Touch Bangladesh
ঢাকাবুধবার , ২১ অক্টোবর ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলা মুহুর্ত
  6. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  7. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  8. নতুন কর্মের খোঁজে
  9. নিত্যদিনের জীবন
  10. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  11. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  12. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  13. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  14. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  15. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
আলোচিত সপ্তাহের খবর

‘জিনের বাদশা’ সেজে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ২

প্রতিবেদক
Methon Mankhin
অক্টোবর ২১, ২০২৬ ২:৫৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

Loading

কখনো ‘জিনের বাদশা’, কখনো তান্ত্রিক-কবিরাজ, আবার কখনো পরিচিত ব্যক্তির মোবাইল নম্বর ক্লোন করে কম দামে চাল বিক্রির প্রলোভন। প্রতারণার কৌশল বদলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ তদন্তের পর চক্রটির দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ফরিদপুর।

বুধবার ফরিদপুর পিবিআইয়ের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

পরিচিত ব্যক্তির নম্বর ক্লোন করে চাল বিক্রির প্রস্তাব

পিবিআই ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম জানান, রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর এলাকার চাল ব্যবসায়ী রশিদুল ইসলাম এই চক্রের প্রতারণার শিকার হন।

২০২৪ সালের ২৫ মার্চ তাঁর পরিচিত বিজয় বাবুর মোবাইল নম্বর ক্লোন করে ফোন দেওয়া হয়। ফোনে ৩৩ টন চাল কম দামে বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। পরে জরুরি প্রয়োজনে টাকা লাগবে বলে জানিয়ে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে কয়েক দফায় মোট ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়।

নির্ধারিত সময়ে চাল না পেয়ে সন্দেহ হয় রশিদুল ইসলামের। পরে প্রকৃত বিজয় বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি বুঝতে পারেন, পরিচিত ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।

আট মাসেও রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি

এ ঘটনায় প্রথমে স্থানীয় থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী। তবে আট মাসেও প্রতারণার রহস্য উদ্ঘাটন না হওয়ায় আদালতে নারাজি আবেদন করেন তিনি। পরে আদালত মামলাটির তদন্তভার পিবিআই ফরিদপুরকে দেন।

পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলামের দিকনির্দেশনায় উপপরিদর্শক মাজিদুল হক খান মামলাটির তদন্ত করেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ করে প্রায় এক বছর পর প্রতারণার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়।

এরপর ভোলা জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

‘জিনের বাদশা’ ও তান্ত্রিক সেজেও প্রতারণা

পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতারণার জন্য চক্রটি ভুয়া পরিচয়ে সিম নিবন্ধন করত। প্রতারণার কাজে ব্যবহারের পর সেসব সিম ফেলে দেওয়া হতো, যাতে তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়।

চক্রটির সদস্যরা গভীর রাতে নারীকণ্ঠে ফোন করে নিজেদের ‘জিনের বাদশা’ পরিচয় দিতেন। ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি তান্ত্রিক-কবিরাজ সেজে গোপন রোগ নিরাময়ের প্রলোভন দেখিয়েও মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, চক্রটিতে প্রায় পাঁচজন সদস্য ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কেউ ফোন করে ভুক্তভোগীদের ফাঁদে ফেলতেন, কেউ টাকা লেনদেনের জন্য মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) নম্বর সরবরাহ করতেন। অন্য সদস্যরা বিভিন্ন এলাকা থেকে টাকা সংগ্রহ করতেন।

সন্দেহজনক ফোনকল থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান

পিবিআই ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে প্রতারণার বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করেছেন।

এ ধরনের প্রতারণা থেকে রক্ষা পেতে কম দামে পণ্য বিক্রির অস্বাভাবিক প্রস্তাব, পরিচিত ব্যক্তির নম্বর থেকে আসা সন্দেহজনক ফোনকল এবং দ্রুত টাকা পাঠানোর অনুরোধের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

কেউ প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর জন্যও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।