![]()
রশিদ-রহমতের দাপটে বাংলাদেশের বিদায়, ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে আফগানিস্তান
স্পোর্টস ডেস্ক | ২২ অক্টোবর ২০২৬
আফগানিস্তানের বোলার রশিদ খানের ঘূর্ণি ও অধিনায়ক রহমত শাহর অপরাজিত ব্যাটিংয়ের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে বাংলাদেশ। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাংলাদেশকে ৭ উইকেটে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আফগানিস্তান। আগামী শুক্রবার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে দলটি।
বুধবার (২১ অক্টোবর) শারজাহতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ ৪৩.৩ ওভারে মাত্র ১৬০ রানে অলআউট হয়। জবাবে ৩৫.৩ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৬১ রান তুলে সহজ জয় নিশ্চিত করে আফগানিস্তান।
ব্যাটিং বিপর্যয়ে ১৬০ রানেই শেষ বাংলাদেশ
টসের পর ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই চরম বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। আফগান পেসার ইয়ামিন আহমদজাই ও আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ২৮ রানেই ৪ উইকেট হারায় টাইগাররা।
তানজিদ হাসান মাত্র ১ রান করে ফেরেন। পরের বলেই সৌম্য সরকার বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহিদ হৃদয়ও উইকেট হারালে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
এ অবস্থায় দলের হাল ধরেন সাইফ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমন। পঞ্চম উইকেটে দুজনের ৯৩ রানের জুটি বাংলাদেশের ইনিংসে কিছুটা স্বস্তি ফেরায়।
ইমন ৯৬ বলে ৭০ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও দুটি ছক্কা। অন্যদিকে সাইফ হাসান ৪১ রান করে মোহাম্মদ নবীর বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। তাঁর বিদায়ের পর আবারও ব্যাটিংয়ে ধস নামে বাংলাদেশের।
রশিদ খানের ঘূর্ণিতে ধসে পড়ে বাংলাদেশের লেজ
বাংলাদেশের ইনিংসের শেষ দিকে রশিদ খান হয়ে ওঠেন সবচেয়ে বড় আতঙ্ক। তাঁর দুর্দান্ত বোলিংয়ে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ।
রশিদ ৩১ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন। ইয়ামিন আহমদজাই ও আজমতউল্লাহ ওমরজাই দুটি করে উইকেট শিকার করেন। এ ছাড়া মোহাম্মদ নবী ও বিলাল সামি একটি করে উইকেট পান।
শেষ পর্যন্ত ১৬০ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সংগ্রহ দাঁড় করাতে না পারার খেসারত দিতে হয় দলটিকে।
তাসকিনের জোড়া আঘাতেও রক্ষা হয়নি বাংলাদেশ
১৬১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে কিছুটা চাপে পড়ে আফগানিস্তান। তাসকিন আহমেদ রহমানউল্লাহ গুরবাজকে বোল্ড করে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন।
এরপর বাঁহাতি ব্যাটার সেদিকউল্লাহ আতালকেও দুর্দান্ত ইনসুইঙ্গারে বোল্ড করেন তাসকিন। ফলে ম্যাচে ফেরার আশায় বুক বাঁধে বাংলাদেশ।
তবে এরপর আর আফগানিস্তানের ব্যাটারদের আটকে রাখা সম্ভব হয়নি। অধিনায়ক রহমত শাহ ও ইব্রাহিম জাদরান দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নেন। তৃতীয় উইকেটে দুজন যোগ করেন ৫৬ রান।
জাদরান ৩৪ রান করে মুস্তাফিজুর রহমানের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আফগানিস্তানের হাতেই থাকে।
রহমত শাহর অপরাজিত ৬৭, ফাইনালে আফগানিস্তান
শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক রহমত শাহ ও হাসমতউল্লাহ শহিদি অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।
রহমত শাহ ৯০ বলে অপরাজিত ৬৭ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার। অন্যদিকে শহিদি ৫৪ বলে অপরাজিত ৩৬ রান করেন। চতুর্থ উইকেটে দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৬৬ রানের জুটি আফগানিস্তানের জয় নিশ্চিত করে।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে টানা পঞ্চম ওয়ানডে জয় তুলে নিল আফগানিস্তান। একই সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে জায়গা করে নিয়ে বাংলাদেশের বিদায় নিশ্চিত করল দলটি।
অন্যদিকে বাংলাদেশের জন্য এই হার বড় ধাক্কা। ব্যাটিংয়ে শুরুতেই বিপর্যয় সামাল দিতে না পারা এবং রশিদ খানের স্পিন মোকাবিলায় ব্যর্থতাই ম্যাচে পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ১৬০ রান, ৪৩.৩ ওভার
পারভেজ হোসেন ইমন ৭০, সাইফ হাসান ৪১; রশিদ খান ৪/৩১।
আফগানিস্তান: ১৬১/৩, ৩৫.৩ ওভার
রহমত শাহ ৬৭*, হাসমতউল্লাহ শহিদি ৩৬*; তাসকিন আহমেদ ২/৩৬।
ফলাফল: আফগানিস্তান ৭ উইকেটে জয়ী।
পরবর্তী ম্যাচ: ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে আফগানিস্তান বনাম জিম্বাবুয়ে, শুক্রবার।
