![]()
ফিফার (FIFA) গোপন বাণিজ্যিক চুক্তি ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (FFE) নিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। জুরিখে অনুষ্ঠিত ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকে এই গোপন চুক্তির পরিকল্পনা নিয়ে তিনি ক্ষমা চাইলেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। বরং প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রকাশ এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর উত্তর না দেওয়া পর্যন্ত তাকে ফিফার নেতৃত্ব দেওয়ার ‘অযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (FA) চেয়ারপারসন ও ফিফার সহ-সভাপতি ডেবি হিউইট। পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে লাল কার্ডের শাস্তি প্রত্যাহার এবং তাকে দেওয়া ‘ফিফা পিস প্রাইজ’ নিয়েও বৈঠকে তীব্র সমালোচনা হয়েছে।
- 📄 এফএফই (FFE) বিতর্ক: ফিফার বাণিজ্যিক অধিকার বিক্রির গোপন চুক্তি নিয়ে ইনফান্তিনো ক্ষমা চাইলেও নথি প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
- 🗣️ কঠিন সমালোচনা: উপযুক্ত জবাব না দিলে ইনফান্তিনো ফিফা সভাপতি হওয়ার যোগ্য নন বলে জানিয়েছেন ডেবি হিউইট।
- 🛑 লাল কার্ড ও ট্রাম্প ইস্যু: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে খেলোয়াড়ের শাস্তি মওকুফ ও তাকে দেওয়া পিস প্রাইজ নিয়ে তদন্তের নির্দেশ।
- ⚖️ আইনি ব্যবস্থা ও নির্বাচন: উয়েফা আইনি পথে হাঁটছে এবং আগামী নির্বাচনে ইনফান্তিনোর বিপক্ষে আর্সেন ওয়েঙ্গারকে প্রার্থী করার জোর গুঞ্জন রয়েছে।
গোপন চুক্তি ও ইনফান্তিনোর ‘অযোগ্যতা’
সাড়ে তিন ঘণ্টার এই দীর্ঘ বৈঠকে ইনফান্তিনোকে একের পর এক প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। বাতিল হওয়া এফএফই চুক্তির মাধ্যমে ফিফার বাণিজ্যিক অধিকারের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ডেবি হিউইট জানান, ইনফান্তিনো দুঃখ প্রকাশ করলেও সবচেয়ে হতাশাজনক ব্যাপার হলো তিনি চুক্তি সংক্রান্ত কোনো নির্দিষ্ট উত্তর বা নথিপত্র দেননি। হিউইট স্পষ্ট জানিয়েছেন, “তিনি যদি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না দেন, তবে তিনি ফিফা সভাপতি হওয়ার যোগ্য নন। এসব গোপন নথির ওপরই নির্ভর করছে তার ওপর আমরা আস্থা রাখতে পারব কি না।”
ট্রাম্পের প্রভাব: লাল কার্ড প্রত্যাহার ও পিস প্রাইজ বিতর্ক
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের স্থগিত হওয়া লাল কার্ড এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়া ‘ফিফা পিস প্রাইজ’ নিয়েও তীব্র সমালোচনা হয়। বিশ্বকাপের সময় ট্রাম্পের অনুরোধে বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয়েছিল। এই ঘটনাকে ফুটবলের জন্য ‘কালো দিন’ বলে উল্লেখ করেন হিউইট এবং ভবিষ্যতে যাতে এমনটা না ঘটে, সেজন্য ফিফার নিয়মে পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাম্পকে দেওয়া শান্তি পুরস্কারের যৌক্তিকতা নিয়েও ফিফার সামাজিক কমিটি তদন্ত করবে, যার প্রতিবেদন আগামী ডিসেম্বরে জমা দেওয়া হবে।
উয়েফার আইনি পদক্ষেপ ও সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীর খোঁজ
ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা (UEFA) বর্তমানে ইনফান্তিনোর সবচেয়ে বড় সমালোচক। এফএফই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশের দাবিতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি আদালতে মামলা দায়ের করেছে এবং ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার প্রস্তুতিও নিচ্ছে। আগামী মার্চে ফিফা সভাপতির পদে তৃতীয়বারের মতো নির্বাচন করবেন ইনফান্তিনো। উয়েফা এবং তার বিরোধীরা ১৮ নভেম্বরের মধ্যে একজন যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী খুঁজছেন। রামোন ভেগা নির্বাচনে দাঁড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করলেও, ইউরোপীয় ফুটবলের শীর্ষ কর্মকর্তারা সাবেক আর্সেনাল কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গারকে এই পদের জন্য যোগ্য মনে করছেন। তবে ওয়েঙ্গার ফিফায় তার বর্তমান পদ ছেড়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না, তা নিয়ে এখনো সংশয় রয়েছে।
এক নজরে ফিফা কাউন্সিলের বৈঠক ও চলমান বিতর্ক
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| বৈঠকের স্থান | জুরিখ, সুইজারল্যান্ড |
| মূল অভিযুক্ত | ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো |
| বিতর্কের প্রধান কারণ | গোপন এফএফই (FFE) চুক্তি, বালোগুনের লাল কার্ড প্রত্যাহার এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পিস প্রাইজ প্রদান |
| প্রধান সমালোচক | ডেবি হিউইট (এফএ চেয়ারপারসন ও ফিফা সহ-সভাপতি) এবং উয়েফা |
| আসন্ন নির্বাচন | মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হবে (প্রার্থী ঘোষণার শেষ দিন ১৮ নভেম্বর) |
| সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী | আর্সেন ওয়েঙ্গার (সাবেক আর্সেনাল কোচ ও ফিফার বর্তমান কর্মকর্তা) |
