![]()
প্ৰতিষ্ঠার প্রায় তিন দশক পর আগামী মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ঐতিহাসিক বৈঠক। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সভাপতিত্বে হতে যাওয়া এই বৈঠকে জোটের বাকি পাঁচ সদস্যদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নিলেও ঢাকা থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ যোগ দিচ্ছেন না। ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে তাঁর পরিবর্তে চার সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
- 🗓️ বৈঠকের তারিখ ও স্থান: ১২ অক্টোবর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পর্যায়ের বৈঠক এবং ১৩ অক্টোবর মন্ত্রী পর্যায়ের প্রধান বৈঠক (নয়াদিল্লি, ভারত)।
- 🇧🇩 বাংলাদেশের অংশগ্রহণ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পরিবর্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ৪ সদস্যের প্রতিনিধিদল।
- 👤 সভাপতি ও উপস্থিতি: ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সভাপতিত্বে ভারত, ভুটান, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডের মন্ত্রীরা সরাসরি উপস্থিত থাকছেন।
- 🛡️ মূল আলোচনার বিষয়বস্তু: আঞ্চলিক সন্ত্রাসবাদ দমন, মানব পাচার, মাদক পাচার, অর্থ পাচার প্রতিরোধ ও সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতি ও কূটনৈতিক সম্পর্কের আবহ
বিমসটেকের মহাসচিব ইন্দ্রমণি পান্ডে নিশ্চিত করেছেন যে, বাংলাদেশ ব্যতীত জোটের বাকি ছয়টি দেশেরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অথবা প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিরা দিল্লিতে সশরীরে অংশ নিচ্ছেন। এর আগে সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনেও অংশ নেননি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ঢাকা-নয়াদিল্লির বর্তমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ঠান্ডা ভাব ও মনস্তাত্ত্বিক দূরত্বের কারণেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্থানে সচিব পর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
আট বছর পর বাস্তবায়ন ও মূল এজেন্ডা
২০১৮ সালে নেপালের কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত চতুর্থ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের নিয়মিত বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়। দীর্ঘ আট বছর পর এই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন ঘটল। এই বৈঠকে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন ও অপ্রচলিত নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা, আন্তসীমান্ত অপরাধ দমনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সমন্বয় এবং সাইবার অপরাধ ঠেকানোর বিষয়ে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি গুরত্বপূর্ণ সমঝোতা স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।
জোটের বর্তমান সভাপতি বাংলাদেশ ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট
১৯৯৭ সালের ৬ জুন ব্যাংকক ঘোষণার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা সাত দেশের এই অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক শক্তির স্থায়ী সচিবালয় ঢাকায় অবস্থিত। ২০২৫ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ বিমসটেকের বর্তমান সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে। আঞ্চলিক সংহতি এবং অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার স্বার্থে বাংলাদেশ বিমসটেককে অত্যন্ত অগ্রাধিকার দিলেও ভারতের মাটিতে আয়োজিত শীর্ষ ও প্রাতিষ্ঠানিক বৈঠকগুলোতে মন্ত্রী বা সরকারপ্রধান পর্যায়ের প্রতিনিধি না পাঠিয়ে সচিব বা জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৌশলী উপস্থিতি বজায় রাখছে ঢাকা।
দিল্লি বিমসটেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠক একনজরে
| বিষয় / ক্ষেত্র | বিবরণ ও তথ্যসমূহ |
|---|---|
| সম্মেলনের নাম ও স্থান | ১ম বিমসটেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক, নয়াদিল্লি, ভারত |
| বৈঠকের তারিখ | ১২ অক্টোবর (সচিব পর্যায়) ও ১৩ অক্টোবর ২০২৬ (মন্ত্রী পর্যায়) |
| বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের প্রধান | মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী (জ্যেষ্ঠ সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) |
| বিমসটেকের সদস্যদেশসমূহ | বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভুটান |
