Touch Bangladesh
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২২ অক্টোবর ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলা মুহুর্ত
  6. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  7. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  8. নতুন কর্মের খোঁজে
  9. নিত্যদিনের জীবন
  10. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  11. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  12. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  13. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  14. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  15. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
আলোচিত সপ্তাহের খবর

৬৮ ডলার থেকে ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার!

প্রতিবেদক
Louis Daru
অক্টোবর ২২, ২০২৬ ৫:৫৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Loading

মাত্র ৬৮ ডলার থেকে ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার আয়ের দাবি, আলোচনায় AI ট্রেডিং বট

প্রযুক্তি ডেস্ক | ২২ অক্টোবর ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে মাত্র দুই দিনে একটি স্বয়ংক্রিয় ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিং বট তৈরি করে আলোচনায় এসেছেন জাপানের ১৯ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী—এমনই দাবি ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। দাবি অনুযায়ী, মাত্র ৬৮ ডলার মূলধন দিয়ে শুরু করা বটটি প্রথম রাতেই ৬ হাজার ৭৩২ ডলার লাভ করে। পরবর্তী সময়ে এর মোট লাভের পরিমাণ ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারে পৌঁছেছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।

তবে এই বিপুল আয়ের দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য লেনদেনের তথ্য বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাটিকে এখনই নিশ্চিত সাফল্যের গল্প হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

Claude Code দিয়ে তৈরি ট্রেডিং বট, কীভাবে কাজ করে?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্ট অনুযায়ী, শিক্ষার্থীটি অ্যানথ্রপিকের AI-ভিত্তিক কোডিং টুল Claude Code ব্যবহার করে মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় বটটি তৈরি করেন।

দাবি করা হচ্ছে, বটটি একই সময়ে ৫০টিরও বেশি ক্রিপ্টোকারেন্সি মার্কেট পর্যবেক্ষণ করতে পারে। এটি Binance থেকে লাইভ বাজারদরের তথ্য সংগ্রহ করে বিভিন্ন মার্কেটে দামের পার্থক্য শনাক্ত করার চেষ্টা করে। সম্ভাব্য লাভজনক সুযোগ পাওয়া গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রেডও সম্পন্ন করতে পারে।

এই পদ্ধতিকে সাধারণভাবে ‘আরবিট্রাজ ট্রেডিং’ বলা হয়। এতে বিভিন্ন বাজারে একই সম্পদের দামের পার্থক্য কাজে লাগিয়ে লাভ করার চেষ্টা করা হয়।

তবে এমন সুযোগ খুব অল্প সময়ের জন্য স্থায়ী হতে পারে। লেনদেনের ফি, দামের পরিবর্তন, অর্ডার সম্পন্ন হতে দেরি এবং বাজারের তারল্য—সবকিছুই প্রকৃত লাভের ওপর প্রভাব ফেলে।

প্রথম রাতেই ৬ হাজার ৭৩২ ডলার লাভের দাবি

ভাইরাল পোস্টটির সবচেয়ে আলোচিত অংশ হলো প্রথম রাতের আয়ের দাবি। পোস্ট অনুযায়ী, মাত্র ৬৮ ডলার দিয়ে শুরু করে বটটি প্রথম রাতেই ৬ হাজার ৭৩২ ডলার লাভ করে। পরবর্তী সময়ে মোট লাভ ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারে পৌঁছানোর কথাও বলা হয়েছে।

তবে এই হিসাবের পক্ষে যাচাইযোগ্য ট্রেডিং স্টেটমেন্ট, সম্পূর্ণ লেনদেনের ইতিহাস কিংবা স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের নিরীক্ষার তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া দাবিকৃত অর্থটি বাস্তবে সম্পন্ন হওয়া লেনদেনের নিট লাভ, নাকি হিসাবভিত্তিক বা অবাস্তবায়িত মুনাফা—সেটিও স্পষ্ট নয়।

তাই এই আয়ের পরিমাণকে প্রমাণিত আর্থিক সাফল্য হিসেবে প্রচার করা ঠিক হবে না।

AI দিয়ে কোড লেখা সম্ভব, কিন্তু লাভ নিশ্চিত নয়

Claude Code-এর মতো AI কোডিং টুল সফটওয়্যার তৈরি, কোড সম্পাদনা, ত্রুটি শনাক্তকরণ এবং বিভিন্ন কাজ স্বয়ংক্রিয় করতে ডেভেলপারদের সহায়তা করতে পারে। ফলে আগে যে ধরনের সফটওয়্যার তৈরি করতে দীর্ঘ সময় লাগত, তার প্রাথমিক সংস্করণ এখন তুলনামূলক কম সময়ে তৈরি করা সম্ভব।

কিন্তু একটি ট্রেডিং বট তৈরি করতে পারা এবং সেটি দিয়ে ধারাবাহিকভাবে লাভ করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।

বাস্তব বাজারে প্রতিযোগিতা, লেনদেনের খরচ, সার্ভারের গতি, API-সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা, নিরাপত্তা এবং বাজারের আকস্মিক পরিবর্তন—সবকিছুই একটি বটের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে। দ্রুত কোড তৈরি হওয়া মানেই সেই কোড নির্ভরযোগ্য বা লাভজনক হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

AI অটোমেশনের সম্ভাবনা, নাকি ভাইরাল প্রচারণা?

ঘটনাটি ঘিরে আলোচনা থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট: AI-ভিত্তিক কোডিং টুল ব্যবহার করে জটিল সফটওয়্যারের প্রাথমিক সংস্করণ তৈরি করা আগের তুলনায় সহজ হচ্ছে।

তবে এই নির্দিষ্ট ট্রেডিং বটের সাফল্যের দাবিকে যাচাই করতে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন। বিশেষ করে প্রকৃত লেনদেনের রেকর্ড, লাভ-ক্ষতির পূর্ণ হিসাব এবং স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ ছাড়া ৬৮ ডলার থেকে ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার আয়ের দাবিকে নিশ্চিত সত্য বলা যায় না।

প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহী হওয়া যেমন জরুরি, তেমনি অবিশ্বাস্য আর্থিক সাফল্যের দাবি দেখলে তার প্রমাণ যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ।

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।