেই বুঝতে পেরেছিলেন এটি নকল। তার মতে, ভিডিওর কোষ ও সিলিয়া বাস্তবের পিসিডি রোগীদের মতো দেখতে একেবারেই নয়।
নিকনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও নিয়ম পর্যালোচনা
বিশেষজ্ঞদের আপত্তির পর নিকন তাদের বিচারক প্যানেলের সঙ্গে পরামর্শ করে ভিডিওটির পুঙ্খানুপুঙ্খ পুনর্মূল্যায়ন করে। এরপর তারা নিশ্চিত করে যে, ভিডিওটিতে জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করা হয়েছে, যা প্রতিযোগিতার নিয়মের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। নিকন কর্তৃপক্ষ জানায়, এই বাতিল প্রক্রিয়াটি শুধুমাত্র প্রতিযোগিতার নিয়ম প্রয়োগের অংশ, এটি ড. শু-এর বৃহত্তর বৈজ্ঞানিক ক্যারিয়ারের কোনো মূল্যায়ন নয়। ১৫ বছর ধরে চলা এই বার্ষিক প্রতিযোগিতায় বৈজ্ঞানিক ইমেজিংয়ে এআই-এর ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিকন এখন তাদের নিয়ম ও প্রক্রিয়াগুলো নতুন করে পর্যালোচনা করছে।
অভিযুক্ত গবেষকের প্রতিক্রিয়া ও তদন্তে সহযোগিতা
পুরস্কার বাতিলের পর ড. নিং শু এআই টুলস ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি দাবি করেন যে, তিনি প্রতিযোগিতার নিয়মের সীমানার মধ্যেই কাজ করেছেন বলে বিশ্বাস করতেন। তিনি তদন্ত কার্যক্রমে নিকন কর্তৃপক্ষকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন। এই ঘটনাটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যত উন্নত হচ্ছে, ফটোগ্রাফি ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ক্ষেত্রে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আয়োজকদের আরও কঠোর ও সুস্পষ্ট নিয়মাবলি নির্ধারণ করা ততটাই জরুরি হয়ে পড়েছে।
এক নজরে প্রতিযোগিতার প্রাসঙ্গিক তথ্য
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| প্রতিযোগিতার নাম | নিকন স্মল ওয়ার্ল্ড ইন মোশন ২০২৬ |
| বাতিল হওয়া বিজয়ী | ড. নিং শু (গবেষক, সিংহুয়া ইউনিভার্সিটি, চীন) |
| পুরস্কার বাতিলের কারণ | ভিডিও তৈরিতে জেনারেটিভ এআই (AI)-এর অননুমোদিত ব্যবহার |
| জমা দেওয়া ভিডিওর বিষয় | পিসিডি (PCD) আক্রান্ত শিশুর শ্বাসনালীর মাইক্রোস্কোপিক দৃশ্য |
| প্রথম অভিযোগকারী | ড. রবার্ট হার্স্ট (প্রধান বিজ্ঞানী, লিসেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়) সহ অন্যান্যরা |
