![]()
স্প্যানিশ ফুটবলে নতুন এক চরম বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন লা লিগা সভাপতি হাভিয়ের তেবাস। রিয়াল মাদ্রিদ টিভি এবং তাদের গণমাধ্যমগুলোকে নাৎসি জার্মানির ‘গোয়েবলস’-এর প্রোপাগান্ডার সাথে তুলনা করে সম্প্রতি একটি টুইট করেছিলেন তিনি। এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তেবাসের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। শুক্রবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে স্প্যানিশ ফুটবলের শীর্ষ এই কর্মকর্তার মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে লস ব্লাঙ্কোসরা। একই সাথে বার্সেলোনার রেফারি কেলেঙ্কারি বা ‘নেগ্রেইরা কেস’ নিয়ে তেবাসের নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা।
- 🚨 **বিতর্কিত টুইট:** রিয়াল মাদ্রিদ টিভিকে নাৎসি বাহিনীর প্রোপাগান্ডার সাথে তুলনা করেন হাভিয়ের তেবাস।
- 🗣️ **রিয়ালের ক্ষোভ:** এই ধরনের মন্তব্যকে ‘অত্যন্ত আপত্তিকর’ এবং ‘নৈতিকভাবে ঘৃণ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছে ক্লাবটি।
- ⚖️ **নেগ্রেইরা কেস:** বার্সেলোনার রেফারি কেলেঙ্কারিতে লা লিগা সভাপতির নিষ্ক্রিয়তার তীব্র সমালোচনা করেছে রিয়াল।
- 🛑 **পদত্যাগের আল্টিমেটাম:** লা লিগার সভাপতি এবং স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতির পদ থেকে তেবাসের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি।
নাৎসি তুলনার কড়া জবাব
হাভিয়ের তেবাসের টুইটের পর ক্ষোভে ফেটে পড়ে রিয়াল মাদ্রিদ। ক্লাবের বিবৃতিতে বলা হয়, “রিয়াল মাদ্রিদ মনে করে, স্প্যানিশ ফুটবলের সর্বোচ্চ দুটি পদে থাকা কোনো ব্যক্তির পক্ষে আমাদের ক্লাব, নেতৃত্ব এবং টেলিভিশন চ্যানেলকে হেয় করার জন্য নাৎসি শাসনব্যবস্থার প্রোপাগান্ডা পদ্ধতির সাথে তুলনা করা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য এবং অত্যন্ত গুরুতর একটি অপরাধ।” তেবাস পরে স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছিলেন যে তিনি নাৎসি আদর্শের কথা বোঝাননি। তবে রিয়াল মাদ্রিদের মতে, এই ধরনের সাফাই তার মন্তব্যের ‘গভীর আপত্তিকর, নৈতিকভাবে ঘৃণ্য এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বেমানান’ প্রকৃতিকে কোনোভাবেই লঘু করে না।
নেগ্রেইরা কেস নিয়ে তেবাসের নীরবতায় ক্ষোভ
শুধু নাৎসি মন্তব্যই নয়, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার ‘নেগ্রেইরা কেস’ নিয়ে তেবাসের নিষ্ক্রিয়তাও রিয়াল মাদ্রিদের ক্ষোভের অন্যতম কারণ। রেফারিদের টেকনিক্যাল কমিটির তৎকালীন সহ-সভাপতিকে বার্সেলোনার বছরের পর বছর ধরে অর্থ প্রদানের বিষয়টি স্প্যানিশ ফুটবলে বড় দাগ ফেলেছে। রিয়াল মাদ্রিদ তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, হাভিয়ের তেবাসের মতো সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা সত্ত্বেও তিনি এই গুরুতর ঘটনার বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেননি। এ কারণেই রিয়াল মাদ্রিদ বাধ্য হয়ে সরাসরি উয়েফার (UEFA) কাছে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি
বিবৃতির শেষ অংশে রিয়াল মাদ্রিদ তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়। ক্লাবটি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করে, “এই সার্বিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে, রিয়াল মাদ্রিদ অবিলম্বে লা লিগার সভাপতি এবং রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতির পদ থেকে হাভিয়ের তেবাসের পদত্যাগ দাবি করছে।” এই ঘটনার পর স্প্যানিশ ফুটবলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং লা লিগা কর্তৃপক্ষের সাথে রিয়াল মাদ্রিদের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব যে এক নতুন এবং চরম মাত্রায় পৌঁছাল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
এক নজরে রিয়াল মাদ্রিদ ও হাভিয়ের তেবাস বিতর্ক
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু | রিয়াল মাদ্রিদ টিভিকে নাৎসি প্রোপাগান্ডার (গোয়েবলস) সাথে তুলনা |
| অভিযুক্ত ব্যক্তি | হাভিয়ের তেবাস (সভাপতি, লা লিগা) |
| রিয়াল মাদ্রিদের প্রধান দাবি | লা লিগার সভাপতির পদ থেকে তেবাসের অবিলম্বে পদত্যাগ |
| অন্যান্য অভিযোগ | বার্সেলোনার ‘নেগ্রেইরা কেস’ নিয়ে তেবাসের নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা |
| রিয়াল মাদ্রিদের পদক্ষেপ | প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সরাসরি উয়েফার (UEFA) কাছে তদন্তের দাবি |
| বিবৃতির ধরন | ক্লাবের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ও গণমাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কড়া প্রতিবাদলিপি |
