![]()
রাজধানীর আবদুল গনি রোডের বর্তমান স্থান থেকে বাংলাদেশ সচিবালয় সরিয়ে নেওয়ার নীতিগত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ঐতিহাসিক শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠের ৩২ একর জমিতে নির্মিত হবে আধুনিক ও সমন্বিত নতুন সচিবালয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের নীতি নির্ধারণী সভায় এ সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়। প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের এই বৃহৎ প্রকল্পটির পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইতোমধ্যেই প্রক্রিয়া শুরু করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
- 🏗️ প্রকল্প ব্যয় ও অবস্থান: শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্যমেলা মাঠে ৩,৫০০ কোটি টাকা খরচে নির্মিত হবে নতুন ভবন।
- 📐 আয়তন বৃদ্ধি: বর্তমানের ১৭ লাখ বর্গফুটের স্থলে নতুন সচিবালয়ের মোট স্থান হবে ৩১ লাখ বর্গফুট।
- 🏛️ স্থাপত্য নকশা: জাতীয় সংসদ ভবনের লুই আই কানের মূল মাস্টারপ্ল্যানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ১২ তলাবিশিষ্ট অবকাঠামো।
- 🛣️ যোগাযোগ ব্যবস্থা: সার্কুলার রোড, পাতাল সড়ক (Underground Road) এবং বিশেষ বাইপাস সংযোগ সড়ক নির্মাণ।
- 🏛️ বর্তমান সচিবালয়ের ব্যবহার: স্থানান্তরের পর পুরনো চত্বরে ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও এসপি অফিস সহ পুরান ঢাকার দপ্তরগুলো স্থানান্তর।
২১ তলা ভবনের পরিবর্তে শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তর
আবদুল গনি রোডের বর্তমান সচিবালয়ে স্থান সংকুলান না হওয়ায় সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২১ তলার একটি ভবন নির্মাণের প্রস্তাব সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) পেশ করা হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেটিতে অনুমোদন না দিয়ে পুরো সচিবালয়ই শেরেবাংলা নগরে সরিয়ে নেওয়ার স্থান পর্যালোচনার নির্দেশনা দেন। সেই পর্যালোচনার ভিত্তিতে স্থাপত্য অধিদপ্তরের তুলে ধরা তিনটি নকশার মধ্য থেকে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা একটি আধুনিক চূড়ান্ত নকশা পছন্দ করেন।
পাতাল সড়ক ও সার্কুলার রোড তৈরি করে যানজট মোকাবিলার পরিকল্পনা
শেরেবাংলা নগরে প্রস্তাবিত নতুন সচিবালয়কে ঘিরে তৈরি হতে পারে বড় ধরনের যানজট—নগর পরিকল্পনাবিদদের এমন আশঙ্কা নিরসনে ব্যাপক পরিকাঠামোগত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। নকশা অনুযায়ী, সচিবালয়ের চারপাশে একটি চওড়া সার্কুলার বা চক্রাকার সড়ক থাকবে। এছাড়া বিজয় সরণি থেকে আগারগাঁও হয়ে মিরপুরমুখী প্রধান সড়কের তলদেশ দিয়ে একটি আধুনিক পাতাল সড়ক করার আলোচনাও চলছে, যার মাধ্যমে মূল যান চলাচল ব্যাহত না করেই সচিবালয়ে প্রবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সচিবালয় স্থানান্তরে নগরবিদদের বিশ্লেষণ ও বর্তমান চত্বরের ভবিষ্যৎ
স্থাপত্য অধিদপ্তর জানায়, নতুন স্থান নির্ধারণের ফলে কর্মকর্তাদের দাপ্তরিক স্থান অভাব ঘুচবে এবং সমন্বিত কাজ দ্রুততর হবে। অন্যদিকে, নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিবের মতে, ঘনবসতিপূর্ণ আগারগাঁও-শেরেবাংলা নগর এলাকায় মূল প্রশাসনিক কার্যালয় স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ট্রাফিক চাপ তীব্র হতে পারে। তবে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্থানান্তরের পর আবদুল গনি রোডের ১৭ লাখ বর্গফুটের বর্তমান সচিবালয়ে পুরান ঢাকার ঘিঞ্জি পরিবেশ থেকে ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয়, পুলিশ সুপার কার্যালয়সহ অন্যান্য সরকারি সংস্থা সরিয়ে আনা হবে।
বর্তমান ও প্রস্তাবিত নতুন সচিবালয় তুলনা একনজরে
| বিষয় / খাত | বর্তমান সচিবালয় (আবদুল গনি রোড) | প্রস্তাবিত নতুন সচিবালয় |
|---|---|---|
| স্থান / ক্ষেত্রফল | আবদুল গনি রোড (১৭ লাখ বর্গফুট) | শেরেবাংলা নগর (৩১ লাখ বর্গফুট) |
| আনুমানিক প্রকল্প ব্যয় | — | ৩,৫০০ কোটি টাকা |
| অবকাঠামোগত বিশিষ্টতা | বিভিন্ন সময়ে নির্মিত অসমন্বিত ভবন | লুই আই কানের নকশা অনুসরণে ১২ তলা ভবন |
| যানবাহন ও ট্রাফিক পরিকল্পনা | তীব্র যানজট ও অপ্রতুল পার্কিং | চক্রাকার সড়ক ও প্রস্তাবিত পাতাল সড়ক |
